বিজ্ঞাপন

‘ট্যাক্স দেবেন মিষ্টি খাবেন, না দিলে ফাইন খাবেন’

September 15, 2020 | 7:02 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছেন, ট্যাক্স দেবেন মিষ্টি খাবেন, আর না দিলে ফাইন (জরিমানা) খাবেন।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) গুলশান ২ নম্বর গোলচত্বরে অবৈধ বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড ইত্যাদি উচ্ছেদের সময় জনৈক ব্যবসায়ী ডিএনসিসি থেকে পূর্বেই অনুমোদন নিয়ে নির্ধারিত মাপে সাইনবোর্ড স্থাপন করায় মেয়র তাকে মিষ্টি খাওয়ানোর পরে উপস্থিত জনগণের সামনে এ কথা বলেন। জনতা ব্যাংকের গুলশান শাখা তাদের সাইনবোর্ডের জন্য নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ায় ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকেও তিনি ধন্যবাদ জানিয়ে মিষ্টি খাওয়ান।

পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, ‘আমি সবাইকে বলব এই শহরটা কিন্তু আমাদের, এই শহরে আমরা উপার্জন করি। আমাদের বাচ্চারা পড়াশোনা করে, এই শহরে আমরা বড় হয়েছি। এ শহরকে ভালোবাসতে হবে। যে ঘরে আমি থাকি সেই ঘরের প্রতি যদি মায়া না করি, সেই ঘরে যদি থু-থু ফেলি, তাহলে হবে না। এই যে আজকে বড় বড় ডেভেলপাররা সিটি করপোরেশেনকে ট্যাক্স না দিয়ে তাদের সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিল। এটা কি ঠিক? এই শহরে আপনারা এত বড় বড় ব্র্যান্ডিং করবেন, ব্যবসা করবেন, আর সিটি করপোরেশনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কোনো ট্যাক্স দিবেন না, তা হতে পারে না।’

এ সময় আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি সবাইকে বলতে চাই, শহরে কোনো সাইনবোর্ড লাগাতে গেলে, আগে দেখুন সিটি করপোরেশনের নিয়ম কি। বিদেশে তো আপনারা এরকম করতে পারবেন না। এদেশে কেন করবেন? এই দেশেরও গার্জিয়ান আছে। জনগণ চায়, সিটি পরিষ্কার থাকুক। জনগণ চায়, তারা ফুটপাত দিয়ে যেন নির্বিঘ্নে হাঁটতে পারে। এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ফুটপাতে অবৈধভাবে থাকা বিভিন্ন সামগ্রী নিলাম করে দিচ্ছি। ওই ধারাবাহিকতায় আমরা আজ সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড ইত্যাদি অপসারণ করছি।’

বিজ্ঞাপন

‘ট্যাক্স দেবেন মিষ্টি খাবেন, না দিলে ফাইন খাবেন’

মেয়র আরও বলেন, “এই শহরে তারা ব্যবসা করছেন, তারা কিন্তু ‘ফিলান্থ্রোপি’ করছেন না। তারা ট্যাক্স দেবে না কেন? সিটিকে সুন্দর করতে গেলে সিটি করপোরেশনকে ট্যাক্স দিতে হবে। আজকে আমরা গুলশান, বনানী এবং প্রগতি সরণিতে অভিযান শুরু করেছি। বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড স্থাপন করার জন্য নীতিমালা আছে। এগুলো লাগানোর সময় নীতিমালা মানতে হবে। আমরা এ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছি। মিডিয়ায় প্রেস রিলিজের মাধ্যমে জানিয়েছি। প্রত্যেকটি গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এমনকি মাইকিংও করা হয়েছে। অনেকেই গত দুদিনে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে অনুমোদন নিয়েছেন। একটি শহরের ভেতরে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম চলতে পারে না। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি ফুটপাত ও সড়কে রাখা অবৈধ মালামাল উচ্ছেদ অব্যাহত থাকবে।”

উল্লেখ্য, গুলশান ২ নম্বরে আজ গুলশানে প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল হামিদ মিয়ার নেতৃত্বে প্রায় ১৫০টি অবৈধ সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড উচ্ছেদ করা হয়। আর বনানী ১১ নম্বর সড়কে অঞ্চল-৭’র আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতাকাব্বীর আহমেদের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় প্রায় শতাধিক সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় সড়ক ও ফুটপাত অবৈধভাবে দখল করে জনগণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টির কারণে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া প্রগতি সরণিতে অঞ্চল-৬’র আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজিয়া আফরিনের পরিচালনায় উচ্ছেদ অভিযানে মোট ৫২টি সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড ইত্যাদি উচ্ছেদ করা হয়। এছাড়া ফুটপাত ও সড়কে অবৈধভাবে মালামাল রাখায় তা নিলামে ৬৬ হাজার ৭০০ টাকা নিলামে বিক্রয় করা হয় এবং নয়টি মামলায় ৪৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান চলাকালে অন্যন্যের মধ্যে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক ও অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গত তিন দিনে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা ডিএনসিসিকে জমা দিয়ে সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড অনুমোদন নিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এসএইচ/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন