বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ‘রাঘব বোয়াল’ ৪৫ জনের সম্পদের খোঁজে দুদক

September 22, 2020 | 4:51 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, বদলি ও বিভিন্ন উপায়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন— স্বাস্থ্য অধিদফতরের এমন ৪৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, ২০১৯ সালে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ৪৫ জনের সম্পদের খোঁজ নিতে অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়।

দিলোয়ার বখত বলেন, এরই মধ্যে ২১ জনের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী দাখিল করার জন্য দুদকের পক্ষ থেকে নোটিশ জারি করা হয়েছে। এর সঙ্গে তাদের আত্মীয়স্বজন জড়িত থাকার ফলে সব মিলিয়ে ৪৩ জনের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণীর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আবজাল যেমন সম্প্রতি প্রচুর সম্পদের মালিক হয়েছেন, কিন্তু তারা বুঝতে পারে না তারা যে প্রচুর সম্পদের মালিক। এগুলো অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসবে। অনুসন্ধানের আগে কিছুই বলা যাবে না।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন- স্থাস্থ্য খাতের ১২ কর্মীসহ ২০ জনের সম্পদের বিবরণ চায় দুদক

তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি করার পর ধরার চেয়ে আগে থেকে প্রতিরোধ করা ভালো। সেজন্য আমরা প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে সুপারিশ করেছি। তাহলে দুর্নীতি কমে যাবে। সেই অনুযায়ী মন্ত্রণালয়গুলোর ব্যবস্থা নেওয়া দায়িত্ব। এছাড়া অনুসন্ধানে যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে দুদক মামলা করছে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য অধিদফতরের যে ৪৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর অবৈধ সম্পদের খোঁজে দুদক তারা হলেন— জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুন্সী সাজ্জাদ হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদফতর মহাখালী অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (প্রশাসন-২) কবির আহমেদ চৌধুরী ও মো. হুমায়ুন কবীর, কুয়েত মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মেডিক্যাল এডুকেশন শাখার অফিস সহকারী খাইরুল আলম, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের হিসাবরক্ষক মো. মজিবুর রহমান, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শহীদ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামান, স্বাস্থ্য অধিদফতরের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন শাখার উচ্চমান সহকারী রেজাউল ইসলাম, মহাপরিচালক দফতরের সহকারী প্রধান মো. জোবায়ের হোসেন, সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের প্রধান সহকারী এম কে আশেক নওয়াজ, স্বাস্থ্য অধিদফতরের ইপিআই ভবন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর তোফায়েল আহমেদ ভূইয়া, স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার অফিস সহকারী কামরুল হাসান, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (ইপিআই) মো. মজিবুল হক মুন্সি, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ওবাইদুর রহমান, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিসাব রক্ষক মো. ইমদাদুল হক, স্বাস্থ্য অধিদফতরের আলোচিত গাড়িচালক আব্দুল মালেক, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মাহমুদুজ্জামান, শহীদ তাজউদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের স্টোর অফিসার মো. নাজিম উদ্দিন, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন, বরিশাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক কার্যালয়ের সহকারী প্রধান পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মীর রায়হান আলী, গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিক্যাল কলেজের স্টেনোগ্রাফার-কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. সাইফুল ইসলাম, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের হিসাব রক্ষক এটিএম দুলাল, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, মুগদা মেডিক্যাল কলেজের হিসাব রক্ষক আবদুল্লাহ হেল কাফি, স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ফারুক হাসান, প্রধান সহকারী মো. আশরাফুল ইসলাম, মো. সাজেদুল করিম, উচ্চমান সহকারী মো. তৈয়বুর রহমান, উচ্চমান সহকারী মো. সাইফুল ইসলাম।

এই তালিকায় আরও আছেন— চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য অধিদফতরের উচ্চমান সহকারী মো. ফয়জুর রহমান, রংপুর মেডিক্যাল কলেজের হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আলিমুল ইসলাম, সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজের ল্যাব সহকারী আব্দুল হালিম ও সুব্রত কুমার দাস, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সচিব মো. আনায়ার হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের গাড়িচালক মো. শাহজাহান, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের স্টোর কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হাসেন, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের হিসাবরক্ষক আব্দুল মজিদ, স্বাস্থ্য অধিদফতরের স্টোর ম্যানেজার ইপিআই হেলাল তরফদার, ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতারের স্টোরকিপার সাফায়েত হোসেন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের সিনিয়র স্টোর কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ও কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের হিসাবরক্ষক আব্দুল মজিদ।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এসজে/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন