বিজ্ঞাপন

ফেসবুক এজেন্ট এইচটিটিপুলের নিবন্ধন: কিছুই ‘জানে না’ এনবিআর

August 8, 2020 | 9:55 pm

শেখ জাহিদুজ্জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ফেসবুক ব্যবহারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে বৈশ্বিক এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কর্তৃপক্ষকে বাংলাদেশে অফিস স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলেছিল সরকার। বারবার তাগাদা পাওয়ার পর ফেসবুক কর্তৃপক্ষ অনেকটা চুপিসারেই ‘এইচটিটিপুল’ নামের বিদেশি একটি বিজ্ঞাপনি সংস্থাকে বাংলাদেশে এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। সংস্থাটি দাবি করছে তারা যথাযথ নিয়মে এনবিআরসহ (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে নিবন্ধন নিয়েই বাংলাদেশে কাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, এনবিআর কর্তৃপক্ষ সারাবাংলাকে জানিয়েছে, এইচটিটিপুল নামের কোনো প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন দেওয়ার বিষয়ে তারা ‘কিছুই’ জানে না।

বাংলাদেশে ফেসবুকের নিয়োগ করার এজেন্ট এইচটিটিপুলের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ করার না শর্তে সারাবাংলাকে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি এনবিআর থেকে বিন (ব্যবসায় সনাক্তকরণ নাম্বার), টিন (ট্যাক্স আয়কর সনাক্তকরণ নাম্বার) নিয়েছে এবং তাদের অফিস ও জনবল রয়েছে। বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রমও চলছে। ঢাকার গুলশান-১ এর ১৪০ নম্বর রোডের ২২ নম্বর বাসার (ক্রিস্টাল প্যালেস) তৃতীয় তলায় এইচটিটিপুলের কার্যক্রম চলছে।’

বাংলাদেশে ফেসবুকের বিদেশি এজেন্ট নিয়োগ চুপিসারে!

বিজ্ঞাপন

এইচটিটিপুলের ওই কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ সরকারের সাথে কথা বলে, বিশেষ করে এনবিআর এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে কথা বলেই ফেসবুক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারপরই এইচটিটিপুল বাংলাদেশি বিন নাম্বার, টিন নাম্বার নিয়েছে।

তিনি আরও জানান, যেটা বলা হচ্ছে টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে, এটা বন্ধ করার জন্যই এইচটিটিপুলকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সরকারের সাথে কথা বলেই এইচটিটিপুলকে নিয়েছে ফেসবুক। ফেসবুকের এজেন্সিরা আগে বিভিন্ন পন্থায় যেমন আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড বা বিদেশের কোথাও টাকা পাঠিয়ে পরিশোধ করতো। এই প্রক্রিয়ায় অর্থ পাচারের সম্ভাবনা থাকে। মূলত অর্থপাচার এড্রেস করার জন্য ফেসবুক সরকারকে কথা দিয়েছিলো, যে এটা তারা ঠিক করবে। তাই এইচটিটিপুলকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

‘যেখানে বাংলাদেশি টাকায় এইচটিটিপুল ট্যাক্স সংগ্রহ করবে। যেহেতু বিন, পিন নাম্বার সবই নেওয়া হয়েছে তথা বাংলাদেশ সরকারকে টাকা পরিশোধ করে, ট্যাক্স ও এআইটি এবং হোল্ডিংস ট্যাক্স পরিশোধ করে, এরপর টাকা বিদেশে যাবে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশি টাকায় এজেন্সিগুলোর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হবে, কোনো ডলারে না’, বলেন এইচটিটিপুলের এই কর্মকর্তা।

বিজ্ঞাপন

ফেসবুকের নিয়োগ দেওয়া এইচটিটিপুল এনবিআর থেকে কোনো ভ্যাট রেজিস্ট্রশন নাম্বার নিয়েছে কিনা জানতে চাইলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য (মূসক বাস্তবায়ন ও আইটি) মো. জামাল হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, ‘ফেসবুক যেহেতু একটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দিয়েছে সেহেতু তারা ভ্যাট রেজিস্ট্রশন নিলেই ভ্যাট আদায় সহজ হয়ে যাবে। আমরা প্রথম শুনলাম এইচটিটিপুলকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা দেখব কাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগে তার আবেদন আসবে এনবিআরে, এরপর আমরা জেনে বুঝেই তাকে রেজিস্ট্রশন দেবো।’

এইচটিটিপুলের গুলশান-১ এর ১৪০ নম্বর রোডের ২২ নম্বর বাসার (ক্রিস্টাল প্যালেস) অফিসটি শনিবার (৮ আগস্ট) সরেজমিন পরিদর্শন করেন এই প্রতিবেদক। অফিস খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, তাদের অফিসের কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। একটি সূত্রে জানা গেছে, এইচটিটিপুল, ‘রেগাস বাংলাদেশ’ নামের অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অফিস শেয়ারের (ভাগাভাগি বা সাবলেট) জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। তবে অফিসের কোনো কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি।

রেগাস বাংলাদেশের এরিয়া সেলস ম্যানেজার মাশফিক সারাবাংলাকে বলেন, ‘এইচটিটিপুলের সঙ্গে ফেসবুকের কোনো চুক্তির বিষয়টি তার জানা নেই।’

বিজ্ঞাপন

‘বাংলাদেশে অফিস খোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েও রাখেনি ফেসবুক’

এইচটিটিপুলের কান্ট্রি ডিরেক্টর কাজী মনিরুল কবীরের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনিও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জানা গেছে, রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে ২০১৮ সালের ৯ এপ্রিল গুগল, আমাজান, ফেসবুক ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে আদালতে রিট দায়ের করেন হাইকোর্টের ছয়জন আইনজীবী। একই বছরের ১২ এপ্রিল হাইকোর্ট গুগল, আমাজান, ফেসবুক ও ভিডিও শেয়ারিং ওয়েবসাইট ইউটিউবের বিজ্ঞাপন থেকে ভ্যাট-ট্যাক্স আদায়ের জন্য নির্দেশ দেয়। এরপর থেকেই কাজ শুরু করে এনবিআর।

বিজ্ঞাপন

২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেটে চালু হওয়া নতুন ভ্যাট আইন অনুযায়ী, ইলেকট্রনিক সেবার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়। ২০১৯ সালের ২৬ জুন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফেসবুক, গুগল, মেসেঞ্জার, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপের মতো অনাবাসী প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ইলেকট্রনিক সেবাকে ভ্যাটের আওতায় আনার নির্দেশনা জারি করে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ফেসবুক, টুইটারসহ জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউব ও অনুসন্ধান ইঞ্জিন গুগলকে মূসক এজেন্ট নিয়োগ দিতে হবে। নিবন্ধন এসব প্রতিষ্ঠানের নামে হলেও মূসক এজেন্টরা ওইসব প্রতিষ্ঠানের (ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, গুগল ইত্যাদি) হয়ে ব্যবসা পরিচালনা করবে।

সারাবাংলা/এসজে/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন