বিজ্ঞাপন

বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের শঙ্কা, বাসিন্দাদের সরাতে মাইকিং

September 25, 2020 | 9:59 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: অব্যাহত ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসে মানবিক বিপর্যয় মোকাবেলায় সক্রিয় হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। নগরীর ১৭টি পাহাড় এবং বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সিডিএ লিংক রোড এলাকা থেকে মাইকিংয়ের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরতদের সরাতে তৎপরতা চালানো হয়েছে। এছাড়া পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে মোট ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র।

বিজ্ঞাপন

সপ্তাহজুড়ে কখনো গুঁড়ি, গুঁড়ি, কখনো আবার হালকা বৃষ্টির পর বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রামসহ আশপাশের এলাকায় বৃষ্টিপাত ভারি রূপ নেয়। থেমে থেমে বৃষ্টিপাত অব্যাহত আছে শুক্রবার সন্ধ্যার পরও। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম নগরীতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা করছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

নগরীর পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারি আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান সারাবাংলাকে জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় ৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ূ সক্রিয় থাকায় দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোতে জারি করা তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত এবং নদীবন্দরগুলোতে এক নম্বর নৌ সতর্কতা সংকেত এখনও বহাল আছে। বাতাসসহ ভারি বর্ষণ আরও দুইদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ অবস্থায় শুক্রবার গতকাল সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হয়। লোকজনকে নিরাপদ অবস্থানে আশ্রয় নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। বিভিন্ন মসজিদের মাইক থেকেও মাইকিং করা হয়। মতিঝর্ণা, বাটালি হিল, একে খান পাহাড়, ট্যাংকির পাহাড়, আমিন জুট মিলস এলাকা, রউফাবাদ, খুলশী, পাহাড়তলি, ফয়েজ লেক আকবর শাহ এলাকায় এই মাইকিং করা হয়।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের কাট্টলী সার্কেলের সহকারি কমিশনার (ভূমি) তৌহিদুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘মাইকিং করে লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সমন্বয় করে সেখানে ত্রাণকার্য পরিচালনা করবেন। বিভিন্ন স্থান থেকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ লোকদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কিছু কিছু ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে লোকজন সরে গিয়ে নিকটবর্তী আত্মীয়স্বজনের বাসায় নিরাপদ আশ্রয় নিচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন

এদিকে নগরীর চান্দগাঁও, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ এবং কাট্টলী এলাকায় প্রস্তুত করা হয়েছে মোট ১৯ টি আশ্রয় কেন্দ্র। সংশ্লিষ্ট সার্কেলের ৬ জন সহকারি কমিশনার (ভূমি) এসব আশ্রয়কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে আছেন। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো হচ্ছে- পাহাড়তলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বিশ্বকলোনিতে কোয়াড-পি ব্লক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফিরোজ শাহ কলোনি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বায়তুল ফালাহ আদর্শ মাদ্রাসা, চট্টগ্রাম মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, জালালাবাদ বাজার সংলগ্ন শেড, রউফাবাদা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, রশিদিয়া রউফাবাদ আলিম মাদ্রাসা, মহানগর পাবলিক স্কুল, আল হেরা মাদ্রাসা, আমিন জুটমিল ওয়ার্কার্স ক্লাব, আমিন জুট মিলস নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, লালখানবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এবাদউল্লাহ পন্ডিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শহীদনগর সিটি করপোরেশন উচ্চ বিদ্যালয়, কলিম উল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ওয়াইডব্লিউসিএ, শেখ রাসেল প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মতিঝর্ণা ইউসেফ স্কুল।

সারাবাংলা/আরডি/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন