বিজ্ঞাপন

একজন শেখ হাসিনা: মননে যার পিতার চেতনা

September 27, 2020 | 10:03 pm

নৃপেন রায়, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ‘আমার কপালের এ জায়গাটায় এখনও সেলাইয়ের দাগ আছে। কিন্তু তোমরা জানো না যে, এই সেলাইয়ের দাগ যার কারণে তাকেও আমি বর্তমান মন্ত্রিসভায় রেখেছি।’ গণভবনে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সমঝোতা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। আর তা প্রকাশ হওয়ার পরই সাড়া পড়ে যায়। ফেসবুকসহ বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয় অনুসন্ধান। ‘কোন মন্ত্রীর কারণে শেখ হাসিনার কপালে দাগ?’

বিজ্ঞাপন

১৫ আগস্ট এক রাতে পরিবারের সবাইকে হারিয়ে সকল ব্যাথা, দুঃখ-কষ্টকে বুকে ধারণ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে বাংলাদেশ বিনিমার্ণে কাজ করে যাওয়া বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭৩ বছর পেরিয়ে ৭৪ বছরে পদাপর্ণ করছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা জাতির কল্যাণে সদা দীপ্ত এক অদম্য অক্ষয় জ্যোতি।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র আমির হোসেন আমু বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে যেমন বাংলাদেশ পেতাম না, বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না; ঠিক তেমনি শেখ হাসিনার জন্ম না হলে বঙ্গবন্ধুর সেই সোনার বাংলা বিনিমার্ণের কাজ বাঙালি জাতি চোখে দেখত না। বঙ্গবন্ধু কেমন বাংলাদেশ চেয়েছিলেন, তার সোনার বাংলার স্বপ্ন কেমন ছিল- এটা আজ শেখ হাসিনার মাধ্যমেই প্রকাশিত হয়েছে। এ জন্য বাংলার মানুষ কিছুটা জানতে পেরেছে।’

বিজ্ঞাপন

প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা জন্মলগ্ন থেকে আন্দোলন, সংগ্রাম ও কারাগার দেখে আসছেন। তার পারিবারিক জীবনটাই ছিল বঙ্গবন্ধুর কারাগারের জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বঙ্গবন্ধু হত্যার সময় তিনি এবং তার ছোট বোন বিদেশে থাকার কারণে বেঁচে যান। আল্লাহর রহমত, একদিকে আমরা যেমন সব হারিয়েছিলাম, আরেকদিকে শেখ হাসিনা জীবিত থাকার কারণে তাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করে আনতে পেরেছিলাম। আর এ জন্যই তার নেতৃত্বে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন সফল হতে চলেছে। এমন এক দুঃসময়ে শেখ হাসিনা দেশে আসেন যখন এই দেশে রাজনীতি ছিল বিভীষিকাময় অবস্থার মধ্যে। জিয়াউর রহমানের সেই ডিক্লারেশন- আই সেল মেক ডিফিকাল্ট পলিটিক্স ফর দি পলিটিশিয়্যান এবং দল ভাঙ্গার রাজনীতি, রাজনৈতিক নেতৃত্বের চরিত্র হনন এবং হত্যা-গুম-খুন থেকে শুরু করে নির্যাতন-নিষ্পেষণের যখন চলছিল, সেই ভাঙনের হাত থেকে আওয়ামী লীগও রেহাই পাচ্ছিল না। ঠিক তেমনি এক মুহূর্তে আওয়ামী লীগের ভাঙন ঠেকাবার জন্য শুধু নয়, দলকে সুসংহত করার লক্ষ্যে কাউন্সিলে শেখ হাসিনাকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।’

আমির হোসেন আমু বলেন, ‘শেখ হাসিনা আসার পর থেকেই আওয়ামী লীগ শুধু নয়, এদেশের মানুষ নতুন জীবন লাভ করে। আন্দোলন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তার নেতৃত্বে দীর্ঘ সংগ্রামে আমরা সফল হয়েছি। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার এদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে। শুধু তাই নয়, বঙ্গবন্ধু যা চেয়েছিলেন বাঙালি জাতি একটি সমৃদ্ধশালী জাতি হিসেবে পৃথিবীর বুকে আত্মপ্রকাশ করবে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাঙালি জাতি পৃথিবীর বুকে সেই সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল জাতি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া শেখ হাসিনাও রাষ্ট্রনায়কোচিতভাবে এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে নিজেও পৃথিবীর কয়েকজন রাষ্ট্রনায়কের মধ্যে অন্যতম রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে পরিগণিত হচ্ছেন।’

বিজ্ঞাপন

শেখ হাসিনার নেতৃত্বের গুণাবলী কাছে থেকে দেখা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ‘আমাদের নেত্রী অত্যন্ত মানবিক মানুষ। করোনাকালে তিনি গণভবনে বসে রাষ্ট্র ও দল পরিচালনা করেছেন। কোথাও কোনো সিদ্ধান্ত নিতে বিন্দুমাত্র দেরি করেননি। সঠিক সিদ্ধান্ত সঠিক সময়ে নিয়েছেন। আর্থিক প্রণোদনার কথা বলেন কিংবা আমাদের দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা বলেন- সবকিছু তিনি সঠিক সময়ে নিয়েছেন। তার প্রতিটি সিদ্ধান্ত দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়েছে। আজ বিশ্বনেতারা কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর করোনাকালীন নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, সমর্থন জানিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা পিতার কাছ থেকে শিখেছেন যে, দুঃসময়ে মানুষের পাশে থাকা এবং তাদের সেবা ও কল্যাণে কাজ করা। প্রধানমন্ত্রীর কাছে রাজনীতি একটি ব্রত। তিনি রিলিজিয়াসলি কাজটি করেন, নিষ্ঠার সঙ্গে করেন।’

১৯৮১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে অত্যন্ত ধৈর্যশীল থেকে কৃতজ্ঞতাবোধের সঙ্গে নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করে কিংবদন্তি নেতায় পরিণত হয়েছেন। তিনি সীমিত সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও সর্বোচ্চ উপযোগ গ্রহণ নিশ্চিত করতে নানামুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে চলছেন। তিনি চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বর্তমানে দেশ পরিচালনা করছেন। রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করেছেন সব সংকট ও আঘাতের ক্ষত। কখনও ষড়যন্ত্র বা অপকৌশলের আশ্রিত হননি। বঙ্গবন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের হত্যার বিচার প্রধানমন্ত্রী থেকেও বিশেষ কোনো ট্রাইব্যুনালে করেননি। কতবার তার প্রাণনাশের ষড়যন্ত্র হয়েছে, হামলা হয়েছে। এক-এগারোর সময় ঝুঁকি ও হুমকি উপেক্ষা করে দেশে আসেন। মানুষও তাকে ভালোবাসে সব উজাড় করে। তাই গরিব রিকশাচালক হাসমত আলী তার সর্বস্ব দিয়ে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যার জন্য জমি কিনে দেন, নির্জন কারাবাসে টেলিভিশন দেখার সুযোগ করে দিতে সবকিছু বিক্রি করে একটা সাদাকালো টিভি সেট নিয়ে বিশেষ আদালতের ফটকে আসে নাম না জানা এক আওয়ামী লীগ কর্মী তাকে ভালোবেসে। হবিগঞ্জের চা শ্রমিকরা পঞ্চাশ পয়সা করে জমানো অর্থ দিয়ে একজোড়া সোনার বালা উপহার নিয়ে আসে গণভবনে শেখ হাসিনার জন্য।

বিজ্ঞাপন

গণমানুষের জন্য নিবেদিতভাবে শ্রম দিয়ে কোনোদিনই, এক মুহূর্তের জন্যও ক্লান্তির ছাপ আড়াল করতে হয় না। বরং মা যেমন সংসারের সবকিছু, সবার আলাদা-আলাদা রুটিন ও অবস্থা খেয়াল রাখেন দেশটাও যেন প্রধানমন্ত্রী সেভাবেই চালান। তাই তো উপবৃত্তির টাকা মোবাইল যোগে সন্তানের মায়েদের কাছে পাঠানো তার আরেক অনন্যতা। বিশ্বব্যাংকের অন্যায় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পদ্মাসেতু নিজেদের অর্থায়নে নির্মাণ বা জঙ্গি দমনের মতো অসাধ্য সাধন রাজনীতি-অর্থনীতির বিশ্লেষকদের কাছে তার নেতৃত্বকে রহস্যময় কঠিন প্রতিজ্ঞাদীপ্ত করে তোলে। এশিয়া প্যাসেফিক অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পারস্পরিক সহায়তা বৃদ্ধি বেগবান করতে পশ্চিমাদের শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান তাকে করে তোলে বিশ্বনন্দিত। পার্বত্য শান্তি চুক্তি, গঙ্গার পানি চুক্তি, সমুদ্রসীমার নিষ্পত্তি, দীর্ঘদিনের স্থল সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার যেকোনো একটি সাফল্যই তার অবিস্মরণীয় নেতা হতে যথেষ্ট ছিল। কিন্তু অর্জনের সোপানে অগ্রসরমান থেকে কখনো আত্মপ্রসাদে আত্মতুষ্ট হয়ে পড়েননি। তিনি নিরলস ও অক্লান্ত পরিশ্র করে দুর্যোগে-সংকটে দেশ এবং দল পরিচালনা করেছেন। সেজন্যই আজ তিনি আপা থেকে নেত্রী, নেত্রী থেকে জননেত্রী, জননেত্রী থেকে দেশরত্ন হয়ে উঠেছেন। তিনি আজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বিশ্বনেতার বাইরেও একজন অভিভাবক। অবসরে বই পড়েন, লেখালেখি করেন। জাতির পিতার স্মৃতি রক্ষায় কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

দেশের বাস্তবতা ও আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দশটি উদ্যোগ নিয়েছেন, যা অত্যন্ত মানব কল্যাণযোগ্য। দেশের উন্নয়নে সরকারের দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ভাবনার কথা বিবেচনা করে হাতে নিয়েছেন মেগাপ্রজেক্ট। জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা বা প্রভাব থেকে আগামী দিনে বাংলাদেশকে রক্ষায় নিয়েছেন বদ্বীপ পরিকল্পনা। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, ডিজিটাল বাংলাদেশ, নারীর ক্ষমতায়ন, কমিউনিটি ক্লিনিক ও শিশু বিকাশ, সবার জন্য বিদ্যুৎ, আশ্রয়ণ প্রকল্প, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, শিক্ষাসহায়ক কার্যক্রম, বিনিয়োগ বিকাশ এবং পরিবেশ সুরক্ষা, মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে সবার জন্য ঘর, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সবদিকে নানামুখী পদক্ষেপ ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে অক্লান্ত এক সৈনিক।

বিজ্ঞাপন

কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষাব্যবস্থায় পাঠ সম্পন্নকারীদের মূলধারায় যুক্ত রাখতে তিনি কওমি শিক্ষার স্বীকৃতি প্রদান করেন। একই রকম সংবেদনশীলতা প্রকাশ পায় গণভবনে যখন আগত অনাথ শিশুদের মুখে তুলে আপ্যায়ন করেন। নিমতলীর অগ্নিকাণ্ডের পর তিন কন্যার ভেঙে যাওয়া বিবাহের সম্বন্ধ পুনঃস্থাপনে, রানা প্লাজা থেকে উনিশ দিন পর উদ্ধার হওয়া রেশমা আক্তারকে দেখতে গিয়ে, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত দশ লক্ষাধিক বিদেশি নাগরিককে সোয়া এক বছরের ওপরে উদার হস্তে ভরণ-পোষণের ব্যবস্থায় তার মানবিকতার স্বীকৃতি দেশ ছাপিয়ে আজ তিনি বিশ্ব নেত্রী।

তিনি যখন দেখতে পান, লালমনিরহাটের কালীগঞ্জর উপজেলা কাকিনা ইউনিয়নের তেলিপাড়া এলাকার ছয়ফুল ইসলাম দম্পতি গরুর অভাবে নিজেরাই গত ছয় বছর ধরে ঘানি টেনে সরিষার তেল উৎপাদন করছিলেন। তখন সেই খবর প্রধানমন্ত্রীর নজরে দুটি গরু উপহার দেন। আবার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কিশোরী রায়ার ইচ্ছে পূরণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার ইচ্ছে প্রকাশ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া ভিডিও বার্তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী রায়ার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন। কখনো বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার শিশু মুক্তামনির দায়িত্ব নেন। মুক্তামনিকে দেখতে হাসপাতালেও ছুটে যান প্রধানমন্ত্রী। দল ও সরকার পরিচালনার শত ব্যস্ততা তারপরও সবদিকে খেলায় রেখে নির্ভার নির্ভীক ভাবনার এক পথচারী তিনি। এরকম কত নজির কত মানবিকতার নাম শেখ হাসিনা।

আজ এই মানবিক শেখ হাসিনার জন্মদিন। বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেসা মুজিবের ঘর আলো করে ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জন্ম নিয়েছেন তাদের প্রথম সন্তান হাসিনা। ভালো নাম শেখ হাসিনা। বাবা-মা আদর করে ডাকতেন হাসু। বাবার দেখানো পথে দীপ্ত পায়ে এগিয়ে দ্যুতি ছড়িয়ে যাচ্ছেন।

পিতার মতই অসীম সাহসী, দৃঢ়তায় অবিচল, দেশপ্রেম ও মানবিক গুণাবলীসম্পন্ন একজন আদর্শবাদী নেতা হিসেবে শেখ হাসিনা মানুষের কাছে আজ সবচেয়ে বেশি সুপরিচিত নাম। তাই তিনি মাঝে মাঝে বলে ফেলেন, একজন শেখ হাসিনা কোনো পুরস্কারের আশায় কাজ করেন না; মানুষের ভালোবাসাই তার সবচেয়ে বড় পুরস্কার।

শেখ হাসিনা দক্ষতার সঙ্গে আশা দেখান, পথ দেখান। নির্ভীক সাহস নিয়ে এগিয়ে চলেন। একদিকে করোনা মহামারি, আরেকদিকে আম্পান, এরপর বন্যা। তারপরও দক্ষ হাতে সামালাচ্ছেন সব। তার নেতৃত্ব আজ বিশ্বনেতাদের কৌতূহল এবং আগ্রহের বিষয়। তিনি আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা উপহার দিতে এগিয়ে চলেছেন নিরন্তর।

সারাবাংলা/এনআর/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন