বিজ্ঞাপন

দাবার ‘তীর্থস্থান’ খুঁজছে ফেডারেশন

September 24, 2020 | 5:49 pm

স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: গ্র্যান্ডামাস্টারে ভরা দেশে দাবার বড় কোনো আয়োজন করতে জায়গা ভাড়া করতে হয়। জায়গার সংকটে আন্তর্জাতিক দাবা প্রতিযোগিতা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনকে। পুরনো জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ছোট্ট অফিসের একটা ছোট্ট রুমেই আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার আয়োজন হয় খুব সাদামাটাভাবে। এই জায়গা সংকট যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে চায় ফেডারেশন।

বিজ্ঞাপন

রাজায় রাজায় বুদ্ধির যুদ্ধের এই রাজকীয় খেলা একটা ছোট্ট কক্ষের মধ্যে আটকে রাখতে চায় না ফেডারেশন। আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনে জায়গা ভাড়া না করে একটা বড় জায়গার সন্ধানে নেমেছে ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তা।

ইতোমধ্যে জায়গার সন্ধানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে ফেডারেশন। দাবার জন্য স্থায়ী জায়গা খোঁজার বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন ও সাউথ এশিয়ান দাবা কাউন্সিলের সভাপতি বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ (আইজিপি)।

বিজ্ঞাপন

আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’র ক্যাম্পাসে জয়তু শেখ হাসিনা অনলাইন দাবা প্রতিযোগিতা উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

দাবার ‘তীর্থস্থান’ খুঁজছে ফেডারেশন

বিজ্ঞাপন

দাবার চিরকালীন জায়গা সংকটকে উল্লেখ করে বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘দাবা ফেডারেশনের এই মুহূর্তে দাবা খেলার জন্য কোন জায়গা নেই। বলতে গেলে ছোট্ট একটা অফিস ছাড়া ফেডারেশনের পক্ষ থেকে তেমন কিছু নাই। আমরা চেষ্টা করছি সরকারের কাছ থেকে একটা জায়গা নেয়ার জন্য। স্পোর্টস মিনিস্ট্রির কাছ থেকে জায়গা নেয়ার চেষ্টা করছি। কারণ দাবার ক্ষেত্রে ভাল করতে হলে দাবা চর্চা করতে হবে। প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।’

জায়গা সংকটের কারণে নর্ম অর্জন করার ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে থাকতে হয় দেশের দাবাড়ুদের। বিষয় সামনে এনে তিনি বলেন, ‘দাবায় নর্ম অর্জন করতে হলে আপনাকে রেটিং দাবার আয়োজন করতে হবে। আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে টুর্নামেন্ট করতে গেলে জায়গার প্রয়োজন। এই জায়গাটাই আমাদের নাই।’

বিজ্ঞাপন

জায়গার সংকটে ভাড়া করে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে হচ্ছে বলে জানান বেনজীর আহমেদ, ‘গত বছর আমরা অনেকগুলো টুর্নামেন্ট করেছি। সবগুলো করেছি ভাড়া নিয়ে। কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া নিয়ে। এই ভাড়া নিয়ে দাবায় আগানো যাবে না। দাবার ক্ষেত্রে বাজেট অনেক কম। যদি স্পন্সরের বড় অংশ জায়গা ভাড়া করতে চলে যায় দাবার উন্নয়ন আমরা কীভাবে করবো।’

তাই জায়গা সংকট মেটানোই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ পুলিশের এই মহাপরিদর্শক, ‘এটা আমাদের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ আমাদের জন্য। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বসে আমরা কথাবার্তা বলছি। শিগগিরই আমরা একটা জায়গা পেয়ে যাবো। জায়গা পেয়ে গেলে আমরা দাবার তীর্থস্থানে পরিণত করতে চাই। শুধু ঢাকায় নয় পুরো বাংলাদেশেই এটা ছড়িয়ে দিতে হবে। গ্রামে গঞ্জে প্রায়ই সুযোগ পেলেই সবাই দাবা নিয়ে বসে পড়তো। এটাকে কাজে লাগাতে হবে। বুদ্ধিটা কাজে লাগানোর জন্য দাবায় মেতে থাকতো।’

বিজ্ঞাপন

জায়গার পাশাপাশি সারাদেশে দাবাকে ছড়িয়ে দিতে নানান পরিকল্পনার কথা জানালেন তিনি, ‘দেশে দীর্ঘমেয়াদী ট্রেনিং প্রোগ্রাম করতে চাই, স্কুল দাবা করতে চাই। তাহলে সামনের ৫ বছরে অন্তত ৫শ জন দাবাড়ু পাবো। তার সঙ্গে একজন পার্মানেন্ট কোচ রাখার চেষ্টা করবো যাতে করে খেলোয়াড়রা ট্রেনিংয়ের মধ্যে থাকে।’

সারাবাংলা/জেএইচ/এসএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন