বিজ্ঞাপন

লম্বা রেসের ঘোড়া হতে চান শান্ত

September 24, 2020 | 6:31 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

তিন বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারের মোট ৪টি ম্যাচ খেলেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু কোনোটিতেই বড় ইনিংসের দেখা পাননি। প্রবল ইচ্ছে থাকা সত্বেও সর্বোচ্চ ৭০ এর ঘরে এসেই তা থেমে গেছে। তবে ভালো খবর হলো এই দৈন্য দশা থেকে ভীষণভাবে বেরিয়ে আসতে চাইছেন বাংলাদেশ দলের প্রতিভাবান এই তরুণ টপ অর্ডার ব্যাটসম্যন। ব্যাট হাতে হতে চাইছেন লাল সবুজের দলের লম্বা রেসের ঘোড়া।

বিজ্ঞাপন

২০১৭ সালের জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ড সফরে নিজের অভিষেক ম্যাচে স্বাগতিকদের বিপক্ষে শান্তর ব্যাট থেমেছিল মাত্র ১৮ রানে। দেড় বছরের বেশি সময়ের বিরতিতে ২০১৮ সালের নভেম্বরে ঘরের মাঠ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সফরকারী জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচে নামের পাশে যোগ করেছিলেন মাত্র ৫ রান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান সফরে অবশ্য কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন। রাওয়ালপিন্ডিতে শাহেন শাহ আফ্রিদি, মাহমুদ আব্বাস, নাসিম শাহদের অমন বোলিংয়ের মুখেও ৪৪ রান সংগ্রহে সমর্থ্য হয়েছিলেন। ওই মাসেই সফরকারী জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুরে তার ব্যাট স্মিত হাস্যে হেসেছিল, এসেছিল ৭১ রান। কিন্তু তাতে যেন কিছুতেই তুষ্ট হতে পারছেন না ২২ বছর বয়সী এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ব্যাট হাতে ক্রমান্বয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে চাইছেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মিরপুর  শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিজ্ঞাপন

শান্ত বলেন, ‘আমার মনে হয় শেষ দুই তিনটা ইনিংস ভালো ব্যাটিং হয়েছে। আমি সবচেয়ে যে জিনিসটা চাই তা হলো ইনিংসগুলো যেন লম্বা হয়। আর নিয়মিত পারফরম্যান্স যেন করতে পারি। আমার ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেট হওয়া ইনিংসগুলো যেন বড় করতে পারি।’

লম্বা রেসের ঘোড়া হতে চান শান্ত

বিজ্ঞাপন

করোনা অতিমারিতে লক ডাউনের সময়টা সতীর্থদের মতো ঘরে বসেই কেটেছে শান্তর। লক ডাউন শিথিল হলে নিজ জেলা শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে করেছেন ফিটনেস অনুশীলন। এরপর ঢাকায় এসে সতীর্থদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। পুরো লকডাউনকালে ঘরে বসে একমাত্র ফিটনেস অনুশীলন ছাড়া কিছুই করতে পারেননি। সেই বিবেচনায় স্কিল গত দিক থেকে তার কিছুটা পিছিয়ে যাওয়ারই কথা। তা হয়ত গিয়েছিলেন। কিন্তু পাশাপাশি উপকৃতও হয়েছেন বলে জানালেন এই তরুণ ব্যাটসম্যান।

‘লকডাউনে ইতিবাচক দিক বলতে অতীতে যে ভুলগুলো ছিল বা অতীতে যেসব আমি ভালো করেছি ওসব নিয়ে চিন্তা করার খুব ভালো একটা সুযোগ ছিল। যেগুলো নিয়ে আমি কাজ করেছি। আমি মনে করি যে সামনে যদি সুযোগ পাই তাহলে এই অভিজ্ঞতাটা কাজে লাগবে। লকডাউনে ভালো বা খারাপ খেলা যেটাই বলি নিজের খেলাগুলো নিয়ে বিশ্লেষণ করতে পেরেছি। যেটা আমার জন্য অনেক উপকার হয়েছে এবং সামনে সুযোগ পেলে ভালো কিছু হবে মনে করি।’

বিজ্ঞাপন

শ্রীলঙ্কা সিরিজ সামনে রেখে স্কিল ট্রেনিংয়ের জন্য বিসিবি ঘোষিত ২৭ সদস্যের বাংলাদেশ দলে ঠাঁই করে নিয়েছেন শান্ত। দলের সঙ্গে নিয়মিত অনুশীলনও করে যাচ্ছেন। এতে করে স্বস্তি ফিরেছে তার ক্রিকেটীয় চিত্তে। আবার অস্বস্তিও আছে। আর সেটা হলো ঘণঘণ করোনা পরীক্ষা। ইতোমধ্যেই তিনবার পরীক্ষা দিয়েছেন। দুই দিন পর পর নাক ও গলা থেকে নমুনা সংগহ তাকে রীতিমত অতিষ্ট করে তুলেছে।

‘এটা অবশ্য অনেক কঠিন, টেস্টের কথা বলবো যে করোনা টেস্ট দুই দিন পর পর এই জিনিসটা একটু অস্বস্তিকর লাগে। নাকের ভেতর কিট দেওয়া, পরীক্ষা করা এ জিনিসটা আমার জন্য অস্বস্তিকর। আর কোয়ারেনটাইনে থাকতে কারোই ভালো লাগেনা। এত সিকিউরিটির মধ্যে থাকা ভালো অনুভব করিনা।’

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এমআরএফ/এসএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন