বিজ্ঞাপন

টাকা ফেরত চেয়ে অনশনে নারী, মানহানির মামলা করলেন পৌর মেয়র

September 3, 2020 | 11:23 pm

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

মেহেরপুর: জেলার গাংনীতে উপজেলা পরিষদ চত্বরের শহীদ মিনারে গত ৪ দিন ধরে অনশন করছেন শিশিরপাড়া গ্রামের মৌমিতা খাতুন পলি। ‍তার অভিযোগ, গাংনী পৌর মেয়র আশরাফুল ইসলামের কাছে তিনি চাকরির জন্য দেওয়া ১৫ লাখ টাকা পাবেন। তবে এর সপক্ষে ৮ লাখ ১০ হাজার টাকার ব্যাংক রশিদের ফটোকপি ছাড়া কিছুই দেখাতে পারেননি। এদিকে, ওই নারীর অনশন করায় তার বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকার মানহানি মামলা করেছেন পৌর মেয়র আশরাফুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, গত ২০ আগস্ট শহীদ মিনারে একই দাবিতে অনশন করেছিলেন মৌমিতা। চাকরির জন্য দেওয়া টাকা পাবেন, এমন অভিযোগের বিষয়ে তখন মেয়র আশরাফুল ইসলাম বলেছিলেলেন, ওই নারীর স্বামী মোমিনুল ইসলাম জমি কেনার জন্য তাকে টাকা দিয়েছিলেন। পরে তাকে টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। সেদিন অনশনের পর রাতে ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিজানুর রহমান ও গাংনী থানার ওসির মধ্যস্থতায় মৌমিতা খাতুন অনশন ভঙ্গ করেছিলেন।

পরে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গাংনী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এমএ খালেকের উপস্থিতিতে থানায় বৈঠকে বসে উভয় পক্ষ। সেখানেও উঠে আসে মৌমিতার স্বামীর টাকা ফেরত নেওয়ার বিষয়টি। তবে তার স্বামী মোমিনুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত না থাকায় আলোচনা স্থগিত করে, পরবর্তীতে স্বামীর উপস্থিতিতে বিষয়টি নিরসন করার সিদ্ধান্ত হয়।

বিজ্ঞাপন

কয়েকদিন পরে মৌমিতা স্বামীকে নিয়ে আবারও থানায় উপস্থিত হয়েছিলেন বিষয়টি নিরসনের জন্য। তবে মেয়র আশরাফুল ইসলাম ব্যক্তিগত কাজের অজুহাতে বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন। সেসময় তার স্বামী মোমিনুল ইসলামের কাছে সাংবাদিকরা মেয়রের টাকা ফেরত দেওয়ার দাবির বিষয়টি জানতে চান। কিন্তু তাকে সাংবাদিকদের সাথে তার কথা বলতে দেওয়া হয় না। ওইদিন কোন সমঝোতা বৈঠক ছাড়াই মৌমিতা বাড়ি ফিরে যান। পরবর্তীতে গত সোমবার দুপুর থেকে আবারও অনশন শুরু করেন মৌমিতা।

মৌমিতার দাবি, পৌরসভায় সহকারী কর আদায়কারি পদে চাকরির জন্য মেয়রকে তিনি ১৫ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। মেয়র কারাগারে থাকাকালে ১৫ লাখ টাকার মধ্যে ৮ লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন মেয়রের স্ত্রীর ব্যাংক একাউন্টে। দীর্ঘদিন বিষয়টি অতিবাহিত হলেও চাকরি এবং টাকা ফেরত কোনটাই তিনি পাচ্ছে না। টাকা আদায়ের জন্য তিনি তাই অনশন করছেন।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ ও মানহানি মামলার বিষয়ে পৌর মেয়র আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘একটি পক্ষ আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্থা করতে মৌমিতা পলিকে অনশনে বসিয়েছেন। বিষয়টি যখন পরিস্কার হয়েছে তখন মৌমিতার কাছে আর কেউ যাচ্ছে না। মৌমিতা অনশন করে আমার যে সম্মানহানি করেছেন তার বিরুদ্ধে আমি আইনগত ব্যবস্থার জন্য মেহেরপুর চিফ জুডিশিয়াল আমলি আদালতে ৫ কোটি টাকার মানহানি মামলা করেছি।’

সারাবাংলা/এমও

বিজ্ঞাপন

Tags: , ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন