বিজ্ঞাপন

সিফাতের মুক্তি দাবিতে মানববন্ধন পণ্ড হলো পুলিশের লাঠিচার্জে

August 8, 2020 | 5:10 pm

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

বরগুনা: কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ নিহতের দিন গ্রেফতার হওয়া শাহেদুল ইসলাম সিফাতের মুক্তির দাবির মানববন্ধনে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এতে অন্তত ১০ আহত হয়েছেন। এছাড়াও কারাবন্দি সিফাতের নানা বামনা সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আইউব আলী হাওলাদাকে গালমন্দ করার পাশাপাশি হুমকিও দিয়েছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

এদিকে লাঠিচার্জ করে মানববন্ধন ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার পর মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের দুস্কৃতিকারী বলে আখ্যা দিয়েছেন বামনা থানার ওসি মো. ইলিয়াস হোসেন।

প্রত্ক্ষযদর্শীরা জানান, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুর ১২টায় সিফাতের নিজ গ্রাম বরগুনার বামনায় মানববন্ধন কর্মসূচি শুরু করে সিফাতের সহপাঠীরা। বামনার কলেজ রোড সড়কে শান্তিপূর্ণভাবে চলা মানববন্ধনে হঠাৎ পুলিশের একটি টিম এসে ব্যানার ফেস্টুন ছিনিয়ে নেয়। এরপরও শান্তিপূর্ণভাবে চলছিল মানববন্ধন কর্মসূচি। এরপরই বামনা থানার ওসি মো. ইলিয়াস হোসেন মানববন্ধনস্থলে এসেই অংশগ্রহণকারীদের গালমন্দ শুরু করে লাঠিচার্জের নির্দেশ দেন। এরপর পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। এতে মুহূর্তেই শান্তিপূর্ণভাবে চলা মানববন্ধন পণ্ড হয়ে যায়। লাঠিচার্জ করেন ওসি নিজেও।

সিফাতের মুক্তি দাবিতে মানববন্ধন পণ্ড হলো পুলিশের লাঠিচার্জে

বিজ্ঞাপন

পুলিশের লাঠিচার্জে আহত মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করা রুবেল বলেন, ‘সিফাত অত্যন্ত ভালো ছেলে। আর যাই হোক- সিফাতের বিরুদ্ধে মাদকের অভিযোগ কোনোভাবেই যায় না। এ ছাড়াও মিথ্যে মামলায় নির্দোষ সিফাত জেলে থাকায় ওর মুক্তির জন্য মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেছিলাম। এসময় পুলিশ প্রথমে আমাদের মানববন্ধনের ব্যানার ফেস্টুন ছিনিয়ে নেয়। এরপরও আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছিলাম। পরে বামনা থানার ওসি এসে আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিফাতের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করায় পুলিশ আমাদের দুষ্কৃতিকারী বলে আখ্যা দিয়েছেন। এছাড়াও নাতির মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনে আসায় সাংবাদিকদের সামনে সিফাতের নানা মো. আইউব আলী হাওলাদারকে গালমন্দ করার পাশাপাশি হুমকি প্রদান করে পুলিশ।’

এ বিষয়ে সিফাতের নানা মো. আইউব আলী হওলাদার বলেন, ‘পুলিশ আজ যা করেছে তা মোটেও ঠিক হয়নি।’

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘অনুমতি না নিয়ে একদল দুঃষ্কৃতিকারী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করছেন বলে আমি জানতে পারেছি। এতে সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুণ্ন হবে বলে মানববন্ধন বন্ধ করে দিয়েছি।’

সিফাতের মুক্তি দাবিতে মানববন্ধন পণ্ড হলো পুলিশের লাঠিচার্জে

মানববন্ধন চলাকালীন সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সিফাতের নানা বামনা সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আইউব আলী হাওলাদার, সিফাতের একমাত্র বোন অনন্যাসহ সিফাতের অন্যান্য স্বজন, সহপাঠী ও এলাকাবাসী।

বিজ্ঞাপন

সিফাতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে সিফাত বড়। সিফাতের একমাত্র বোন অনন্যা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। ১০ বছর আগে বাবা মায়ের বিবাহ বিচ্ছেদের পর সিফাতের মা শিরীন আক্তার শিলা ৯ বছর ধরে লন্ডন প্রবাসী। আরা বাবা মো. মোস্তফা থাকেন ঢাকায়।

সিফাতের শৈশব ও কৈশর কেটেছে বরগুনার বামনা উপজেলার পশ্চিম সফিপুর গ্রামের নানু বাড়িতে। বামনার সরকারি সারওয়ার জান মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০১৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর বামনার সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০১৬ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ হয়ে ভর্তি হন স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে।

ঢাকায় ভর্তি হওয়ার পর খালার বাসায় থেকে লেখাপড়া করতেন সিফাত। বছরে দু'চারবার বামনা এলেও পড়ে থাকতেন ক্যামেরা আর ট্রাইপড নিয়ে। ছবি তোলার নেশায় ঘুরে বেড়াতেন এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায়। শৈশবে বাবা মায়ের স্নেহ ভালবাসা বঞ্চিত হলেও কখনো সিফাত বিপথগামী হননি বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন
মেজর সিনহার ঘটনায় শিপ্রা ও সিফাতের মুক্তি দাবি
প্রদীপ-লিয়াকতসহ পুলিশের ৭ সদস্য বরখাস্ত
মেজর সিনহার মৃত্যু: কে বাদী, কে আসামি— উঠে আসবে তদন্তে
৩ মাসের মধ্যে সিনহা হত্যার বিচার ও দোষীদের ফাঁসি চায় রাওয়া

 

সারাবাংলা/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন