বিজ্ঞাপন

‘দিল্লির সঙ্গে যৌথ নদী কমিশনের নিয়মিত বৈঠক চায় ঢাকা’

September 28, 2020 | 8:56 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: পানি সমস্যার সমাধানে ঢাকা চায় বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের মধ্যে নিয়মিতভাবে যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হোক। এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রতিবেশি দুদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে ভার্চুয়ালি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে ঢাকার পক্ষ থেকে পানি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমের কয়েকজন কর্মীকে এসব তথ্য জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘জেসিসি বৈঠক নিয়ে আমরা গত কয়েকদিন ধরে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করেছি। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করেছি। আমাদের অনেক ইস্যু আছে, ভারত আমাদের প্রতিবেশি এবং বেস্ট ফ্রেন্ড। তবে এবারের জেসিসি বৈঠকে আমরা খুব বেশি কিছু আশা করি না। স্বাভাবিকভাবে এই বৈঠকটি ৩ থেকে ৪ ঘণ্টাব্যাপী হয়। কিন্তু করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এবার ভার্চুয়ালি মাত্র ১ ঘণ্টার বৈঠক হবে।’

বিজ্ঞাপন

বৈঠকে কী কী ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে, জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পানি, বাণিজ্যসহ দুই পক্ষের সবগুলো বিষয়ই আলোচনায় থাকবে।’

তিস্তা নিয়ে আলোচনা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মধ্যে অনেকগুলো নদী রয়েছে, সবগুলো নিয়েই আলোচনা হবে। আমরা চাচ্ছি যে দুই দেশের মধ্যে যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক আবার শুরু হোক। কেন না গত ৮-১০ বছর ধরে এই বৈঠকটি হচ্ছে না। এই বিষয়ে ভারত রাজি হলে আমাদের সুবিধা হবে। তখন নদী সম্পর্কে আলাপ করা যাবে।’

বিজ্ঞাপন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কোভিড নিয়েও আলাপ করব। এই বিষয়ে আমাদের একটা প্রস্তাবণা দেওয়া আছে। তবে সকল আলোচনা নির্ভর করবে সময়ের ওপর, কেন না সময় খুব কম। এক ঘণ্টায় দুই পক্ষ কথা বলবে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আমরা এর মধ্যে আর নতুন কোনো চুক্তির দিকে যাচ্ছি না। কেন না কিছুদিন পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরে আসবেন। না, আসবেন না, ভার্চুয়ালি একটি মিটিং হবে আগামী ডিসেম্বরের বিজয় দিবসের দিন। তখন দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে চুক্তি হলে ভালো হবে। এর মধ্যে কোভিড চলে গেলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফর করবেন।’

বিজ্ঞাপন

এদিকে, গত মার্চে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রীংলা ঢাকা সফর করেন। ওই সময় ২ মার্চ দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ আয়োজিত সেমিনারের প্রশ্ন-উত্তর পর্বে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘পানি বণ্টন ইস্যুতে দুদেশের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে তা চলতি বছরেই বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করা হবে। এরই মধ্যে পানি সংক্রান্ত দুদেশের যৌথ কমিটি কাজ শুরু করেছে, যা অগ্রগতির একটি অংশ। ভারতের পানি সচিব গত আগস্টের ঢাকা সফরে দুই পক্ষ এই সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য বিনিময় করেছে।’

এর আগে, গত ২০১৯ সালের ৮ আগস্ট ঢাকায় দুই দেশের মধ্যে যৌথ নদী কমিশনের সচিব পর্যায়ের বৈঠক আট বছর পর অনুষ্ঠিত হয়। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার ও ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব উপেন্দ্র প্রসাদ সিং ওই বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের জানান হয়, ‘বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের মধ্য দিয়ে বহমান অভিন্ন ৫৪টি নদীর মধ্যে মনু, মুহুরী, খোয়াই, ফেনী, গোমতী, ধরলা, দুধকুমার এবং তিস্তা, এই সাতটি নদীর পানির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উভয়পক্ষ। এ ছাড়া পদ্মা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণে একটি যৌথ কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/জেআইএল/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন