বিজ্ঞাপন

লোকালয়ে বইছে জোয়ার-ভাটা, আশাশুনি-শ্যামনগরে ভেঙে গেছে বেড়িবাঁধ

August 21, 2020 | 6:52 pm

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

সাতক্ষীরা: জেলার উপকূলীয় উপজেলা আশাশুনি ও শ্যামনগরের কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদীর বিভিন্ন স্থানের জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে হাজার হাজার বিঘা মৎস্য ঘের ও ফসলি জমি। পানিবন্দি হয়ে পড়ছেন আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ও শ্রীউলা ইউনিয়নের মানুষ। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের দীর্ঘ তিন মাস পার হয়ে গেলেও এই দুই ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ২/৩ ফুট পানি বেড়ে যাওয়ায় প্রতাপনগর ইউনিয়নের চাকলা, কুড়িকাউনিয়া ও হরিশখালী এবং শ্রীউলা ইউনিয়নের হাজরাখালী ও কোলা দিয়ে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জোয়ার-ভাটা বইছে লোকালয়ে ও বাড়ির উঠানে। ভেঙে পড়েছে স্যানিটেশন ব্যবস্থা। এতে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে বিশাল জনগোষ্ঠী। দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির অভাবও।

এদিকে শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে হাজার হাজার এলাকাবাসী গতকাল রাত থেকে আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকাল পর্যন্ত স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ লেবুবুনিয়া গ্রামের যে ৬টি স্থানের রিং বাঁধ ভেঙে গিয়েছিল তা কোনো রকমে মেরামত করেছেন। তবে পরবর্তী জোয়ারে কি হবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়রা জানান, গতকাল দুপুরের প্রবল জোয়ারে আশাশুনি ও শ্যামনগরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এখনই যদি বেড়িবাঁধ সংস্কার করা না হয় তাহলে পরবর্তী জোয়ারে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হবে।

শ্রীউলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হেনা শাকিল জানান, তার গোটা ইউনিয়ন এখন পানিতে নিমজ্জিত। সাধারণ মানুষ বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

বিজ্ঞাপন

লোকালয়ে বইছে জোয়ার-ভাটা, আশাশুনি-শ্যামনগরে ভেঙে গেছে বেড়িবাঁধ

গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম জানান, তার ইউনিয়নে লেবুবুনিয়া, গানুরা ও খলসিখালী তিনটি গ্রাম এখনও প্লাবিত। তবে হাজার হাজার এলাকাবাসীকে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে কোনরকমে রিং বাঁধ দিয়ে পানি বন্ধ করা হয়েছে। তবে পরবর্তী জোয়ারে কি হবে তা বলা যাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

আশাশুনি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অসীম বরণ চক্রবর্তী জানান, বর্তমানে উপজেলার প্রতাপনগর ও শ্রীউলা ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি। ভেসে গেছে হাজার বিঘা মৎস্য ঘের ও ফসলি জমি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশ কুমার সরকার জানান, কয়েকটি স্থানে রিং বাঁধ দিয়ে পানি বন্ধ করা হয়েছে। তবে প্রতাপনগর ইউনিয়নের চাকলা ও কুড়িকাউনিয়া এবং শ্রীউলা ইউনয়নের হাজরাখালী পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে এতো গভীর হয়েছে যে সেখানে এখন সংস্কার করা অসম্ভব।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন