বিজ্ঞাপন

দুর্নীতির আরেক দৃশ্যপট উন্মোচিত করেছে করোনা

September 14, 2020 | 9:58 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: করোনাভাইরাস একটি বৈশ্বিক মহামারি। এই সময়ে যখন সবার আরও বেশি মানবিক হওয়ার কথা, তখন আমরা উল্টোচিত্র দেখতে পাচ্ছি। খুন-রাহাজানি কিছুই কমেনি এই মহামারিতে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিও ঠেকানো যায়নি। বরং এই মহাদুর্যোগের সময়ও দেশে একের পর এক, একটির চেয়ে বড় আরেকটি দুর্নীতির খবর বেরিয়ে আসছে। বলা যায়, করোনা দেশে দুর্নীতির আরেক দৃশ্যপট উন্মোচিত করেছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সারাবাংলা ডটনেটের নিয়মিত আয়োজন ‘সারাবাংলা ফোকাস’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘সময়টা কেমন’ শিরোনামের আজকের ভার্চুয়াল আলোচনা অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন সাবেক তত্ত্ববধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম ও ডয়েচে ভেলে বাংলা বিভাগের প্রধান খালেদ মুহিউদ্দীন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সারাবাংলা ডটনেটের স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট এমএকে জিলানি। সারাবাংলার ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব থেকে অনুষ্ঠানটি সরাসরি প্রচারিত হয়। একইসঙ্গে জিটিভি’ও অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করে।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে সাবেক তত্ত্ববধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, করোনা মোকাবিলায় আমাদের অনেক ব্যর্থতা রয়ে গেছে। খুন হচ্ছে, মসজিদে বিস্ফোরণ— সেখানেও গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠারন দুর্নীতির তথ্য বেরিয়ে আসছে। দ্রব্যমূল্যের দাম বেশি। সমাজে অপরাধ বাড়ছে। রাজনীতি নির্বাসিত হয়েছে। এখানে আমাদের অনেক ক্ষেত্রে ব্যর্থতা রয়েছে। এই সময়টা আমাদের জন্য ভালো যাচ্ছে না।

সিপিবি সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, এই সময়টা সচেতনতা তৈরির সময়। আমাদের পুরো সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে কিছু করার দরকার ছিল, সেটা আমরা পারিনি। কিন্তু করোনার সময়ে আমরা সবজান্তা হয়ে গেলাম। প্রথমে করোনা নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু আলোচনা হয়েছে। আমি নিজেও ফেব্রুয়ারিতে কিছু আলোচনা সভায় অংশ নিয়েছিলাম। কিন্তু সেসব আলোচনা সভায় করোনাকে আমরা পাত্তায় দেইনি। সরকারেরও কোনোন মাথা ব্যথা ছিল না। পরে এসে আমরা করোনা মোকাবিলায় খেই হারিয়ে ফেললাম।

বিজ্ঞাপন

অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সেই অর্থে এখনো খুলতে পারিনি। আমরা এখনো অনলাইনে আছি। ব্যবসা-বাণিজ্য চলছে। আমাদের সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদে বলা আছে— জনগণই হবে প্রজাতন্ত্রের মালিক। কিন্তু এটা আমরা বাস্তবে দেখি না। এখানে নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ-গোত্রে বৈষম্য আছে। অন্যদিকে আমাদের গবেষণা না থাকায় আমরা বলতে পারছি না আমাদের কী পরিমাণ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা ভেবেছিলাম করোনার সময় দুর্নীতি, খুন কমবে। কিন্তু আমরা কোনোটাই দেখিনি। করোনা দুর্নীতির আরেকটি দৃশ্য উন্মোচিত করেছে। যখন মানুষ মুমূর্ষ অবস্থায় মারা যাচ্ছে, তখন পিপিই-মাস্ক ও করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে দুর্নীতি করতে দেখেছি। এছাড়া কিছুদিন আগে আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বললেন, ভ্যাকসিন লাগবে না। কিন্তু এখন আবার বললেন ভ্যাকসিন আসবে। এই ভ্যাকসিন এলে কারা পাবে, কিভাবে পাবে— সেসব নিয়েও বৈষম্য হবে।

বিজ্ঞাপন

ডয়েচে ভেলে বাংলা বিভাগের প্রধান খালেদ মুহিউদ্দীন বলেন, সময়টা খুবই অস্বাভাবিক। দুষ্টু বুদ্ধি ও মিথ্যার ওপর দাঁড়ানো একটা সময়ের কথা আমি বলতে চাই। মিডিয়া, ডাক্তার, গবেষক, রাজনীতিবীদ— সবাই কোনো না কোনোভাবে মিথ্যা বা অতিরঞ্জনের আশ্রয় নিয়েছেন। অনেক সময় অনেকে না জেনে আতঙ্ক ছড়িয়েছেন। যে যা বলে, শুধু সেটা করতে গিয়ে আমাদের যে ক্ষতি হলো সেটা আমরা কাটিয়ে উঠতে পারব কি না— জানি না। আর করোনাভাইরাস নিয়ে একটি কথা আমি বলতে পারি— মিডিয়া অতিরঞ্জন করেছে। সারাবিশ্বের মিডিয়া করোনায় দশের মধ্যে শূন্য পেয়েছে।

সারাবাংলা/এসজে/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন