বিজ্ঞাপন

ফ্রন্টডেস্ক’র সাড়ে ২১ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি

September 16, 2020 | 1:28 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বারিধারায় অবস্থিত ফ্রন্টডেস্ক বাংলাদেশ নামক একটি মানবসম্পদ প্রতিষ্ঠান তথ্য গোপন করে ২১ কোটি ৫০ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে। যার জন্য ভ্যাট গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। বুধবার ( ১৬ সেপ্টেম্বর) সারাবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভ্যাট গোয়েন্দার মহাপরিচালক ড. মইনুল খান।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, বারিধারা ডিওএইচএসে অবস্থিত ফ্রন্টডেস্ক বাংলাদেশ লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি দেশের খ্যাতনামা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে টেকনিক্যাল ও সাধারণ মানবসম্পদ সেবা বিক্রি করে থাকে। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে প্রতিষ্ঠানটি এই সেবা বিক্রি করে আসছে। ভ্যাট ফাঁকির গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভ্যাট গোয়েন্দার একটি দল ১০ আগস্ট বারিধারার অফিসে অভিযান চালায়। এতে ভ্যাট আইনের ৮৩ ধারা প্রয়োগে তাদের কম্পিউটার ও সংরক্ষিত বাণিজ্যিক কাগজপত্র জব্দ করা হয়।

মইনুল খান আরও জানান, এসব তথ্যাদি যাচাই করে দেখা যায় ফ্রন্টডেস্ক প্রকৃত সেবা বিক্রি মূল্য গোপনে নামমাত্র সেবা মূল্য তাদের ভ্যাট রিটার্ন প্রদর্শন করে বিপুল ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে। ভ্যাট গোয়েন্দার তদন্তে দেখা যায়, ফেব্রুয়ারি ২০১৫ থেকে জুলাই ২০২০ পর্যন্ত ৩২ কোটি ৮৪ লাখ টাকার সেবা বিক্রি দেখানো হয়েছে। এর বিপরীতে তারা ভ্যাট দিয়েছে ২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। কিন্তু জব্দ করা কাগজপত্র অনুযায়ী ফ্রন্টডেস্ক প্রকৃত সেবা বিক্রি করেছে ১২৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এই বিক্রির ওপর ভ্যাট দেয়ার কথা ১৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

শুধু তাই নয়, মানবসম্পদ প্রতিষ্ঠানটি এই পাঁচ বছরে ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে ১৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকার। ভ্যাট আইন অনুসারে যথাসময়ে ভ্যাট না দেওয়ায় এই ফাঁকির ওপর মাসিক ২ শতাংশ হারে সুদ প্রযোজ্য হয়েছে ৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোট ২১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা আদায়যোগ্য। ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদফতর ফ্রন্টডেস্কের বিরুদ্ধে ২১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ভ্যাট ফাঁকির মামলা করেছে। এই ভ্যাট ফাঁকির দায়ে ন্যায় নির্ণয়নের মাধ্যমে এই রাজস্বের অতিরিক্ত সমপরিমাণ ব্যক্তিগত জরিমানা আরোপ হতে পারে। ফ্রন্টডেস্ক প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেটের আওতাভুক্ত হওয়ায় ভ্যাট ফাঁকির টাকা আদায় এবং ভ্যাট ফাঁকির অপরাধের ন্যায় নির্ণয়নের জন্য ঢাকা উত্তর কমিশনারেটে পাঠানো হবে বলেও জানান মইনুল খান।

বিজ্ঞাপন

ভ্যাট গোয়েন্দার তদন্তে দেখা যায়, দেশের নামিদামি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এই মানবসম্পদ সেবার গ্রাহক। এদের মধ্যে রয়েছে লাফার্জ হোলসিম, বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশন্স লিমিটেড, মাইক্রো বাংলাদেশ লিমিটেড, ফিনটেক সলিউশন লিমিটেড, বার্জার পেইন্টস লিমিটেড, নোভার্টিস বাংলাদেশ লিমিটেড, পিএন্ডজি বাংলাদেশ লিমিটেড, অপসোনিন ফার্মা লিমিটেড, রবি এক্সিয়াটা লিমিটেড, জুটন বাংলাদেশ লিমিটেড, এপিএম গ্লোবাল লজিস্টিক লিমিটেড ও এমএনএস বাংলাদেশ।

সারাবাংলা/এসজে/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন