বিজ্ঞাপন

পদ্মাসেতুর কাজে স্বাভাবিক গতি ফিরতে লাগবে ৪ মাস

August 18, 2020 | 5:40 pm

সাব্বির আহমেদ, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: পদ্মাসেতু প্রকল্প শুরুর পর ভাঙন ও বন্যাজনিত সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে এবার। সেই ক্ষত কাটিয়ে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে স্বপ্নের সেতু প্রকল্প। নদী ভাঙনে হারিয়ে যাওয়া রোডওয়ে স্ল্যাব নির্মাণ ফের শুরু হয়েছে। লুক্সেমবার্গ থেকে আবার অর্ডার দেওয়া হয়েছে রেল স্ট্রিগার। তবে সবকিছু আগের অবস্থায় পৌঁছতে মাস চারেক সময় লাগবে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সেতু বিভাগ সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতায় পদ্মার পানি প্রবাহিত হয়েছিল এবার। আর স্রোতের গতিবেগেও ছিল মারাত্মক পর্যায়ে। এমন অবস্থায় পদ্মাসেতুর স্প্যান বসানো বন্ধ ছিল গেল তিনমাস। এর মধ্যে আবারও মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে হঠাৎ ভাঙনে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায় হয়ে যায় ১২৬টি রোডওয়ে স্ল্যাব এবং ১৯২টি রেল স্টিগার। তবে আশার কথা হলো, রোড স্ল্যাব নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে গেছে। এরই মধ্যে পাঁচটি স্ল্যাব নির্মাণও শেষ হয়েছে।

পদ্মাসেতু প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন এক প্রকৌশলী সারাবাংলাকে জানান, মাসে ২০০টির বেশি রোড স্ল্যাব নির্মাণের সক্ষমতা রয়েছে প্রকল্পের। ১২৬টি প্রিকস্ট রোড স্ল্যাব নির্মাণে মাত্র একমাস সময় প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে সেতু নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, ভাঙনে রেলওয়ের যে ১৯২টি স্টিল স্টিগার হারিয়ে গেছে সেগুলো উদ্ধারে তৎপরতা চালাবে ঠিকাদার। তবে সেগুলো উদ্ধার হোক বা না হোক এরইমধ্যে লুক্সেমবার্গে ১৯২টি স্টিগারের অর্ডার করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে এগুলো নির্মাণে তিনমাস এবং দেশে পৌঁছুতে আরও একমাস লাগবে। সব মিলিয়ে বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে চারমাস।

চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানির একজন প্রকৌশলী জানান, বন্যা শুরুর আগ মুহূর্তে বোঝা যায়নি এখানে ভাঙন হতে পারে। কয়েকদিন আগেও সার্ভে করে সেখানে ভাঙনের কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

এদিকে পদ্মাসেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, মূলসেতুর ৪১টি স্প্যানের মধ্যে ৩১টি স্থাপন করা হয়েছে। বাকি ১০টি স্প্যান মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে রয়েছে। এই ১০টি মধ্যে ৭টি খুঁটিতে বসানোর জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে। বাকি ৩টির কাজ চলমান রয়েছে। পানি কমতে শুরু করলে মধ্য সেপ্টেম্বর থেকে আবার স্প্যান বসানো শুরু হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে সবগুলো স্প্যান বসানোর সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সেতু প্রকল্পের কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, পদ্মাসেতু প্রকল্পের সড়ক নির্মাণে ২৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাব লাগবে। এর মধ্যে ৮৭০টি স্থাপন শেষে হয়েছে। আর ২৯৫৯ রেল স্ল্যাব লাগবে সেতুতে রেললাইনের জন্য। যার মধ্যে ১৪০০টি বসানো হয়েছে সেতুর অবকাঠামোতে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এসএ/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন