বিজ্ঞাপন

ন্যাশনাল আইডিয়ালে ‘বেতন ডাকাতি’— ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী-অভিভাবক

September 17, 2020 | 7:19 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: করোনাভাইরাসের কারণে গত মার্চ থেকে বন্ধ সব স্কুল-কলেজ। এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কার্যক্রম এই সেপ্টেম্বরে এসে সম্পন্ন করতে হচ্ছে কলেজগুলোকে। সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা আছে, স্কুল-কলেজ খোলা না গেলে অক্টোবর থেকে একাদশের ক্লাস অনলাইনে শুরু করতে হবে। অথচ ভর্তির সময় জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বেতনও নিচ্ছে ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজ!

বিজ্ঞাপন

কোনো ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম না থাকলেও এই তিন মাসের জন্য দুই হাজার টাকা করে ছয় হাজার টাকা বেতন নেওয়ায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা। তারা বলছেন, ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজ রীতিমতো ‘বেতন ডাকাতি’ করছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ অবশ্য এটিকে অন্যায্য মনে করছে না। স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষাবর্ষের শেষ মাস জুনের পরও যদি পাঠদান করতে হয়, তার জন্য বেতন না নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে তারা। আর শিক্ষা বোর্ড বলছে, শিক্ষা কার্যক্রম না থাকা এসব মাসের বেতন নিতে নিষেধ করা হয়েছে কলেজগুলোকে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে এ বছর স্বাভাবিক সময়ের প্রায় তিন মাস পর শুরু হয়েছে একাদশে ভর্তি কার্যক্রম। আগস্টের শেষভাগে শুরু হয়ে এখন কলেজগুলোতে চলছে ভর্তি প্রক্রিয়া। ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজে সেই ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়েই শিক্ষার্থীরা দেখছেন, তাদের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসের বেতন দিতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

খিলগাঁওয়ের এই কলেজে ভর্তি হওয়া এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সারাবাংলার কাছে ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন ডাকাতি করছে ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজ। ক্লাস শুরু হবে অক্টোবর মাসে, ছেলেকে ভর্তি করাচ্ছি সেপ্টেম্বর মাসের শেষে। অথচ ওরা বেতন নিচ্ছে জুলাই থেকে। শিক্ষার নামে এই প্রতিষ্ঠানটি ডাকাতি করছে।’

তিনি বলেন, ‘কোন যুক্তিতে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না পড়িয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এভাবে টাকা আদায় করে? করোনার সময় অর্থনৈতিক মন্দার কারণে যখন আমরা পথে বসতে চলেছি, তখন তারা আমাদের কাছ থেকে শিক্ষার নাম করে পকেট কাটার উৎসব শুরু করেছে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিভাবে এতেটা অমানবিক হয়?’

বিজ্ঞাপন

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক শিক্ষার্থীর ভাই বলেন, এসব কলেজ নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের কি কোনো মনিটরিং সেল নেই? শিক্ষার নামে এমন অনৈতিক বাণিজ্য করা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে শিক্ষার্থীরা কী শিখবে!

এই দুই অভিভাবকের মতো আরও কয়েকজন অভিভাবক সারাবাংলার কাছে একই অভিযোগ করেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের ভর্তি করার সময় ২০০০ টাকা করে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬০০০ টাকা আদায় করছে প্রতিষ্ঠানটি। অথচ এই শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে, তা এখনো বলা যাচ্ছে না। অনলাইন ক্লাস শুরুর কথাও রয়েছে আগামী অক্টোবর মাসে।

বিজ্ঞাপন

কথা বলে জানা গেল, গণমাধ্যমের কাছে ক্ষোভ জানালেও কলেজের এই ‘অনিয়ম’ নিয়ে কোনো অভিভাবকই ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে অভিযোগ করছেন না। তাদের আশঙ্কা, অভিযোগ করলে পরবর্তী সময়ে তাদের সন্তানদের ক্ষতি হতে পারে।

ক্লাস না করিয়েও তিন মাসের বেতন নেওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মাকসুদ উদ্দীনের দাবি, এটি কোনোভাবেই অন্যায় নয়। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, আমরা দুই বছর সময়ের জন্য শিক্ষার্থীদের ভর্তি করাই। এজন্য জুলাই মাস থেকে বেতন নিচ্ছি। পরের বছরের জুন মাসে শিক্ষাবর্ষ শেষ হওয়ার কথা। এরপরও যদি তাদের পড়াতে হয়, আমরা পড়াব। তার জন্য আলাদা করে বেতন নেব না।

বিজ্ঞাপন

করোনা সতর্কতায় পিছিয়ে যাওয়া এইচএসসি পরীক্ষায় যাদের অংশ নেওয়ার কথা ছিল, তাদের কাছ থেকেও খিলগাঁও আইডিয়াল কোনো বেতন নিচ্ছে না বলে জানান অধ্যক্ষ। যদিও তার এই বক্তব্যের বিপরীত দাবি কয়েকজন এইচএসসি পরীক্ষার্থীর। তারা বলছেন, বেতন আদায় করতে করোনার সময়েও কলেজ থেকে ফোন দেওয়া হয়েছিল তাদের। পরীক্ষার আগে হয়তো কোনো বাহানায় বেতন আদায় করাও হতে পারে।

এসব বিষয়ে জানতে চাই ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক হারুন-অর-রশীদের কাছে। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত যেহেতু একটি শিক্ষাবর্ষ ধারা হয়, সেক্ষেত্রে বেতন নেওয়া যায়। তবে আমরা করোনার কারণে এই বেতন নিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিষেধ করেছি। আমরা তাদের সর্বোচ্চ ছাড় দিতে বলেছি। ন্যাশনাল আইডিয়ালের বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখব।

বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (কলেজ) আব্দুল্লাহ আল হাসান চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এটিকে শিক্ষা বোর্ডের দায়িত্ব বলে জানান। তবে এই তিন মাসে বেতন আদায়ের ঘটনাকে ‘অমানবিক আচরণ’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সারাবাংলা/টিএস/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন