বিজ্ঞাপন

চবি বঙ্গবন্ধু চেয়ার: সাবেক উপাচার্যের নিয়োগ আটকাল সিন্ডিকেট

September 28, 2020 | 12:21 am

চবি করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: যথাযথ নীতিমালা না মানার অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সাবেক উপাচার্য ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ পদে নিয়োগ বাতিল করেছে সিন্ডিকেট। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু চেয়ার নির্বাহী কমিটিকে বর্ধিত করে আরও নতুন তিন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) চারুকলা ইনস্টিটিউটে সিন্ডিকেট ৫২৬তম সভায় এই পদে নিয়োগের বিষয়টি বাতিল করছে সিন্ডিকেট। নিয়োগ বাতিল করার বিষয়টি ও কমিটি গঠনের বিষয়টি সিন্ডিকেট সদস্য মোহাম্মদ নাসিম হাসান গণমাধ্যমকে অবহিত করেন।

তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু চেয়ারের নির্বাহী কমিটির নতুন তিন সদস্য হলেন— সমাজবিজ্ঞানী অনুপম সেন, শিক্ষাবিদ আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন ও কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন।

বিজ্ঞাপন

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিন্ডিকেটের দুই সদস্য সারাবাংলাকে বলেন, নীতিমালার লঙ্ঘন করায় সাবেক উপাচার্যের নিয়োগ আটকে গেছে। বঙ্গবন্ধু চেয়ারে গবেষণার জন্য নীতিমালায় যেসব শর্ত ছিল সেগুলোও মানা হয়নি। তাই ৫২৬তম সিন্ডিকেট সভায় সাবেক উপাচার্যের নিয়োগ চূড়ান্ত না করে উল্টো বাতিল করা হয়েছে।

জানা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গৌরবময় জীবন ও কীর্তি নিয়ে গবেষণা এবং তার স্মৃতি সংরক্ষণার্থে ২০১৭ সালের ২৭ আগস্ট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সিন্ডিকেটের ৫১০তম সভায় ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ চালুর সিদ্ধান্ত হয়। ওই সময়কার উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ তৈরি করতে একটি কমিটি গঠন করে দেন। ওই কমিটির মাধ্যমেই প্রথম ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ পদে আসীন হন ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন

একাধিক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও সিনেট সদস্যরা বলছেন, বঙ্গবন্ধু চেয়ারে যিনি বসবেন, তার বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ২০ বছরের গবেষণা কাজ থাকতে হবে। বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে অন্তত ১০টি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা-প্রবন্ধ প্রকাশিত হতে হবে। সাবেক উপাচার্যের এই বিষয়ে কোনো গবেষণা প্রবন্ধ নেই উল্লেখ করে তাদের দাবি, কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তৎকালীন উপাচার্য ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ পদে আসীন হয়েছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত বছরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু চেয়ার (গবেষণাকেন্দ্র) পদে গবেষক হিসেবে দায়িত্ব নেন সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। নিয়োগের বিষয়টি সিন্ডিকেট সভা ও একাডেমিক কমিটির মাধ্যমে অনুমোদন না নেওয়ায় উপাচার্যের এই পদে বসা নিয়ে ওই সময় বিতর্ক তৈরি হয়।

বিজ্ঞাপন

এছাড়াও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেননি তৎকালীন উপউপাচার্য ও বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার। তবে সব ধরনের নিয়ম মেনে দায়িত্ব নিয়েছেন বলে ওই সময় সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী।

পরে চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি সাবেক এই উপাচার্যকে বঙ্গবন্ধু চেয়ার উপাধি ব্যবহার না করার নির্দেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এক সপ্তাহ পর চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে বঙ্গবন্ধু চেয়ার নিয়ে বিতর্ক বন্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করার আবেদন জানান ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। ১৬ জুলাই ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক দিল আফরোজ বেগমকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি কমিটি করে ইউজিসি। বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন।

বিজ্ঞাপন

বঙ্গবন্ধু চেয়ার নির্বাহী কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় গত বছরের ৩ জানুয়ারি। ওই সভায় ওই পদের জন্য তৈরি নীতিমালার অনুমোদন করা হয়। ওইদিন সাবেক উপাচার্য ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীকে বঙ্গবন্ধু চেয়ার পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য কমিটি সুপারিশ করে। কমিটির তৈরি নীতিমালার ৪-এর খ-তে বলা হয়, ‘নিয়োগ দেওয়ার জন্য কমিটির সুপারিশ সিন্ডিকেটে পেশ করা হবে এবং সিন্ডিকেটের অনুমোদনক্রমে চুক্তিভিত্তিতে ওই পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।’ সেই নীতিমালা ভঙ্গ করে সাবেক উপাচার্য এই পদে দায়িত্ব নিয়েছেন বলে সে সময় অভিযোগ করেন বর্তমান উপাচার্য ড. শিরীণ আখতারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকেরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সচিব ও রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক এস এম মনিরুল হাসান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরিণ আখতারকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

সারাবাংলা/সিসি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন