বিজ্ঞাপন

বিআরটিসি’র ২ চালকের চাকরি ফেরত, মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ২ জন

August 18, 2020 | 5:16 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বকেয়া বেতনের দাবি নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলায় চার চালককে বরখাস্ত করেছিলেন বিআরটিসি চেয়ারম্যান এহসান ই এলাহী। এদের মধ্যে দুজনকে আবার চাকরিতে ফিরিয়ে নিয়েছেন তিনি। তবে এখনও দুজন সাময়িক বরখাস্ত রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

কেবল বকেয়া বেতনের দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরতে চাওয়ার অপরাধ বিবেচনায় নিয়েই তাদেরকে বরখাস্ত করেছিলেন চেয়ারম্যান। এখনও বরখাস্ত থাকা দুই চালক চাকরি ফিরে পেতে আদালতের শরণাপন্ন হতে চান। এরই মধ্যে সেই প্রস্তুতি তারা শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

বিআরটিসির জোয়ারসাহারা বাস ডিপোর আট মাসের বেতন বকেয়া ছিল শত শত চালকের। প্রতিমাসের বেতনের সঙ্গে বকেয়া বেতনে দেওয়ার প্রতিশ্রতি ছিল বিআরটিসির। গত এপ্রিল মাসে সেই দাবি গণমাধ্যমে প্রকাশ করায় তাদের বরখাস্ত করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বিআরটিসি থেকে তাদের বরখাস্ত নোটিশে দেখা যায়- ‘বিনা অনুমতিতে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে মিথ্যা ভ্রান্ত বানোয়াট সাক্ষাৎকার’ প্রদানের কথা উল্লেখ করে বিআরটিসি চেয়ারম্যান তাদের বরখাস্ত করেন।

বরখাস্ত হওয়া চার চালক হলেন- মকবুল আহমদ, আল আমিন হাওয়ালাদার, মো. মিজানুর রহমান ও আবুল কালাম। এর মধ্যে প্রথম দুজনের বরখাস্ত নোটিশ এ সপ্তাহের শুরুতে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে বলে জোয়ারসাহারা ডিপো সূত্র সারাবাংলাকে নিশ্চিত করেছে।

বিজ্ঞাপন

গণমাধ্যমে কথা বললে চাকুরি থেকে বরখাস্ত করার এমন ঘটনা বিআরটিসির ইতিহাসে নজিরবিহীন। শুধু বরখাস্ত নয়, এর আগে গণমাধ্যমে কথা বলার একই অপরাধে দুবার তাদের শাস্তি দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান এহসান ই এলাহী। প্রথমবার তাদের ঢাকা থেকে বিভিন্ন জায়গায় বদলি করা হয়। পরে তাদের ওই একই অপরাধে দ্বিতীয়বার শাস্তি ‘বরখাস্ত’ করা হয়।

এমনকি নোটিশ দেওয়ার প্রক্রিয়াতেও ভুল দেখা যায়। বরখাস্ত করার নোটিশে চেয়ারম্যান সই করেন ১ জুলাই। ওইদিন থেকেই বরখাস্ত উল্লেখ করা হয় নোটিশে। কিন্তু ১০ জুলাই পর্যন্ত তারা কর্মস্থলে চাকুরি করছিলেন। ১১ জুলাই তাদের নোটিশ ধরিয়ে দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

বিআরটিসিরি জোয়ারসাহারা ডিপোর বেশ কয়েকজন চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চেয়ারম্যান একটি বিশেষ পক্ষের দ্বারা সুবিধা ভোগ করে প্রতিপক্ষ হিসেবে এই চার চালককে বদলি করেছেন। চারজনের মধ্যে দুজনের বিআরটিসি শ্রমিক সংগঠনের বিভিন্ন পদে প্রার্থীতার কথা ছিল। তাদের কোনো প্রতিপক্ষের কাছ থেকে চেয়ারম্যন অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করে থাকতে পারেন বলে মনে করেন বরখাস্ত হওয়া চালকের সহকর্মীরা।

এ বিষয়ে বিআরটিসি চেয়ারম্যানের মোবাইলফোনে বার বার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি।

বিজ্ঞাপন

চালক মিজানুর রহমান জানান, তারা অসহায় হয়ে পড়েছেন। চেয়ারম্যানের কী ক্ষতি তারা করেছেন, সেটা বুঝতে পারছেন না। তারা প্রতিহিংসার শিকার বলেও জানান তিনি।

সারাবাংলা/এসএ/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন