বিজ্ঞাপন

২০৭০ সালে বাংলাদেশ হবে ভূমিকম্প সহনশীল দেশ: প্রতিমন্ত্রী

September 15, 2020 | 1:41 am

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: আগামী ৫০ বছর পরে ২০৭০ সালে বাংলাদেশ হবে একটি ভূমিকম্প সহনশীল দেশ। জাপান এ কাজে সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করছে। এক্ষেত্রে তারা শর্ত দিয়েছে যে পুরান ঢাকা ও চট্টগ্রামের অপরিকল্পিত ভবনগুলো ভেঙে নতুন করে গড়তে হবে। সব শর্তে রাজি হয়ে বাংলাদেশকে ভূমিকম্প সহনশীল হিসেবে গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ চলছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান এসব কথা বলেন। ন্যাশনাল রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রামের (এনআরপি) উদ্যোগে ন্যাশনাল প্ল্যান ফর ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট (এনপিডিএম)-২০২১-২০২৫ প্রণয়নে দিনব্যাপী কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সমন্বয় খুবই জরুরি এবং আমাদের দুর্যোগ পরিকল্পনা হতে হবে প্রায়োগিক। প্রধানমন্ত্রীর নেত্বৃত্বে বাংলাদেশ এখন দুর্যোগ মোকাবিলায় রোল মডেল। দুর্যোগে জিরো ডেথ আমাদের লক্ষ্য। জাপান যেমন ভূমিকম্প মোকাবিলা করে এখন প্রাণহানি শূন্যের কোঠায় নিয়ে গেছে, একইভাবে আমরাও বাংলাদেশকে ভূমিকম্প মোকাবিলায় রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, করোনা দুর্যোগের সঙ্গে আম্পানের মতো শক্তিশালী সাইক্লোন এ দেশের মানুষ সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করে বিশ্ব দরবারে প্রশংসা কুড়িয়েছে। দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দুর্যোগ সহনীয় ঘরের কারণে বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ঘর পাচ্ছে। দুর্যোগের সময় মানুষকে উদ্ধার ও ত্রাণ সহযোগিতার জন্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২৭ কোটি টাকা ব্যায়ে প্রতিবন্ধীবান্ধব ৬০টি রেসকিউ বোট আমরা সংযুক্ত করছি। একেকটি বোটে অন্তত ১০ টনের মতো খাদ্য সামগ্রী বহন করা যাবে এবং বন্যার্তদেরও বহন করা যাবে। বৃদ্ধদের বাথরুমেরও ব্যবস্থা থাকবে। চলবে সোলার সিস্টেমে।

ডা. এনামুর বলেন, দুর্যোগ সহনশীল জাতি হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ৩৫টি চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে এগিয়ে যাচ্ছি। এছাড়া সারাদেশে এক হাজার সাইক্লোন সেন্টার ও এক হাজার বন্যা শেল্টার নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহসিনের সভাপতিত্বে এই কর্মশালায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক মাকসুদ কামাল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক আতিকুল ইসলাম। কর্মশালায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব ও উপসচিবসহ প্রায় ২৮ জন বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় বজ্রপাতকে দুর্যোগ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। শিক্ষা কারিকুলামে দুর্যোগ সম্পর্কিত আরো বেশি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এছাড়া শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরকে দুর্যোগ সহনীয় ভবন গড়ে তোলার ব্যাপারে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ফাইল ছবি

সারাবাংলা/ইউজে/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন