বিজ্ঞাপন

ভারত-মিয়ানমারের দরজা বন্ধ— পেঁয়াজে কি গত বছরেরই পুনরাবৃত্তি?

September 15, 2020 | 9:11 pm

রমেন দাশগুপ্ত, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: ভারত আকস্মিকভাবে রফতানি বন্ধ করে দেওয়ার পর দুই সপ্তাহের মধ্যে দেশের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা করছেন দেশীয় আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা। ঠিক একবছর আগেও পেঁয়াজ নিয়ে এমনই সংকটে পড়েছিল বাংলাদেশ। ওই সময় সরবরাহ ঠিক রাখতে যে পথে হেঁটেছিল সরকার, এবারও হাঁটছে একই পথে। অর্থাৎ দেশীয় আমদানিকারকদের ওপর নির্ভর করে ভারতের বিকল্প আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পেঁয়াজ আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এ বছর সেই উদ্যোগে আন্তরিকতা ও গতি দেখতে চান ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, গত বছর (২০১৯) দেশের শীর্ষস্থানীয় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো ভারতের বাইরে বিভিন্ন দেশ থেকে যে পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানির অনুমতিপত্র নিয়েছিল, তার এক-তৃতীয়াংশ পেঁয়াজও দেশে আসেনি। এর ফলে প্রায় তিন মাস পেঁয়াজের সংকট ছিল দেশে। এছাড়া গত বছর সংকটের সময় মিয়ানমার থেকে কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ১০০ ট্রাক পেঁয়াজ দেশে ঢুকেছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতিতে মিয়ানমার পণ্য রফতানি বন্ধ রেখেছে। দেশীয় বড় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তরিক না হলে এবং জরুরি ভিত্তিতে মিয়ানমার রফতানি চালু না করলে দেশের বাজারে পেঁয়াজের বড় ধরনের সংকট এড়ানো যাবে না বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে, ভারতের পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণার পর এক রাতের ব্যবধানে চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে কমপক্ষে ২০ টাকা। আর খুচরায় বেড়েছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। বিক্রেতারাই বলেছেন, এভাবে প্রতিদিনই ১০-২০ টাকা করে পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকবে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন- একদিনে পেঁয়াজের কেজি ৬০ থেকে ১০০ টাকা

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামে ভোগ্যপণ্যের বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে বিভিন্ন আড়ত ও পাইকারি দোকানে ঘুরে ভারতের পেঁয়াজ প্রতিকেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। দেশীয় পেঁয়াজ খুব একটা দেখা যায়নি। যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে দেশি পেঁয়াজ দেখা গেছে, সেখানে প্রতিকেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। গতকাল (সোমবার) একই বাজারে ভারতের পেঁয়াজ ৪০ টাকায় এবং দেশীয় পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বিক্রেতারা স্বীকার করেছেন, খাতুনগঞ্জের আড়তে এখন যেসব ভারতীয় পেঁয়াজ আছে সেগুলো আগের দামে কমপক্ষে দুই মাস আগে আমদানি করা। এরপরও হঠাৎ করে দাম বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য তারা চাহিদা বেড়ে যাওয়াকে দায়ী করেছেন।

চট্টগ্রাম নগরীর খাতুনগঞ্জের হামিদউল্লাহ মার্কেটের পেঁয়াজের আড়তদার মেসার্স বাচা মিয়া ট্রেডার্সের মালিক মোহাম্মদ ইদ্রিস সারাবাংলাকে বলেন, ‘ভারত থেকে আমদানি করা এবং দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের দাম একদিনের ব্যবধানে পাইকারিতে ২০ টাকার মতো বেড়েছে। আমরা আগে ৩৮-৪০ টাকায় যেসব পেঁয়াজ বিক্রি করেছি, সেগুলো কিনতে হয়েছিল ৪২-৪৪ টাকা দরে। লস দিয়ে বিক্রি করেছিলাম। এখন ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেওয়ায় হঠাৎ চাহিদাও বেড়েছে। আজ (মঙ্গলবার) সকাল থেকে বাজারে খুচরা বিক্রেতাদের ভিড় ছিল। ১০-২০ বস্তা করে পেঁয়াজ নিয়ে গেছে একেকজন। স্বাভাবিকভাবেই দাম কিছুটা বেড়েছে।’

বিজ্ঞাপন

ভারত-মিয়ানমারের দরজা বন্ধ— পেঁয়াজে কি গত বছরেরই পুনরাবৃত্তি?

নগরীর মোমিন রোডে হক স্টোর নামে একটি মুদির দোকানে ভারতের পেঁয়াজ প্রতিকেজি মানভেদে ৬০ টাকা ও ৬৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এর পাশেই শরীফ স্টোর নামে একটি দোকানে প্রতিকেজি ৭৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

হক স্টোরের ম্যানেজার মোহাম্মদ আলম সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করি না। ভারতের পেঁয়াজ গতকালও আমরা ৪০-৪২ টাকায় বিক্রি করেছি। গত (সোমবার) রাতে টেলিভিশনে ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে খবর দেখার পর খুচরা দোকনদাররা সবাই আজ বাড়তি দাম নিচ্ছে। যে কাস্টমার এক কেজি পেঁয়াজ কিনতেন, তিনি আজ এসে পাঁচ কেজি কিনে বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন। সারাদিন শুধু পেঁয়াজই বিক্রি করছি।’

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদফতর পেঁয়াজ রফতানি নিষিদ্ধের ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার পর সীমান্তে বাংলাদেশ অভিমুখী পেঁয়াজের ট্রাক আটকে দিয়েছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, প্রতি মেট্রিক টন ২৫০ ডলারের এলসির এই পেঁয়াজ এখন বর্ধিত মূল্য ৭৫০ ডলারে এলসি করলে তবেই সেগুলো ছাড়া হবে।

এর আগে গত বছরের (২০১৯) ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিল। এর প্রভাবে ২০১৯ সালে পেঁয়াজের কেজি ৩০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছিল।

ভারত-মিয়ানমারের দরজা বন্ধ— পেঁয়াজে কি গত বছরেরই পুনরাবৃত্তি?

দেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা আছে প্রায় ২৪ লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ মাসে ২ লাখ টন ও দিনে প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, প্রতিবছর গড়ে ২০ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ দেশের কৃষকরাই উৎপাদন করেন। আরও তিন থেকে চার লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করে বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা হয়। বাংলাদেশে আমদানি করা পেঁয়াজের সিংহভাগই আসে ভারত থেকে বিভিন্ন স্থলসীমান্ত দিয়ে। এর বাইরে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে আসে মিয়ানমারের পেঁয়াজ, তবে পরিমাণে খুবই কম। এর বাইরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে জাহাজের মাধ্যমে আসে পেঁয়াজ, যা খুবই নগণ্য পরিমাণে বলে জানিয়েছেন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে কৃষিজাত পণ্য আমদানির জন্য অনুমতি নিতে হয় বন্দরের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্র থেকে। গতবছর ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর সংকট শুরু হলে সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য এস আলম গ্রুপ, সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, বিএমএস গ্রুপসহ আরও কমপেক্ষ ২০টি প্রতিষ্ঠান। মিশর, চীন, পাকিস্তান, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, উজবেকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, এমনকি তুরস্ক থেকেও পেঁয়াজ আমদানির অনুমতিপত্র নিয়েছিল প্রতিষ্ঠানগুলো।

সূত্রমতে, ২০১৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বরের পর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চরম সংকটের সময় পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি পত্র ইস্যু হয়েছিল ১ লাখ ১ হাজার ৫২৬ মেট্রিক টনের। কিন্তু পেঁয়াজ এসেছিল ১৩৩টি ছাড়পত্রের বিনিময়ে মাত্র ১২ হাজার ১৭৩ মেট্রিক টন। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই ছাড়পত্র নিলেও পেঁয়াজ আমদানি করেনি। পরে ডিসেম্বর থেকে অবশ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

সামুদ্রিক বন্দর উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের চট্টগ্রামের উপপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বুলবুল সারাবাংলাকে বলেন, ‘গত বছর অনেক প্রতিষ্ঠান পেঁয়াজ আমদানির অনুমতিপত্র নিয়ে রেখেছিল। পরে অবশ্য খুব বেশি পেঁয়াজ বন্দর দিয়ে আসেনি। এবার আবারও সংকট শুরু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই বড় বড় আমদানিকারকেরা অনুমতিপত্র নিতে শুরু করেছেন। দেখা যাক, এবার নিশ্চয় উনারা আমদানি করবেন।’

ভারত-মিয়ানমারের দরজা বন্ধ— পেঁয়াজে কি গত বছরেরই পুনরাবৃত্তি?

বুলবুল জানান, জুন-জুলাই ও আগস্ট মাসে চীন ও মিয়ানমার থেকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এক হাজার ৮২ মেট্রিক টন পেঁয়াজ বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছে। ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১০ হাজার ৯১ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতিপত্র ইস্যু করা হয়েছে। আর মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর পর্যন্ত একবেলায় ১০ হাজার ৭৪২ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য ২১টি ছাড়পত্র ইস্যু করা হয়েছে। আরও ২৭টি ছাড়পত্র বুধবার সকালের মধ্যে ছাড় করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

‘ছোট-বড় আমদানিকারকদের ২৫টি প্রতিষ্ঠানকে আমরা এ পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানির অনুমতিপত্র দিয়েছি। পাকিস্তান, মিয়ানমার, মিশর, চীন ও তুরস্ক থেকে তারা পেঁয়াজ আমদানির ঘোষণা দিয়েছে। আমাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত হচ্ছে— সংকটের সময়ে যত দ্রুতসম্ভব আমরা ছাড়পত্র ইস্যু করব,’— বলেন আসাদুজ্জামান বুলবুল।

তবে এই উদ্যোগে তেমন আশার আলো দেখছেন না চট্টগ্রামের পাইকারি বিক্রেতা ও আড়তদারেরা। নগরীর খাতুনগঞ্জের হামিদউল্লাহ মার্কেটের আড়তদার মোহাম্মদ ইদ্রিস সারাবাংলাকে বলেন, ‘বড় বড় আড়তদাররা শুধু বড় বড় ঘোষণা দেয়। গতবারও দিয়েছিল। কিন্তু ঘোষণার তিন ভাগের একভাগ পেঁয়াজও তারা আনেনি। আমদানি যদি না করে ঘোষণা দেওয়ার দরকার কী ছিল? মাঝখান থেকে তারাই বাজারটা অস্থিতিশীল করে দিয়েছিল।’

নগরীর খাতুনগঞ্জের আড়তদার মেসার্স সোনালী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. আবসার উদ্দিন সারাবাংলাকে বলেন, ‘এখন আমদানির অনুমতি পত্র নিলে এলসি খুলতে লাগবে আরও এক সপ্তাহ। যেসব দেশ থেকে আমদানির কথা বলা হচ্ছে, সেসব দেশ থেকে পেঁয়াজ জাহাজে উঠে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে লাগবে একমাস। অথচ মূল ক্রাইসিসটা তো দুই সপ্তাহ পর থেকে শুরু হয়ে যাবে। আমার ধারণা, ভারত ও দেশের যেসব পেঁয়াজ আছে, সেগুলো দিয়ে বড়জোড় ১৫ দিন কিংবা টেনেটুনে একমাসের মতো চলবে। গতবার তো মিয়ানমার থেকে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন পেঁয়াজ ঢুকেছিল। এরপরও দাম ২০০-৩০০ টাকায় গিয়েছিল। এবার তো করোনার কারণে মিয়ানমারও রফতানি বন্ধ রেখেছে।’

২০১৯ সালে পেঁয়াজের চরম সরবরাহ সংকটের সময় মিয়ানমার আশার আলো দেখিয়েছিল। সেসময় মাত্র দুই মাসে মিয়ানমার থেকে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে রেকর্ড পরিমাণ প্রায় ৪৩ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ দেশে এসেছিল। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, মিয়ানমার থেকে যদি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পেঁয়াজ না আসত, তাহলে দেশের বাজারে কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম ৫০০ টাকায় পৌঁছে যেত!

তবে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন বলে মনে করছেন টেকনাফ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল হক বাহাদুর। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের স্থলবন্দর খোলা। কিন্তু করোনায় লকডাউনের কারণে গত জুন মাস থেকে মিয়ানমার থেকে কোনো পণ্য আসছে না। গত বছর পেঁয়াজের ক্রাইসিসের সময় প্রতিদিন মিয়ানমার থেকে ৮০ থেকে ১০০ ট্রাক পেঁয়াজ ঢুকেছিল। এবার তো পুরোপুরি বন্ধ। গতকাল (সোমবার) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিব টেকনাফ স্থলবন্দরে এসেছিলেন। উনাকে বলেছি, মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত স্থলবন্দর খোলার ব্যবস্থা করতে। না হলে পেঁয়াজের ক্রাইসিস ঠেকানো যাবে না।’

পাবনার বেড়া মার্কেটের আড়তদার ওমর আলী ফকির সারাবাংলাকে বলেন, ‘দেশের পেঁয়াজ আড়তে আসবে আগামী জানুয়ারি মাসে। ভারত যদি রফতানি শুরু না করে তাহলে এই তিন-চার মাসের পরিস্থিতি কিভাবে সামাল দেওয়া যাবে, সেটা নিয়ে এই মুহূর্তে পদক্ষেপ নিতে হবে। হয়তো ভারতকে রফতানি শুরুর জন্য বলতে হবে। অথবা মিয়ানমারকে বলতে হবে। ভারত ও মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ এলেই মূলত সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে। এর বাইরে চীন, মিশর, পাকিস্তানসহ আরও যেসব দেশের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো থেকে জাহাজে-বিমানে পেঁয়াজ এনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে না।’

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মাহবুবুল আলম অবশ্য আশাবাদী। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ‘ভারতের বিকল্প বাজার ধরতে হবে। অলরেডি আমাদের ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। গতবারও করেছিলেন। কিন্তু গতবার তো প্রথমবার ছিল, অনেকের অভিজ্ঞতা ছিল না। সেজন্য বেশি পেঁয়াজ তারা আনতে পারেননি। এবার অলটারনেটিভ মার্কেট সম্পর্কে অভিজ্ঞতা হয়েছে। এবার তারা অবশ্যই আনবেন। সরকারের উচিত তাদের উৎসাহ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া। যত দ্রুতসম্ভব চীন-মিয়ানমার-তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আসবে, তত তাড়াতাড়ি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। এছাড়া এবার দেশেও পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে। এখন কেউ যেন কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সেজন্য প্রশাসনের জোরালো নজরদারি লাগবে। চেম্বারের পক্ষ থেকে আমরাও মনিটরিং করব।’

ছবি: শ্যামল নন্দী

সারাবাংলা/আরডি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন