বিজ্ঞাপন

‘মানুষের বিপদকে পুঁজি করে ধনী হচ্ছে এক শ্রেণির মানুষ’

September 14, 2020 | 11:08 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সমাজের প্রতিটি খাতে দুর্নীতি। শিক্ষাঙ্গন থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য খাত— সব ক্ষেত্রে দুর্নীতি। এমন কোনো খাত নেই যেখানে দুর্নীতি নেই। আবার এক শ্রেণির মানুষ আছে, যারা দেশ বা মানুষের বিপদকে পুঁজি করে বড়লোক হয়। মোট কথা, আমরা তো বড়লোক হয়েছি মানুষের বিপদকে পুঁজি করেই।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সারাবাংলা ডটনেটের নিয়মিত আয়োজন ‘সারাবাংলা ফোকাস’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘সময়টা কেমন’ শিরোনামের আজকের ভার্চুয়াল আলোচনা অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন সাবেক তত্ত্ববধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম ও ডয়েচে ভেলে বাংলা বিভাগের প্রধান খালেদ মুহিউদ্দীন।

আরও পড়ুন- দুর্নীতির আরেক দৃশ্যপট উন্মোচিত করেছে করোনা

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সারাবাংলা ডটনেটের স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট এমএকে জিলানি। সারাবাংলার ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব থেকে অনুষ্ঠানটি সরাসরি প্রচারিত হয়। একইসঙ্গে জিটিভি’ও অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করে।

অনুষ্ঠানে সাবেক তত্ত্ববধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, শিক্ষাঙ্গনে যে ধরনের দুর্নীতি হচ্ছে, সেখানে সংস্কার দরকার। কিন্তু কেন হচ্ছে না? কিভাবে নিয়োগ হয়— সেটা নিয়েও কোনো কথা শুনি না। দুর্নীতি দিন দিন স্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। যারা কথা বলছে, তাদেরকে ওএসডি করা হচ্ছে। দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং, ক্যাসিনো— কী নেই যা হচ্ছে না! দখলদারিত্ব, মারামারি চলছে। এমন কোনো অনাচার নেই, যা হচ্ছে না। সেক্ষেত্রে আমরা আশার আলো দেখি না।

বিজ্ঞাপন

সিপিবি সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, সবকিছুর পরিবর্তন দরকার। কিন্তু তার কোনো উদ্যোগ তো দেখছি না। আর এই ধরনের সংকটের মধ্যেও আমাদের কোনো উপলব্ধি নেই। সবকিছু কি যেভাবে চলছে, সেভাবেই চলতে থাকবে? আমাদের সমাজ এমন জায়গায় চলে গেছে, যেখানে সবাই সবার মতো করে কথা বলেন। আমাদের প্রবৃদ্ধি বাড়ছে, কিন্তু সাধারণ মানুষকে ১৪ দিন আমরা কোয়ারেনটাইনে রাখতে পারলাম না।

অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, যেকোনো দুর্যোগে আমরা কেউ না কেউ সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করি। কোনো একটি দেশের সিস্টেম যখন দুর্নীতিগ্রস্ত হয়, তখন সেখান থেকে বেরিয়ে আসাটা কঠিন। দেশ স্বাধীন হয়েছে অনেক বছর হয়ে গেছে। কিন্তু আমরা কি সিস্টেমের পরিবর্তন করতে পেরেছি? আমাদের এটা করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

ডয়েচে ভেলে বাংলা বিভাগের প্রধান খালেদ মুহিউদ্দীন বলেন, আমরা কেন মনে করব পৃথিবী একটা বিপদের মধ্যে পড়েছে আর আমরা ভালো হয়ে যাব? যখনই বাংলাদেশ কোনো বিপদে পড়েছে বা কোনো সমস্যায় পড়েছে, সেই সমস্যাটাকেই পুঁজি করে আমরা বড়লোক হয়েছি। আমাদের টাকা বাড়িয়েছি। বিদেশে আমাদের যেতে হবে, তার জন্য আদম ব্যাপারি কেন ধরতে হবে?

তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে কি আশা তৈরি হয় যে আমরা বিপদে পড়ছি আর সবকিছু ভালো হয়ে যাবে? আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, এটা হয়নি। অন্যদিকে যেটাকে পবিত্র মাস বলা হয়, সেই রমজান মাসেও কি ঘুষ খাওয়া বন্ধ ছিল? আসলে আমাদের পবিত্রতা বলতে কিছু নেই।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এসজে/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন