বিজ্ঞাপন

একমাসের মধ্যে পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক— আশ্বাস মন্ত্রীর

September 16, 2020 | 5:50 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ার পেছনে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি দেখছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। প্রকৃতপক্ষে দেশে পেঁয়াজের কোনো সংকট নেই বলে দাবি করেছেন তিনি। একইসঙ্গে মন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন, আগামী একমাসের মধ্যে বাজারে পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক হবে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাজারে পেঁয়াজ নিয়ে অস্থিরতা দূর করতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ভারত সরকারের পেঁয়াজ রফতানি না করার সিদ্ধান্তের সুযোগ নিয়েছে দেশের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। বছরে দেশে ৪ লাখ টন পেঁয়াজের ঘাটতি তৈরি হলেও এই মুহূর্তে দেশে পেঁয়াজের সংকট নেই। সাধারণ ক্রেতাদের এ নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন- ভারত-মিয়ানমারের দরজা বন্ধ— পেঁয়াজে কি গত বছরেরই পুনরাবৃত্তি?

বিজ্ঞাপন

পেঁয়াজ আমদানির ওপরে আরোপ করা ৫ শতাংশ শুল্ক ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রত্যাহারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি অনুরোধ করেছেন বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ভারত হঠাৎ করে না জানিয়ে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করলো, অথচ ভারতে সঙ্গে আমরা সম্পর্কের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আছি। কিন্তু যখন বাণিজ্য প্রসঙ্গ এলেই আমরা নানা সমস্যা দেখতে পাই।

এ ক্ষেত্রে কূটনৈতিকভাবে কোনো উদ্যোগ নেওয়া যায় কি না— এমন প্রশ্নের উত্তরে টিপু মুনশি বলেন, প্রথম বিষয় হলো রাজনৈতিক। গতবার  তারা পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছিল, এবারও তারা বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু গতবার বন্ধ করার আগে তারা ন্যূনতম একটি দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল। তার পরের ধাপে ২৯ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছিল। তখন ওদের দেশেও ১৫০ রুপি দরেও পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে। সেসময় পশ্চিমবঙ্গে রেশনের দোকানে পেঁয়াজ বিক্রি করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, আমরা গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে পেঁয়াজের দামের ফলোআপ করতে থাকি। এতে দেখা যায়, গত ১৫ দিন ধরে নাশিকে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। সে বিবেচনায় বন্ধ করার আগেই মন্ত্রণালয় টিসিবিকে বলেছে এলসি ওপেন করে ফেলতে। আমরা ভেবেছিলাম দাম বাড়বে, ভাবিনি ভারত রফতানি বন্ধ করে দেবে। যেদিন বন্ধ করে দিলো, সেদিন বিকেল পর্যন্ত আমার ধারণা ছিল তারা বন্ধ করবে না, হয়তো ন্যূনতম একটি দাম নির্ধারণ করে দেবে। সেটা না করে হঠাৎ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে আমরা চাপে পড়েছি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন- একদিনে পেঁয়াজের কেজি ৬০ থেকে ১০০ টাকা

পেঁয়াজ নিয়ে গভীর কোনো রাজনীতি আছে কি না— জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমি বাণিজ্যমন্ত্রী, বাণিজ্য বুঝি। এর পেছনে কোনো গভীর রাজনীতি আছে কি না, সে উত্তর আমি দিতে পারব না। সে উত্তর দেওয়া আমার কাজও নয়। আমরা ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নোট পাঠিয়েছেন, কেন বিনা নোটিশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করা হলো। এছাড়া যে পেঁয়াজ সীমান্তে আটকে আছে, সেগুলোর ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পেঁয়াজ নিয়ে সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভারতেও কিন্তু পেঁয়াজের দামটা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এখন এ কারণে নাকি অন্য কোনো কারণে বন্ধ করেছে, সেটা আমি জানি না। তবে এটা বলতে পারি— আমরা গতবারের চেয়ে এবার কিছুটা বেশি প্রস্তুতি নিয়েছি। ভারত রফতানি বন্ধ করায় একমাস কিছুটা চাপ পড়বে আমাদের ওপর। এই সময়ে আমরা যদি অসাধু ব্যবসায়ীদের একটু চাপে রাখতে পারি, তাহলে আশা করছি একমাসের মধ্যে অন্যান্য বাজার থেকে পেঁয়াজ এনে দাম স্বাভাবিক করতে পারব।

বিজ্ঞাপন

সীমান্তে আটকে থাকা পেঁয়াজ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গতকাল রাতেই রীভা গাঙ্গুলীর (ঢাকায় নিযুক্ত বিদায়ী ভারতীয় হাইকমিশনার) সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন, এক থেকে দুই দিনের মধ্যে বর্ডারে যেগুলো আছে, সেগুলোর বিষয়ে কথা বলবেন এবং এ সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

অসাধু ব্যবসায়ীদের জবাবদিহিতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা যখনই চাপ দিয়েছি, তখন বাজার থেকে পেঁয়াজ হাওয়া হয়ে গেছে। আর কত মামলা করব? জেলেই বা কয় জনকে ভরব? আমরা সেজন্য জরিমানা করছি। একদিন শুধু খাতুনগঞ্জে আমাদের মিনিটরিং টিম গেছে, পুরা বাজার বন্ধ হয়ে গেছে। তাই আমাদের লাঠি ভাঙা চলবে না, সাপও মারা চলবে না। এজন্য আমরা জরিমানা বাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেছি।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ভারত কিংবা মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ না পাওয়া গেলেও শিগগিরই অন্য কোনো দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হবে। সেটা হতে পারে মিশর কিংবা তুরস্ক। তাই পেঁয়াজ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। বাজারে বর্তমানে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা কেটে যেতে একমাসের মতো সময় লাগবে।

বিজ্ঞাপন

সচিব বলেন, আমরা সবদিক থেকে আগেই প্রস্তুত ছিলাম। এবার আমাদের পেঁয়াজ উৎপাদন বেশি হয়েছে। আমরা টিসিবিকে আগামী মার্চ পর্যন্ত বা নতুন পেঁয়াজ না আসা পর্যন্ত পেঁয়াজের জন্য এলসি খুলতে বলেছি। বর্তমানে আমাদের দেশে ৫ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ মজুত আছে। শুধু সেপ্টেম্বরে আমদানি হয়েছে ৪৪ হাজার মেট্রিক টন। আগস্টে এলসি ওপেন হয়েছে ৭২ হাজার মেট্রিক টনের, জুলাইয়ে এলসি হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার মোট্রিক টনের। তাই বলতে চাই, আমাদের দেশীয় পেঁয়াজের যে সরবরাহ আছে, তা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

এর আগে, বাজারে পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি ঠেকাতে ৯ দফা উদ্যোগ নেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব, দেশের আট বিভাগীয় কমিশনার ও দেশের ৬৪ জেলা প্রশাসকের কাছে বাজার মনিটরিং জোরদারের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। ফরিদপুর, পাবনা, রাজবাড়ী, নাটোর— এই জেলাগুলোর জেলা প্রশাসকদের পেঁয়াজের উৎপাদন, মজুত, সরবরাহ ও দাম ঠিক রাখতে সক্রিয় ভূমিকা পালনে ডিও লেটার পাঠানো হয়েছে। পেঁয়াজের বিষয়ে দ্রুত সঙ্গনিরোধ সনদ ইস্যু করার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানিকারকদের এলসি খোলাসহ সার্বিক সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ বাংকের গভর্নরের কাছে চিঠি পাঠানো হয়োছে, স্থলবন্দর থেকে দ্রুত সময়ে ছাড় করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে পেঁয়াজ আমদানিতে ৫ শতাংশ শুল্ক কমাতেও চিঠি দেওয়া হয়েছে। পেঁয়াজের বাজার সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম সহনীয় রাখতে বেনাপোল, ভোমরা, সোনা মসজিদ ও হিলি স্থলবন্দর থেকে দ্রুত ছাড় করতে স্থলবন্দর চেয়ারম্যানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পেঁয়াজের উৎপাদন, মজুত ও মূল্য পরিস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে বাণজ্য মন্ত্রণালয়ের তিন যুগ্ম সচিবকে পাবনা, রাজবাড়ী ও ফরিদপুর পাঠানো হয়েছে। এছাড়া স্থল ও নদীবন্দরে পেঁয়াজের আমদানি পরিস্থিতি, কন্টেইনার জট ও কৃত্রিম সংকট আছে কি না, তা দেখে প্রতিবেদন দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন