বিজ্ঞাপন

২ সিটি করপোরেশনের পরিকল্পনাহীনতায় বাধাগ্রস্ত ইন্টারনেট সেবা

August 23, 2020 | 11:15 pm

সাদ্দাম হোসাইন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রাজধানীতে বিশৃঙ্খলভাবে যত্রতত্র ঝুলন্ত তারের (ওভারহেড ক্যাবল) জঞ্জাল পরিষ্কার করতে গিয়ে নাগরিকদের নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ সেবায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। রাজধানীতে প্রায় ১২শ ব্যবসায়ীকে ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার ব্যবসা করার অনুমতি দিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। ইন্টারনেট ব্যবসায়ীরা কোন পদ্ধতিতে নাগরিকদের এই সেবা দেবে— সে বিষয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো পরিকল্পনা নেই। অথচ এসব ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাওয়া হচ্ছে রাজস্ব। ক্যাবল অপসারণের উদ্যোগও রয়েছে চলমান। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রাজধানীবাসী।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজধানীকে দূষণ ও সৌন্দর্যাহানি থেকে রক্ষায় ঝুলন্ত তার বা ওভারহেড ক্যাবল অপসারণের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। তার সরিয়ে নিতে ডিএনসিসি ব্যবসায়ীদের সময় বেঁধে দিয়েছে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত। তবে ডিএসসিসি এরই মধ্যে গত ৫ আগস্ট থেকে এই তার অপসারণ কার্যক্রম শুরু করেছে। আর বিপত্তিটা বেঁধেছে সেখানেই। অপসারণ কার্যক্রমের পাঁচ দিনে প্রায় দেড় লাখ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। এতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা যেমন অসুবিধায় পড়েছেন দৈনন্দিন কাজকর্মে, তেমনি সংযোগ নিশ্চিত করতে বিকল্প কোনো উপায় না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন ইন্টারনেট ব্যবসায়ীরাও।

আরও জানা গেছে, ঝুলন্ত তার বা ওভারহেড ক্যাবল অপসারণের বিষয়ে ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি দুইভাবে তাদের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। রাজধানীর সিটি করপোরেশন এলাকার সৌন্দর্যবৃদ্ধি বা নাগরিক সেবার বিষয়টি এই দুইটি প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনার ওপর শতভাগ নির্ভরশীল হলেও ইন্টারনেট ব্যবসায়ীরা কিভাবে গ্রাহকদের সেবা দেবেন, সে বিষয়ে দুই সিটি করপোরেশনের কারওই কোনো পরিকল্পনা নেই। এ পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের সংগঠন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) নেতারা বিষয়টির একটি যৌক্তিক সমাধান খুঁজতে ঢাকার দুই নগরপিতার শরণাপন্ন হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে ছয়টি এনটিটিএন (ন্যাশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক) কোম্পানি থাকলেও এর মধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ে, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) কোনো কার্যক্রম নেই। তিন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বাহন লিমিটেড, ফাইবার অ্যাট হোম ও সামিট কমিউনিকেশন এই খাতে কাজ করে যাচ্ছে। তিনটি কোম্পানিই রাজধানীসহ সারাদেশে ভূগর্ভে ব্যান্ডউইথ পরিবহনের কাজ করছে। তাদের মাধ্যমে ক্যাবল সংযোগ নিতে ২০১৪ সালে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (বিটিআরসি) নির্দেশনা দিলেও অধিকাংশ ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) সেটি মানেনি।

যা বলছে ডিএসসিসি

বিজ্ঞাপন

চলমান বিষয়টির যৌক্তিক সমাধান খুঁজতে গত ১৬ আগস্ট আইএসপিএবি’র নেতারা ডিএসসিসি মেয়রের সঙ্গে বৈঠক করতে চাইলেও মেয়র দেশে না থাকায় সংস্থাটির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার সঙ্গে তারা বৈঠক করেছেন। বৈঠকে রাজস্ব কর্মকর্তা আইএসপিএবি নেতাদের প্রাথমিক একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ডিএসসিসি এলাকায় যদি ইন্টারনেটের ক্যাবল দিয়ে ব্যবসা করতে হয়, তবে প্রত্যেক ব্যবসায়ীকে রাজস্ব হিসাবে ২৫ লাখ টাকা করে বাৎসরিক কর দিতে হবে।

ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল হক সারাবাংলাকে বলেন, প্রাথমিকভাবে তাদের ডিএসসিসি এলাকায় ক্যাবল টেনে ব্যবসায় করতে হলে রাজস্ব দেওয়ার বিষয়ে একটা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে মেয়র চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

বিজ্ঞাপন

রাজস্ব দিলে ব্যবসায়ীরা কী ধরনের সুবিধা পাবেন— জানতে চাইলে আরিফুল হক বলেন, তাদেরকে মাটির নিচ দিয়ে সংযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। সেই সঙ্গে প্রত্যেক কোম্পানিকে মনিটরিংয়ের মাধ্যমে শৃঙ্খলায় আনা হবে। এছাড়াও আনুষাঙ্গিক যেসব সুবিধা দিলে ব্যবসায়ীরা যেমন ব্যবসা করতে পারবে, তেমনি নগরবাসীর যেন কোনো অসুবিধা না হয় সেটির আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যা বলছে ডিএনসিসি

বিজ্ঞাপন

একই বিষয়ে গত ১৭ আগস্ট আইএসপিএবি নেতারা ঢাকা উত্তরের মেয়রের সঙ্গেও বৈঠক করেন। বৈঠকে মেয়র ব্যবসায়ীদের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে ব্যবসায়ীদেরকে ওভারহেড ক্যাবল অপসারণ করে ন্যাশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন) বা ভূগর্ভস্থ ক্যাবল সেবা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। তা না হলে অক্টোবরের ১ তারিখ থেকে ক্যাবল অপসারণ কার্যক্রম শুরু করবে ডিএনসিসি। তবে কোনো রাজস্ব চায়নি ডিএনসিসি মেয়র।

জানতে চাইলে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সিদ্ধান্ত নিয়েছি— ঝুলন্ত ও জঞ্জালযুক্ত তারগুলো অপসারণ করা হবে। এজন্য আমরা এসব ক্যাবল মালিক বা ব্যবসায়ীদেরকে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর— এ দুই মাস সময় দিয়েছি। তাদের বলেছি, এর মধ্যেই যেন তারা এসব ক্যাবল অপসারণ করে নেন। তা না হলে অক্টোবরের ১ তারিখ থেকে আমরা উচ্ছেদ কার্যক্রম চালাব।

এজন্য তাদের কাছ থেকে কোনো রাজস্ব নেয়া হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, না, আমরা আপাতত কোনো রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে ভাবছি না। কারণ রাজস্ব আদায় করতে হলে আগে তো তাদের উপযুক্ত ব্যবস্থা দিতে হবে। সেটা তো আমরা দিতে পারছি না। এজন্য তিনটি এনটিটিএন কোম্পানি রয়েছে। আমি গত ১৭ আগস্ট সেসব কোম্পানিদের ডেকে ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের নেতাদের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিয়েছি। বলেছি, তাদের মাধ্যমে সমন্বয় করে তারা যেন মাটির নিচ দিয়ে ক্যাবল টেনে সংযোগ দেন।

যা বলল বিটিআরসি

ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ডিএসসিসির রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে বিটিআরসির জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) জাকির হোসেন খান সারাবাংলাকে বলেন, ডিএসসিসির এ বিষয়টি আমরা এখনো জানি না। তবে যদি ডিএসসিসি এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, সেটি কিভাবে নিয়েছে সে বিষয়ে নিশ্চয় আলোচনা হবে। কারণ বিটিআরসি ও ডিএসসিসি দু’টিই সরকারি প্রতিষ্ঠান। আমাদের সবার উদ্দেশ্য নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা। এক্ষেত্রে ডিএসসিসি যদি কোনো গাইডলাইন ফলো করে এ সিদ্ধান্ত নেয়, সেটা আমরা বিবেচনা করে দেখব। তারপরই বিটিআরসি পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবে।

ইন্টারনেট ব্যবসায়ীরা কী বলছেন

আইএসপিএবি নেতারা বলছেন, গ্রাহকের কাছে ইন্টারনেট পৌঁছাতে যে পরিমাণ অর্থ তাদের খরচ হয়, তার ৫০ ভাগেরও বেশি অর্থ খরচ হয় এনটিটিএনে। তাই অধিকাংশ ব্যবসায়ীই ওভারহেড ক্যাবলের মাধ্যমে সংযোগ নিচ্ছেন।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক সারাবাংলাকে বলেন, গত ৫ আগস্ট থেকে হঠাৎ করে কোনো নোটিশ ছাড়াই ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ আমাদের ইন্টারনেটের ক্যাবল কেটে ফেলতে শুরু করে। এতে দেড় লাখ গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কেটে ফেলা এসব ক্যাবলের ক্ষতি প্রায় ৫ কোটি টাকা। তবুও আমরাও গ্রাহকের সেবার কথা চিন্তা করে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয় করে কেটে ফেলা লাইনে ক্যাবল পুনঃসংযোগ স্থাপন করি। এতে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার গ্রাহকের সংযোগ পুনঃস্থাপিত হয়েছে। তবে এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছেন প্রায় ৩০ হাজার গ্রাহক। কিন্তু এভাবে তো চলতে পারে না। তাই আমরা এর সমাধান চাইতে দুই সিটি করপোরেশনের সঙ্গে বৈঠক করেছি।

তিনি বলেন, বৈঠকে ডিএসসিসির আমাদেরকে জানিয়েছে, তাদের এলাকায় ক্যাবলের সংযোগ নিতে হলে প্রত্যেক ব্যবসায়ীকে ২৫ লাখ টাকা করে রাজস্ব দিতে হবে। তবে ডিএনসিসি কোনো রাজস্ব চায়নি। কিন্তু ডিএসসিসির রাজস্ব দাবি আমাদের কাছে অযৌক্তিক মনে হয়েছে। কারণ একজন ইন্টারনেট ব্যবসায়ী (আইএসপি) মাসে আয় করে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। তার পক্ষে বছরে ২৫ লাখ টাকা কর কিভাগে দেওয়া সম্ভব? এই টাকা যদি সিটি করপোরেশনকে দিতে হয়, তাহলে তো গ্রাহকদের কাছ থেকেই এই টাকা তুলতে হবে।

এনটিটিএন কোম্পানিগুলো ভূগর্ভস্থ লাইনের মাধ্যমে সংযোগ দিয়ে থাকে। তাদের মাধ্যমে সংযোগ দিচ্ছেন না কেন?— এমন প্রশ্নের জবাবে ইমদাদুল হক বলেন, এনটিটিএন কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে ক্যাবল নিতে গেলে খরচ অনেক বেশি। গ্রাহক পর্যন্ত ইন্টারনেট পৌঁছাতে যে খরচ, তার অর্ধেকেরও বেশি খরচ হবে কেবল এনটিটিএন কোম্পাানির পেছনেই। তাই আমরা শুরু থেকেই দাবি করে আসছি, ভূগর্ভস্থ ক্যাবল সংযাগের বিষয়টি যেন সরকারি ব্যবস্থাপনায় করা হয় কিংবা এর খরচের বিষয়টি নাগালের মধ্যে রাখা যায়। কিন্তু সেটি না হওয়ায় এনটিটিএনগুলো যেমন বেশি খরচ নিচ্ছে, তেমনি রাজধানীর সব ভবনে ভূগর্ভস্থ লাইনও নেই। ফলে এনটিটিএনগুলোর সেবা নিলেও অনেক বাড়িতেই সংযোগ দিতে ওভারহেড ক্যাবল টানতে হচ্ছে। তাতে খরচ বাড়লেও লাভের লাভ কিছুই হচ্ছে না।

কী বলছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা

ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে রাজস্ব নেওয়ার বিষয়টি যৌক্তি নয় বলে মনে করছেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মুহাম্মদ খান। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ইন্টারনেট এখন নাগরিকদের একটি মৌলিক সেবা। ডিজিটাল বাংলাদেশের বাস্তবায়ন ইন্টারনেট ছাড়া কল্পনাও করা যায় না। করোনাকালে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তাই গ্রাহকদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করার দায়িত্ব কিন্তু সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন বা স্থানীয় সরকার সংস্থার। এখন দক্ষিণ সিটি এই মৌলিক সেবার জন্য কর আরোপ করতে চাইলে নাগরিক সেবায় ব্যাঘাত ঘটবে। কারণ ব্যবসায়ীরা এই কর গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করবে। ফলে গ্রাহক পর্যায়ে খরচ বাড়বে, সেটা ইন্টারনেট সেবাকে নিরুৎসাহিত করার নামান্তর হবে। এসব কিছু মাথায় রেখেই সিটি করপোরেশনকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

একই কথা বললেন নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবীবও। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ভূগর্ভস্থ অবকাঠামোগত ভিত্তি তৈরি করে সেটির মাধ্যমে সব ধরনের ক্যাবল নেওয়ার ব্যবস্থাপনা এবং তত্ত্বাবধান করার দায়িত্ব সিটি করপোরেশন। কিন্তু এ দায়িত্ব করপোরেশন পালন না করে যদি কোনো কোম্পানিকে দিয়ে করানো হয়, সেটি সঠিক ব্যবস্থাপনায় হবে না। যার ফল এখন শহর ভোগ করছে। সর্বত্রই মাথার ওপর ঝুলছে ক্যাবল, যা দুর্যোগমুক্ত শহরের জন্য কাম্য নয়। কিন্তু এসব অব্যবস্থাপনা রোধ না করে যদি করপোরেশন রাজস্ব চায়, সেটি কোনোভাবেই যৌক্তিক হবে না।

সারাবাংলা/এসএইচ/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন