বিজ্ঞাপন

রেজা কিবরিয়াসহ ৪ নেতা বাদ, ড. কামাল বিষয়ে সিদ্ধান্ত ২৬ ডিসেম্বর

September 26, 2020 | 2:23 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বর্ধিত সভার মাধ্যমে গণফোরাম থেকে দলটির সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া, কেন্দ্রীয় নেতা মহসীন রশিদ, আহমেদ শফিকুল্লাহ ও মুসতাক আহমদকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া দলটির প্রতিষ্ঠাতা ড. কামাল হোসেনকে রাখা হবে কি না সে বিষয়ে আগামী ২৬ ডিসেম্বর নেতাকর্মীরা কাউন্সিলের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

বিজ্ঞাপন

জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণফোরামের একাংশের বর্ধিত সভা শেষে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলন করেন গণফোরামের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মোস্তফা মোহসীন মন্টু।

তিনি বলেন, ‘আগামী ২৬ ডিসেম্বর দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। কাউন্সিল সম্পন্ন করার জন্য ২০১ সদস্যের প্রস্তুতি কমিটি করা হয়েছে।’ মোস্তফা মোহসীন নিজেই এই প্রস্তুতি কমিটির প্রধান ও আহ্বায়ক।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন সংবিধান প্রণেতা। তাকে আমরা সম্মান করি। তবে দলের নেতৃত্বে তিনি থাকবেন কি থাকবেন না নেতাকর্মীরা চূড়ান্ত করবেন।’

মোস্তফা মোহসীন মন্টু এ সময় দাবি করেন ড. কামাল হোসেন স্মৃতিবিভ্রমে ভুগছেন। তার কথাবার্তায় এমনটি মনে হয় বলে জানান গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। ড. কামাল হোসেনকে একটি অশুভ শক্তি ঘিরে ধরেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

মন্টু আরও বলেন, ‘গণফোরামে যারা স্বাধীনতা বিরোধী, গণতন্ত্র বিরোধী তাদের বহিষ্কার প্রস্তাব তোলা হবে। অতীতে যে ভুলভ্রান্তি ছিল তা জলাঞ্জলি দিয়ে গণতন্ত্রের স্বার্থে আমাদের জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে দেশে বিপর্যয় আসবে।’

২৭ বছর আগে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের আদর্শ ও নীতি নিয়ে প্রখ্যাত আইনজীবী ড. কামাল হোসেন ও যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা মোহসীন মন্টুর নেতৃত্বে যাত্রা শুরু করে গণফোরাম। দীর্ঘ ২৭ বছরে রাজনৈতিকভাবে খুব বেশি অর্জন না থাকলেও ড. কামালের নেতৃত্বে গণফোরাম একটি ঐক্যবদ্ধ শক্তি হিসেবেই পরিচিত ছিল রাজনৈতিক অঙ্গনে। প্রায় তিন দশক পর এসে ভাঙনের মুখোমুখি সেই দলটি। এরই মধ্যে দলের একাংশ বর্ধিত সভা করেছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, গত বছরের মে মাসে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলের পর থেকেই মূলত গণফোরামের অভ্যন্তরীণ কোন্দল দেখা দিতে থাকে। এই কোন্দল চরম পর্যায়ে পৌঁছায় এ বছরের মার্চের শুরুর দিকে। গত ২ মার্চ দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশতাক আহমেদের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে দুই সাংগঠনিক সম্পাদকসহ চার কেন্দ্রীয় নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। এই চার নেতা হলেন— সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন ও লতিফুল বারী হামিম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক খান সিদ্দিকুর রহমান এবং প্রবাসীকল্যাণ সম্পাদক আব্দুল হাছিব চৌধুরী। পরদিন ৩ মার্চ ওই বহিষ্কৃত চার নেতা বহিষ্কার করেন দলের সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া, সহ-সভাপতি মহসীন রশীদ ও সহ-সভাপতি শফিকউল্লাহ এবং যুগ্ম সাধারণ মোস্তাককে।

পাল্টাপাল্টি এই বহিষ্কারের পর ৪ মার্চ এক বিজ্ঞপ্তিতে গণফোরামের চেয়ারম্যান ড. কামাল হোসেন কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। নিজেকে আহ্বায়ক ও আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়াকে সম্পাদক রেখে ওই বিজ্ঞপ্তিতে দুই সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন তিনি। পরে ১২ মার্চ পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটিও ঘোষণা করেন তিনি। ওই সময়ও দলের একাংশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, অগণতান্ত্রিকভাবে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। তারা এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ড. কামাল হোসেনকে ২ সপ্তাহের আল্টিমেটাম দেন। পরে অবশ্য দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর সাধারণ ছুটি ঘোষণা হলে গণফোরামের উভয় পক্ষের রাজনৈতিক তৎপরতাও স্থবির হয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন: ‘পাকিস্তানি লবিতে পরিবেষ্টিত’ ড. কামাল, ভাঙছে গণফোরাম

 

সারাবাংলা/এএইচএইচ/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন