বিজ্ঞাপন

‘তা তো বলা যাবে না’

September 27, 2020 | 10:51 pm

আব্দুল জাব্বার খান, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর ধরে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম রোববার সন্ধ্যায় মৃত্যুবরণ করেছেন। দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে সব থেকে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা অ্যাটর্নি জেনারেলের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে এসেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত অঙ্গনে।

বিজ্ঞাপন

হাইকোর্টের এনেক্স ভবন থেকে মেইন ভবন, চেম্বার কোর্ট থেকে আপিল বিভাগ সব কোর্টেই গুরুত্বপূর্ণ মামলায় ঝাপিয়ে পড়তেন অ্যাটর্নি জেনারেল। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সব সময় তিনি থেকেছেন অগ্রভাগে। উচ্চ আদালতের প্রতিটি বেঞ্চে ডেপুটি অ্যাটর্নি, সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল থাকলেও জরুরি এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর শুনানিতে অংশ নিতেন তিনি নিজেই।

আদালত বিটে কাজ করা সাংবাদিকদের সঙ্গে ছিল অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের নিবিড় সম্পর্ক। যখনই প্রয়োজন হতো ফোন করে তার কাছ থেকে মামলার তথ্য নেওয়া যেত। বড় কোন মামলার রায়ে আদালত কি বলেছেন, কি পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন, সবই বলে দিতেন তিনি। সময়-অসময় সাংবাদিকদের ফোনে কখনো বিরক্তবোধ করেননি তিনি। যে সম্পর্কের রেশ তিনি রেখে গেছেন হাসপাতালে বেডে শুয়ে থেকেও।

বিজ্ঞাপন

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আর নেই

গত ৪ সেপ্টেম্বর জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তথ্যটি জানার পর নিশ্চিত হতে স্যারকে ফোন করে জানতে চাই স্যার কেমন আছেন? জবাবে স্যার বলেন, ‘আমি হাসপাতালে আছি, ভালো আছি।’

বিজ্ঞাপন

‘তা তো বলা যাবে না’

কোন হাসপাতালে আছেন এমন প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি একটা হাসি দিয়ে বললেন, ‘তা তো বলা যাবে না।’ এটিই ছিল অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের শেষ কথা।

বিজ্ঞাপন

এরপর থেকে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। এরপর আর তিনি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। ২৩ দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে চলে যান পরপারে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

সারাবাংলা/এজেডকে/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন