বিজ্ঞাপন

যেসব ঘটনায় তাৎপর্যপূর্ণ আশুরা

August 30, 2020 | 8:05 am

সারাবাংলা ডেস্ক

পবিত্র হিজরি বর্ষপঞ্জির দশম দিন তথা ১০ মহররম আজ। পবিত্র আশুরা। ঐতিহাসিক নানা ঘটনায় মুসলিম বিশ্বের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ এই দিনটি। একদিকে দিনটি যেমন পবিত্র, তেমনি শোকের। অন্যদিকে দিনটি ত্যাগের মহিমাতেও ভাস্মর। ঐতিহাসিক ও ঘটনাবহুল এ দিবসটিকে বলা হয় পৃথিবীর আদি-অন্তের দিন। অর্থাৎ এ দিনেই পৃথিবীর সৃষ্টি হয়েছে, ধ্বংস বা কেয়ামতও এ দিনেই সংঘটিত হবে।

বিজ্ঞাপন

হাদিসের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ গ্রন্থ বুখারি শরীফের ১৮৬৫ নম্বর হাদীসে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (স.) মদিনায় আগমন করে দেখতে পেলেন ইহুদিরা আশুরার দিন রোজা পালন করছে। নবীজী বললেন, এটি কী? তারা বলল, এটি একটি ভালো দিন। এ দিনে আল্লাহ তায়ালা বনি ইসরাইলকে তাদের দুশমনের কবল থেকে রক্ষা করেছেন। তাই মুসা (আ.) রোজা পালন করেছেন। রাসূলুল্লাহ (স.) বললেন, মুসাকে অনুসরণের ব্যাপারে আমি তোমাদের চেয়ে অধিক হকদার। অতঃপর তিনি রোজা রেখেছেন এবং রোজা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন-

বিজ্ঞাপন

যেসব ঘটনায় তাৎপর্যপূর্ণ আশুরা

আশুরার দিনের তাৎপর্যময় ১০ ঘটনা

বিজ্ঞাপন

আশুরা তথা ১০ মহররম ঘিরে রয়েছে নানা তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১০টি ঘটনা নিম্নরূপ—

১. এই দিনে আল্লাহ তা’আলা পৃথিবী সৃষ্টি করেন। আর এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।

বিজ্ঞাপন

২. এ দিনে হজরত আদম (আ.) বেহেশত থেকে দুনিয়ায় নেমে আসেন। মহররমের ১০ তারিখে আল্লাহ পাক আদম (আ.)-এর দোয়া কবুল করেন এবং এ দিনে তিনি স্ত্রী হাওয়া (আ.)-এর সঙ্গে আরাফার ময়দানে সাক্ষাৎ করেন।

৩. হজরত নুহ (আ.)-এর জাতির লোকেরা আল্লাহর গজব মহাপ্লাবনে নিপতিত হওয়ার পর ১০ মহররম তিনি নৌকা থেকে ঈমানদারদের নিয়ে দুনিয়ায় অবতরণ করেন।

বিজ্ঞাপন

৪. হজরত ইব্রাহিম (আ.) নমরুদের অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হওয়ার ৪০ দিন পর ১০ মহররম সেখান থেকে মুক্তি লাভ করেন।

৫. হজরত আইয়ুব (আ.) ১৮ বছর কঠিন রোগ ভোগ করার পর মহররমের এই দিনে আল্লাহর রহমতে সুস্থতা লাভ করেন।

৬. হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর পুত্র হজরত ইউসুফ (আ.) তার ১১ ভাইয়ের ষড়যন্ত্রে কূপে পতিত হন এবং এক বণিক দলের সহায়তায় মিসরে গিয়ে হাজির হন। তারপর আল্লাহর বিশেষ কুদরতে তিনি মিসরের প্রধানমন্ত্রী হন। ৪০ বছর পর ১০ মহররম পিতার সঙ্গে মিলিত হন।

৭. হজরত ইউনুস (আ.) জাতির লোকদের প্রতি হতাশ হয়ে নদী অতিক্রম করে দেশান্তরিত হওয়ার সময় নদীর পানিতে পতিত হন এবং মাছ তাকে গিলে ফেলে। মাছের পেট থেকে তিনি আল্লাহর রহমতে ৪০ দিন পর মুক্তি পান ১০ মহররম তারিখে।

৮. হজরত মুসা (আ.) ফেরাউনের অত্যাচারের কারণে তার দলবলসহ অন্যত্র চলে যান। পথে নীল নদ পার হয়ে তিনি ফেরাউনের হাত থেকে আশুরার দিন মুক্তি পান। আর ফেরাউন তার দলবলসহ নীল নদের পানিতে ডুবে মারা যায়।

৯. হজরত ঈসা (আ.)-এর জাতির লোকেরা তাকে হত্যা করার চেষ্টা করলে মহররমের ১০ তারিখ আল্লাহ পাক তাকে আসমানে উঠিয়ে নিয়ে মুক্তি দান করেন।

১০. মহররম মাসের ১০ তারিখ কারবালার বিয়োগান্ত ঘটনার অবতারণা হয়। এদিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে ইমাম হোসাইন (রা.) কারবালা প্রান্তরে শাহাদাতবরণ করেন।

শেষ ঘটনাটির জন্য বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বে আশুরা দিবসটি বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে শিয়া সম্প্রদায় এই ঘটনাকে ঘিরেই শোক পালন করে থাকে।

কারবালার ইতিহাস ও বিষাদ সিন্ধু

ইতিহাসে উল্লেখ আছে, ইসলামের সর্বশেষ ও শ্রেষ্ঠ নবী হজরত মুহম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হাসান (রা.) ও হজরত ইমাম হোসেন (রা.)-এর সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার পুত্র ইয়াজিদের খলিফা হিসেবে স্বীকৃতি লাভের প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিরোধ দেখা দেয়। হিজরি ৬১ সনের এই দিনে হজরত ইমাম হোসেইন (রা.) এবং তার পরিবার ও অনুসারীরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহিদ হয়েছিলেন।

ঐতিহাসিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঊনবিংশ শতাব্দীর সপ্তম দশকের দিকে সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ লেখকদের অন্যতম মীর মশাররফ হোসেন এক মহাকাব্য রচনা করেন। তুমুলভাবে সাড়া জাগানো সে মহাকাব্যের নাম ‘বিষাদ সিন্ধু’। এই মহাকাব্যের রয়েছে তিনটি পর্ব— ‘মহরম পর্ব', ‘উদ্ধার পর্ব' ও ‘এজিদ বধ পর্ব’। মহররম পর্বের বিষয়বস্তু ইমাম হাসানের সঙ্গে এজিদের বিরোধ, ইমাম হাসানকে বিষ প্রয়োগে হত্যা ও কারবালায় ইমাম হোসাইনকে হত্যা।

এর ইতিহাসে লেখা হয়েছে, বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মু‘আবিয়ার পুত্র ইয়াজিদের সঙ্গে ইমাম হাসানের তীব্র বিরোধ তৈরি হয়। এর মধ্যে মু‘আবিয়া অসুস্থ হয়ে মারা যান। ইয়াজিদ বাদশাহ হয়। সে মদিনার অধিবাসীদের তার আনুগত্য স্বীকার করার নির্দেশ দেয়। মদিনার অধিবাসীরা তা অস্বীকার করলে ইয়াজিদ মারওয়ানকে মদিনা আক্রমণের জন্য পাঠায়। মদিনার সেনাদলের সঙ্গে মারওয়ানের সেনাদলের যুদ্ধ হয় এবং মারওয়ান পরাজিত হয়। পরে মারওয়ান মায়মুনা নামের এক বৃদ্ধার সঙ্গে ইমাম হাসানকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে। মায়মুনা ইমাম হাসানের স্ত্রী জায়েদার মাধ্যমে বিষ প্রয়োগে ইমাম হাসানকে হত্যা করে। বড় ভাইকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন ছোট ভাই ইমাম হোসাইন।

এদিকে, কুফার শাসক উবায়দুল্লাহ ইবনে যিয়াদ (আবদুল্লাহ জেয়াদ) ধোঁকা দিয়ে ইমাম হোসাইনকে বন্দি করার জন্য বাহ্যিকভাবে ইমাম হোসাইনকে নেতা বলে স্বীকার করে এবং তাকে কুফায় আসার আহ্বান জানিয়ে চিঠি পাঠায়। ইমাম হোসাইন কুফার অবস্থা যাচাইয়ের জন্য মুসলিম ইবনে আকীলকে পাঠান। মুসলিম কুফার ব্যাপারে ইতিবাচক পত্র পাঠানোর পর ইমাম ছয় হাজার সৈন্য নিয়ে কুফার দিকে রওয়ানা হন। পথে তিনি মুসলিমের শাহাদাতের খবর পান। মুহররম মাসের আট তারিখে ইমাম হোসাইন কারবালার প্রান্তরে পৌঁছেন। সেখানে ইয়াজিদের সেনাবাহিনী তাদের অবরুদ্ধ করে। তারা ফোরাত নদীর পানি বন্ধ করে দেয়। ইমামের পরিবার ও সাথীরা ক্ষুৎপিপাসায় কাতর হয়ে পড়েন। সে অবস্থাতেই ইয়াজিদের সেনাদলের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে মুহররমের ১০ তারিখে ইমাম হোসাইন তার সব সঙ্গী-সাথীসহ শাহাদাতবরণ করেন।

কারবালা প্রান্তরের এ বিয়োগাত্মক ঘটনা বাংলা সাহিত্যে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্নভাবে উঠে এসেছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার মহররম কবিতায় আশুরার দিনের সে ঘটনাকে তুলে ধরেছেন—

‘নীল সিয়া আসমান লালে লাল দুনিয়া -
আম্মা লাল তেরি খুন কিয়া খুনিয়া,
কাঁদে কোন ক্রন্দসী কারবালা ফোরাতে?
সে কাঁদনে আসু আনে সিমারের ও ছোরাতে।
রুদ্র মাতম ওঠে দুনিয়া দামেস্কে -
জয়নালে পরালো এ খুনিয়ারা বেশ কে?
হায় হায় হোসেনা ওঠে রোল ঝঞ্ঝায়,
তলোয়ার কেঁপে ওঠে এজিদের পাঞ্জায়
উন্ মাদ দুল দুল ছুটে ফেরে মদিনায়
আলীজাদা হোসেনের দেখা হেথা যদি পায়।’

কারবালার শিক্ষা

আশুরার দিন কারবালা প্রান্তরে মানব ইতিহাসের যে নির্মম কাহিনী রচিত হয়েছিল, তা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের মজবুত ঈমান। তাই আমাদের ঈমানি চেতনায় বলীয়ান হয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জীবন পরিচালনা করতে হবে।

কারবালার প্রান্তরে হজরত হোসাইন (রা.) সপরিবারে আত্মত্যাগ করে সমগ্র বিশ্ববাসীকে শিক্ষা দিয়ে গেছেন, যে মস্তক আল্লাহর কাছে নত হয়েছে সে মস্তক কখনো বাতিল শক্তির কাছে নত হতে পারে না। আল্লাহর পথে অটল থাকতে মুমিনরা তাদের জীবনকে উৎসর্গ করতে দ্বিধা করে না।

যেভাবে উদযাপিত হয় আশুরা

ইহুদিরা আশুরা উপলক্ষে মহররম মাসের ১০ তারিখে রোজা রাখে। শিয়া সম্প্রদায় মর্সিয়া ও মাতমের মাধ্যমে এই দিনটি উদযাপন করে। আশুরা উপলক্ষে ৯ ও ১০ মহররম তারিখে অথবা ১০ এবং ১১ রোজা মহররম তারিখে রাখা মুলমানদের জন্য সুন্নত। অনেকে মহহরম মাসের প্রথম ১০টি দিনই রোজা রাখেন। এছাড়া মুসলমানরা এদিন উত্তম আহারের জন্য চেষ্টা করে থাকে।

আশুরার বর্জনীয় বিষয়

আশুরার দিন ক্রন্দন-বিলাপ করা, বুকে চাপড়ানো, পিঠে চাবুক দিয়ে আঘাত করা, নিজেকে রক্তাক্ত করা ও শোক মিছিল করা— এর কোনোটিই শরিয়তসম্মত কাজ নয়। কোরআন-হাদিসে এর কোনো ভিত্তি নেই। আশুরার দিন ভালো খাবারের আয়োজন করতে হবে, মুরগি জবাই করতে হবে— এমন ধারণা ও কুসংস্কার আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে। তবে এ ধরনের কোনো প্রসঙ্গ কোনো বিশুদ্ধ হাদিস পাওয়া যায় না।

তাই আশুরার দিন শোক-মাতম না করে এখান থেকে কী শিক্ষা নেওয়া যায়, সেই চেষ্টা করতে আহ্বান জানান আলেম-ওলামারা। তাছাড়া আশুরা মানে কেবল কারবালার ঘটনা নয়, এদিন ঐতিহাসিক অনেক ঘটনা ঘটেছে। কারবালার ঘটনা ওই ঘটনাগুলোর মধ্যে ঐতিহাসিক ঘটনা, যার মধ্যে মুসলমানের অনেক শিক্ষার বিষয় আছে।

ঢাকায় আশুরার ইতিহাস

বাংলাদেশের শিয়া মতাবলম্বীরা আশুরায় তাজিয়া মিছিল, মাতমসহ বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান পালন করেন। ঢাকায় মহরমের আশুরা পালনের ইতিহাস বেশ পুরনো। মূলত মোগল আমলে ঢাকায় মহরমের আচার-অনুষ্ঠান পালন জোরেশোরে শুরু হয়। মোগলদের মধ্যে শিয়া মতাবলম্বী অনেক অভিজাত ব্যক্তি ছিলেন। মোগল শাহজাদা শাহ সুজা নিজে ছিলেন শিয়া মতাবলম্বী। তিনি ঢাকায় আসার সময় তিনশ অভিজাত শিয়া পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে আসেন। মোগল সম্রাট শাহজাহানের আমলে শাহ সুজার সুবেদারির সময় ঢাকায় ইমাম বাড়া বা হোসেনি দালান নির্মিত হয়। ইমাম হোসেনের স্মরণে নির্মিত হোসেনি দালান পুরান ঢাকার একটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। এখানে শিয়া উপাসনালয় ও কবরস্থান রয়েছে। অবশ্য ঢাকার হোসেনি দালানের নির্মাণকাল নিয়ে মতভেদ রয়েছে। হোসেনি দালানে স্থাপিত একটি শিলালিপিতে এর নির্মাতা হিসেবে শাহ সুজার নৌ সেনাপতি মীর মুরাদের (১৬৪২ খ্রিস্টাব্দ) নাম রয়েছে।

ইতিহাসবিদ এম হাসান দানির মতে, মীর মুরাদ এখানে ছোট আকারের ইমামবাড়া স্থাপন করেন। এটি ভেঙে গেলে ঢাকার নায়েবে নাজিমরা নতুনভাবে তা নির্মাণ করেন।

ইতিহাসবিদ জেমস টেলর তার বইয়ে বলেন, ১৮৩২ সালেও আদি ইমামবাড়া টিকে ছিল, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে তার সংস্কার হয়। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে এটি বিধ্বস্ত হয়। ঢাকার নবাব খাজা আহসানউল্লাহ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে এটি সংস্কার করেন। ১৯৯৫ ও ২০১১ সালেও ইমাম বাড়ার সংস্কার হয়েছে। তবে ২০১৫ সালে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় বোমা হামলা হয়। সে হামলায় একজন নিহত ও শতাধিক আহত হন।

মোগল আমল থেকেই ঢাকায় আশুরার দিন তাজিয়া মিছিলের আয়োজন হতে থাকে। এটি ঢাকার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান। ঢাকার নায়েবে নাজিমরা ছিলেন শিয়া মতাবলম্বী। তাই তারা জাঁকজমকপূর্ণ তাজিয়া মিছিলের আয়োজন করতেন। উনিশ শতকের প্রথম দিকে আলম মুসাওয়ার নামে এক শিল্পীর ছবিতে ঢাকার মহরম মিছিল মূর্ত হয়েছে। প্রতিবছর আশুরার দিন এখান থেকে তাজিয়া মিছিল বের করেন শিয়া মতাবলম্বীরা। মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করে আবার হোসেনি দালানেই ফিরে আসে। ঢাকায় মহরমের মেলাও ঐতিহ্যবাহী। দেশের অন্যান্য স্থানেও মহরমের মেলার ঐতিহ্য রয়েছে।

সারাবাংলা/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন