বিজ্ঞাপন

‘গৃহবন্দি’ খালেদাকে মুক্ত করতে আন্দোলনের বিকল্প নেই: বিএনপি

September 1, 2020 | 10:40 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ‘গৃহবন্দি’ খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতারা। তারা বলেছেন ‘গৃহবন্দি অবস্থা’ থেকে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হলে এবং গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হলে আন্দোলন করতে হবে। দলের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) আয়োজতি এক ভার্চুয়াল আলোচনায় বিএনপি নেতারা এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সঞ্চালনায় ভার্চুয়াল আলোচনা অংশ নেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরুদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, উত্তরের মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, যুবদলের সাইফুল আলম নীরব, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেইন, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, মুক্তিযোদ্ধা দলের ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের ফজলুর রহমান খোকন, মৎস্যজীবী দলের আবদুর রহিম প্রমুখ।

বিকেল ৫ টায় শুরু হয়ে ভার্চুয়াল আলোচনা শেষ হয় রাত ৮টায়। অনুষ্ঠানে অঙ্গসংগঠনের কাজী আবুল বাশার, আবদুল আলীম নকি, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, হাসান জাফির তুহিন, সুলতানা আহমেদ, নজরুল ইসলাম তালুকদার, ইকবাল হোসেন শ্যামলও যুক্ত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে উলামা দলের শাহ নেছারুল হক মোনাজাত পরিচালনা করেন।

বিজ্ঞাপন

সভাপতির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গণতন্ত্রের জন্যই দেশনেত্রী আজকে গৃহবন্দি অবস্থায়, কারাবন্দি হয়ে আছেন। গণতন্ত্রের জন্য, বাংলাদেশের মানু্ষরে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য তার যে ত্যাগ— এটা নিঃসন্দেহে অপরিসীম।

তিনি বলেন, ‘দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমাদের বড় প্রতিজ্ঞা হোক- যেকোনো মূল্যে গণতন্ত্রকে উদ্ধার করা, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা। দেশনেত্রীকে মুক্ত না করলে গণতন্ত্র মুক্ত হবে না— এটা হচ্ছে জরুরি কথা এবং সেটা আমাদের অবশ্যই যথাযথ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সফল করতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

ফখরুল বলেন, ‘আজ বিশ্ব রাজনীতি পরিবর্তিত হচ্ছে। ১৯৭১ সালে যে পরিস্থিতি ছিল, এখনকার পরিস্থিতি এক নয়; ১৯৭৫ সালে যে পরিস্থিতি ছিল, এখন সেরকম নেই। ২০২০ সালে যে বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপট, সেই প্রেক্ষাপটকে অনুধাবন করে এবং যোগ্য কৌশল উদ্ভাবন করে আমাদের সেই কৌশলের সঙ্গে গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে প্রতিষ্ঠা করবার জন্য গণতান্ত্রিকভাবেই এগিয়ে যেতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত সত্য কথা- আন্দোলনের কোনো বিকল্প নাই। কিন্তু সেই আন্দোলন কীভাবে ফলপ্রসূ হবে সেই বিষয়টা আমাদের দেখতে হবে, বুঝতে হবে। এবং তার জন্য আমাদের আলোচনা করতে হবে। আলোচনার মধ্য দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বর্তমান বাংলাদেশ দুটি দুযোর্গের মধ্যে আছে। একটি হচ্ছে আওয়ামী দুযোর্গ, আরেকটা করোনা দুযোর্গ। এই দুই দুযোর্গের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ অতিক্রম করছে। সেজন্য দেশে রাজনীতি নেই, গণতন্ত্র নেই্, বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্পূর্ণ বিপর্য্স্ত।’

তিনি বলেন, ‘এই অবস্থা থেকে পরিবর্তন আসবে। সেই পরিবর্তনের দায়িত্ব বিএনপির। কেননা আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র হত্যা করেছে, তারা তো গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেবে না, মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দেবে না। সেজন্য বিএনপিকে সেই গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার গুরু দায়িত্ব নিতে হবে। দেশের সকল জাতীয়তাবাদী ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে ইস্পাত কঠিন গণঐক্য করে এই সরকারের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া একটা অহেতুক বানোয়াট মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন। দুই বছর তাকে কারাগারে রেখেছিল। এখন তার সাজা স্থগিত রেখে তাকে বাড়িতে রেখেছে। কিন্তু অন্তরীণ থাকার মতোই। তিনি সম্পূর্ণভাবে মুক্ত নন। আমাদের চেষ্টা করতে হবে তাকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত করা। আমাদের অন্যতম কর্তব্য বা লক্ষ্য হবে, বেগম খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত করে আমাদের মাঝে নিয়ে আসা।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘বিভিন্ন দেশে দেখা যায়, সরকারের বিলুপ্তি ঘটে। এখানে কী হয়েছে? এখানে বিলুপ্তি ঘটে না, এই ফ্যাসিবাদী সরকারের বিলুপ্তি ঘটাতে হবে। কোনো কর্তৃত্ববাদী সরকার, কোনো ফ্যাসিবাদী সরকার কখনই বিনা চ্যালেঞ্জে, বিনা আন্দোলনে যায় না। আওয়ামী লীগও যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘এই কর্তৃত্ব ও ফ্যাসিবাদী সরকারকে তাড়াতে হবে। এদের তাড়ানোর জন্য এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শপথ হোক- আমরা যেকোনো মূল্যে আমাদের নেতার নির্দেশে এমন কিছু করব, যেমন আমরা নব্বইয়ে এবং পরবর্তী সময়ে আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী সরকারকে তাড়িয়েছিলাম। এই সরকারকেও ইনশাল্লাহ আমরা তাড়াবো। আজকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা’।

স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘১৯৭২-১৯৭৫ সালে তারা (আওয়ামী লীগ) মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা শুরু করে, যার সংখ্যা ৩০ হাজারের উপরে। সেই দল দাবি করে, তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দল। তারা যুদ্ধাপরাধীর বিচার করেছে। কিন্তু ১৯৭১ সালে বা ৭০ সালের নির্বাচনে যারা আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন তার মধ্যে ৪৩ জন আছেন যারা পাকিস্তানের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছেন। যারা স্বাধীনতার যুদ্ধের বিপক্ষে বিবৃতি দিয়েছিলেন তারা কিন্তু ঘুরে-ফিরে আবারও এই সংসদে আসছেন। এখন পর্যন্ত তাদের তিরষ্কার এবং বিচারও করা হয়নি। এমনকি আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারও করা হয়নি।‘

সারাবাংলা/এজেড/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন