বিজ্ঞাপন

সকালের ৭ অভ্যাসে জীবন যাবে বদলে

September 20, 2020 | 7:30 am

সাজিয়া আক্তার 

জীবনকে নতুন করে উপভোগ করার জন্য প্রতিটা সকাল আসে সবার। কিন্তু নিজেদের ভুলেই কিংবা অভ্যাসের দোষে-গুণে দিনটা কারো যায় ভালো, কারো যায় মন্দ। এ কথা সত্য যে, প্রতিটি নতুন দিন প্রত্যেকের জন্য নতুন নতুন সুযোগ নিয়ে আসে। সুযোগগুলোর সঠিক ব্যবহার করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

দিনের শুরুটা যদি হয় ভালো তবে পুরো দিনটাই ভালো যাবে; একথা অনেকেই মানেন এবং সেই অনুসারে কাজ করেন। জীবনের লক্ষ্য অর্জনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। আর সেই লক্ষ্যে পৌঁছনোর সেরা উপায় হলো— দিনটি সঠিকভাবে শুরু করা। কারণ দিনের শুরুই সারাদিনের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

স্বভাবতই প্রশ্ন আসে, দিনের শুরুটা কিভাবে করবেন?

বিজ্ঞাপন

কুসুম গরম পানিতে আদা, রসুন এবং মধু দিয়ে খাওয়ার উপকারিতা অনেকেরই জানান। এছাড়া সকালে কিছু ছোট ছোট অভ্যাস আপনার দিনটিকে শক্তিশালী করে তুলতে পারে। চলুন জেনে নিই সেসব অভ্যাসগুলো সম্পর্কে—

বিছানা গোছানো
এটা অনেকের কাছে বিরক্তিকর হলেও সকালে ঘুম থেকে উঠে বিছানা গোছানো কতটা জরুরি তা হয়তো অনেকেই জানেনা। সকালে আপনার বিছানা গোছানোই আপনাকে সারাদিন সংগঠিত রাখতে সহায়তা করবে। জেনে অবাক হবেন; সকালে বিছানা গোছালে আপনার গোটা দিনটিও গোছানো হবে। হয়তো এটি আপনার কাছে সাধারণ গৃহস্থালির কাজ মনে হতে পারে, কিন্তু এর একটি মনস্তাত্ত্বিক দিক রয়েছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে আপনি আপনার বিছানা গোছানোর পর মানসিক তৃপ্তি পাবেন এবং আপনার কাছে মনে হবে, দিনের প্রথম কাজটি শেষ করে ফেলেছেন।

বিজ্ঞাপন

পানি পান
পানির অপর নাম জীবন। হ্যাঁ, আমাদের শরীর ভালো থাকার জন্য যথেষ্ট পানির প্রয়োজন। তাই সকালের শুরুটা হোক পানি দিয়েই। সকালে খালি পেটে এক গ্লাস পানি পান করলে শরীর থেকে সব ধরনের টক্সিন বের হয়ে যায়। ঠাণ্ডা, গরম কিংবা লেবু-পানি; যেটাই হোক না কেন, পানি আপনাকে পান করতেই হবে। সকালে কমপক্ষে দুই গ্লাস পানি পান করলে আপনার নিজের কাছেই মনে হবে যেন অফুরন্ত শক্তি সঞ্চার হয়েছে শরীরে।

শরীরচর্চা
প্রতিদিন সকালে একটুখানি শরীরচর্চা আপনাকে প্রাণবন্ত করে তুলবে। যে ধরনের শরীরচর্চাই করুন না কেন সেটাই আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাই শরীরকে সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর রাখার জন্য সকালে কিছুটা সময় বের করুন শরীরচর্চায়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞান বলছে, সকালে শরীরচর্চা কিংবা শারীরিক পরিশ্রম; যেটাই হোক না কেন তা শরীর থেকে সুখী হরমোন নিঃসৃত করতে সহায়তা করে। আর এতে সারাদিনই আপনার আনন্দে কাটে।

কাজের তালিকা তৈরি
সারাদিন কী-কী কাজ করবেন তার একটা তালিকা তৈরি করে নেওয়ার অভ্যাস তৈরি করুন। এতে আপনার সময় যেমন বাঁচবে তেমনি সময়মতো কাজটা করতে পারবেন। আগের দিনের জমে থাকা কাজ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করুন। তাহলে কোনো কাজই বাদ যাবে না। কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ অসম্পূর্ণ থাকবে না। এভাবে রুটিন তৈরি করে কাজ করলে কাজ অনেক সহজ হবে।

বিজ্ঞাপন

ফোনকে না বলুন
সকালে ঘুম থেকে উঠেই ফোন হাতে নিবেন না। এমন অভ্যাস যদি আপনার থেকে থাকে তবে তা আজই বদলে নিন। কারণ এই অভ্যাস আপনার সারাদিনের কাজে ব্যাঘাত ঘটাবে। যদিও এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, মোবাইল ফোন সত্যিই আমাদের জীবনকে সহজ করে তুলেছে এবং এটি ছাড়া চলার কথা আমরা কল্পনাও করতে পারি না। তবুও সকালে ফোন দেখা বন্ধ করুন এবং সকালটা নিজেকে সময় দিন ও মন শান্ত রাখুন। কয়েক ঘণ্টা ফোন থেকে দূরে থাকা এমন কিছু কঠিন কাজ নয়।

নিজেকে তৈরি করুন
দিনের শুরুটাই হযবরল করে ফেলবেন না। খবরের কাগজ পড়া, কাপড় ইস্ত্রি করা, গোসল করা; রুটিন করে নিন কোনটার পরে কোনটা করবেন। এসব ঠিক করতে অনেকেই হিমশিম খেয়ে যায়। তাই সকালে কিভাবে নিজেকে তৈরি করবেন তার একটি রুটিন তৈরি করুন, না হলে সমস্যায় পড়বেন। এটি কেবল সময়ই সাশ্রয় করবে না, পাশাপাশি আপনাকে সুশৃঙ্খল হতে সহায়তা করবে।

নাস্তা করুন
সকালে নাস্তা করার অভ্যাস অনেকেরই নেই। ফলে দিনটি ভালো যায় না। কারণ সকালে নাস্তা করার সাথে দিনটা ভালো যাওয়ার সম্পর্ক আছে। সকালে খালি পেটে ঘর থেকে বের হওয়া উচিত নয়। এতে কর্মস্পৃহা কমে যায়। তাই প্রতিদিন সকালে ভালো করে পুষ্টিকর খাবার দিয়ে সকালের নাস্তাটা করুন, দেখবেন দিনটা ভালো যাবে। আপনি যা পছন্দ করেন তাই খান, কিন্তু অতিরিক্ত খেয়ে ফেলবেন না; এতে আপনার ঘুম পাবে এবং অলস বোধ করবেন।

লেখার সূত্র: টাইমসঅবইন্ডিয়া

সারাবাংলা/এসবিডিই/আইই

বিজ্ঞাপন

Tags:

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন