বিজ্ঞাপন

খাদ্য সংকট মোকাবিলায় ২ লাখ মেট্রিক টন গম কেনার প্রস্তাব অনুমোদন

September 16, 2020 | 8:00 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: করোনাভাইরাস, বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যাতে দেশে খাদ্য সংকট দেখা না দেয় সেজন্য ২ লাখ মেট্রিক টন গম আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রাশিয়া থেকে এই পরিমান গম কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনলাইন সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাশিয়ান ফেডারেশন থেকে জি-টু-জি (সরকার টু সরকার) পদ্ধতিতে ২ লাখ মেট্রিক টন গম আনতে মোট ব্যয় হবে ৪৩৭ কোটি ৫৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নাসিমা বেগম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের মাধ্যমে ৬০:৪০ অনুপাতে এ গম আমদানি করা হবে। প্রতি মেট্রিক টনের ২৫৮ মার্কিন ডলার হিসেবে ২ লাখ মেট্রিক টন গমের জন্য ব্যয় হবে ৫ কোটি ১৬ লাখ মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৩৭ কোটি ৫৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদেশ থেকে গম কেনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক দরপত্র-কোটেশনের পাশাপাশি জি-টু-জি পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। জি-টু-জি পদ্ধতিতে গম আমদানির লক্ষ্যে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তিও রয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে দেশটির সরকারি সংস্থা ‘ফরেন ইকোনমিক কো-অপারেশন প্রদিনতোর্গ’ থেকে দুই লাখ মেট্রিক টন গম আমদানি করা হবে।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, গত ১৮ মে রাশিয়ান ফেডারেশনের সরকারি সংস্থা চলতি (২০২০-২০২১) অর্থবছরের জন্য গম বিক্রির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে সরকারকে চিঠি দেয়। ওই চিঠি পাওয়ার পর জি-টু-জি পদ্ধতিতে গম কেনার জন্য ‘ফরেন ইকোনমিক কো-অপারেশন প্রদিনতোর্গ’র প্রতিনিধি দলকে ভার্চুয়াল সভায় অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

এরপর গত ৮ জুলাই রাশিয়ান প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বাংলাদেশের জি-টু-জি পদ্ধতিতে ক্রয় বিষয়ক কমিটির ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় গম আমদানির জন্য চুক্তির শর্ত ও দাম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তবে সেদিন আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় সভা মুলতবি ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে গত ৪ আগস্ট আবারও ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রাশিয়ান ফেডারেশন থেকে প্রতি মেট্রিক টন ২৫৮ মার্কিন ডলার ধরে দুই লাখ মেট্রিক টন গম বাংলাদেশকে দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছায় উভয় পক্ষ। এরপরই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’র সভায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) জন্য ২০২১ সালে জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে বিভিন্ন বিভাজনে সর্বমোট ৪৯ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে। বিভাজনগুলো হলো- গ্যাস অয়েল ৩৯ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন, জেট এ-১ চার লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন, মোগ্যাস ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন, ফার্নেস অয়েল ৮০ হাজার মেট্রিক টন এবং মেরিন ফুয়েল ২ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন।

সারাবাংলা/জেআর/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন