বিজ্ঞাপন

এইচএস কোড জালিয়াতি: তবু পণ্য ছেড়ে দিলো আইসিডি কাস্টম

September 22, 2020 | 8:50 pm

শেখ জাহিদুজ্জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: এক এইচএস কোডের পণ্য আমদানি করা হয়েছিল অন্য পণ্যের এইচএস কোডে। এর মাধ্যমে ফাঁকি দেওয়া হয় প্রায় দেড় কোটি টাকার রাজস্ব। শুল্ক গোয়েন্দা এ তথ্য পেলে পণ্যটির খালাস আটকে দেয়। কিন্তু সেই স্থগিতাদেশ (লক) আমলে না নিয়েই আইসিডি (ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো) কাস্টম পণ্য চালানটির কায়িক পরীক্ষা ও শুল্কায়ন শেষ করে পণ্যের চালানটি ডেলিভারি দেওয়ার প্রস্তুতি নেয়। ট্রাকে লোড করা হয় পণ্য। তবে সেই চালান আটকে দেয় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর।

বিজ্ঞাপন

শেষ পর্যন্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হস্তক্ষেপে ব্যাংক গ্যারান্টি রেখে পণ্যটি ছাড় করে আইসিডি কাস্টম, যদিও শুল্ক ফাঁকির এমন ঘটনায় জরিমানার বিধান থাকলেও তা করা হয়নি। উল্টো ব্যাংক গ্যারান্টি কেন রাখা হলো, তা নিয়ে আদালতে রিট করেছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান তানাজ এন্টারপ্রাইজ। আইসিডি কাস্টম হাউজের এমন কর্মকাণ্ড এনবিআরকে বিব্রত করেছে।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান তানাজ এন্টারপ্রাইজ চীন থেকে সিল্ড অ্যাকুমুলেটর পাওয়ার ব্যাংক কলোইডাল জেল ব্যাটারি আমদানি করে। ১৩ আগস্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এসএইচ ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে পণ্য খালাসে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে। পণ্যটির প্রকৃত এইচএস কোড ৮৫০৭২০৯০, তবে চালানে এইচএস কোড উল্লেখ করা হয় ৮৫০৭৮০৯০। মোট পণ্যের পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ৫৮০টি।

বিজ্ঞাপন

এনবিআর সূত্র বলছে, এইচএস কোড ৮৫০৭২০৯০ হলে মোট শুল্ককর (টিটিআই) হয় ৮৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। আর এইচএস কোড ৮৫০৭৮০৯০ হলে শুল্ককর (টিটিআই) হয় ৫৮ দশমিক ৬০ শতাংশ। পণ্যটির প্রতি কেজির সর্বনিম্ন শুল্কায়ন মূল্য ২ দশমিক ৭৫ ডলার। ৮৯ দশমিক ৩২ শতাংশ শুল্ককর হলে চালানটির শুল্ককর দাঁড়ায় ২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। কিন্তু আমদানিকারকের ঘোষণা অনুযায়ী পণ্য ছাড় করা হলে রাজস্ব ফাঁকি দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

এইচএস কোড বদলে দেওয়ার মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি চিহ্নিত করতে পেরে শুল্ক গোয়েন্দা ১৩ আগস্ট অ্যাসাইকুডা সিস্টেমে চালানটির খালাস স্থগিত (লক) করে দেয়। এরপরও আইসিডি কমলাপুর ১৭ আগস্ট পণ্যটির শুল্কায়ন করে। ১৮ আগস্ট ছয়টি ট্রাকভর্তি পণ্য আইসিডি খালাস পয়েন্টে খালাসের অপেক্ষায় থাকে। পরে শুল্ক গোয়েন্দার টিম খবর পেয়ে খালাস পয়েন্ট থেকে ট্রাকভর্তি পণ্যটির চালান আটকে দেয়।

বিজ্ঞাপন

তানাজ এন্টারপ্রাইজের আমদানি করা পণ্যের ওই চালান লক করার পরও আইসিডি কাস্টম তা ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিলে বিষয়টি এনবিআরকে জানায় শুল্ক গোয়েন্দা। তখন এনবিআরের প্রথম সচিব (শুল্ক নীতি) এ কে এম নুরুল হুদা আজাদের নেতৃত্বে দ্বিতীয় সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম ও মোহাম্মদ মেহেরাজ উল আলম সম্রাট এবং শুল্ক গোয়েন্দার প্রতিনিধি ডিসি মো. মাজেদুল হক ও সহকারী কমিশনার নাসরিন আক্তার ইতি আইসিডি কাস্টম হাউজে গিয়ে পণ্য চালানটি পরীক্ষা করেন। প্রতিষ্ঠানটি মিথ্যা ঘোষণায় রাজস্ব ফাঁকি দিতে অন্য এইচএস কোডে পণ্য খালাসের চেষ্টা করেছে বলে মত দেয় প্রতিনিধিদল। কিন্তু কমলাপুর আইসিডি কাস্টম হাউজ আমদানিকারকের ঘোষণা অনুযায়ী পণ্য ছাড়ে অনড় থাকে।

এ অবস্থায় এনবিআরের চাপে ব্যাংক গ্যারান্টির টাকাসহ রাজস্ব ফাঁকির টাকা নিয়ে ২৩ আগস্ট পণ্য চালানটি ছেড়ে দেওয়া হয়। অথচ পণ্যটি ছাড়ার সময় মিথ্যা ঘোষণায় আনা পণ্য আটক হলে দ্বিগুণ জরিমানার বিধান রয়েছে। আইসিডি কাস্টম তানাজ এন্টারপ্রাইজকে সেই জরিমানা করেনি। বরং পণ্যের চালানটি ছাড় করে নিয়ে ব্যাংক গ্যারান্টি কেন নেওয়া হলো— তা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট করেছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। তাদের দাবি, সমজাতীয় পণ্যে একই হারে শুল্কায়নে এর আগে আদালতের রায় তার পক্ষে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় এনবিআর বলছে, আইসিডি কাস্টম শুল্ক গোয়েন্দার তথ্য আমলে নিয়ে এবং প্রথমেই আমদানিকারকের জালিয়াতি করায় আইনি ব্যবস্থা নিলে আমদানিকারক আদালতের দ্বারস্থ হতে সাহস পেত না। কিন্তু আইসিডি কাস্টম আমদানিকারককে সেই সাহস দেখানোর সুযোগ করে দিয়েছে।

পরে এনবিআর কড়া ভাষায় চিঠি দিয়েছে আইসিডি কাস্টমকে। ২৪ আগস্ট পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, এইচএস কোড ভুল দিয়ে অসত্য ঘোষণা সংঘটিত হয়েছে। কায়িক পরীক্ষণকারী ও শুল্কায়নকারী কর্মকর্তারা সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে আমদানিকারকের অসত্য ঘোষণার বিষয়টি সহজেই ধরা পড়ত। ভবিষ্যতে এ জাতীয় পণ্য পরীক্ষণ ও শুল্কায়নে আরও সতর্ক থাকতে আইসিডি কাস্টমকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে চিঠিতে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইসিডি কাস্টম হাউজের কমিশনার মোবারা খানমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সারাবাংলাকে জানান, তিনি ব্যস্ত আছেন। এ বিষয়ে কথা বলতে পারবেন না।

অন্যদিকে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মুবিনুল কবীর সারাবাংলাকে বলেন, পণ্যটি সম্পর্কে যা বলার, সেটা আমরা এনবিআরকে বলেছি। এর বাইরে কিছু বলার নেই।

সারাবাংলা/এসজে/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন