বিজ্ঞাপন

‘ভারতের ঋণ শর্তের সংশোধন চেয়েছে বাংলাদেশ’

September 29, 2020 | 9:15 pm

স্পেশাল করেসপেন্ডন্ট

ঢাকা: ভারতের ঋণ (লাইন অব ক্রেডিট) নিয়ে দেশে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য গত ২০১০ সালে দেশটির সঙ্গে চুক্তি করে সরকার। এরপর মোট তিনবার ভারতের সঙ্গে ঋণ চুক্তি হয়। ঋণের শর্তগুলো অনেক কঠিন এবং প্রক্রিয়া অনেক জটিল হওয়াতে ৮ শ কোটি ডলার ঋণ চুক্তি মধ্যে মাত্র ১০০ কোটি ডলারের কম অর্থ খরচ হয়েছে। তাই উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ভারতকে লাইন অব ক্রেডিট-এর শর্ত সংশোধন করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন

দুই দেশের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ষষ্ঠ বৈঠকে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভারতকে এই প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। বৈঠকে পানি, জ্বালানি, অর্থনীতি, যোগাযোগ, কোভিড-১৯, সীমান্ত হত্যাসহ দুদেশের সম্পর্কের সবগুলো ইস্যু নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘তিস্তা বিষয়ে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে অনেক আগেই ঐক্যমত হয়েছে কিন্তু বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তাই আমরা এটা বাস্তবায়নের জন্য জোর দিয়েছি। আশা করছি দ্রুত হবে।’

বিজ্ঞাপন

তিস্তা চুক্তি বিষয়ে গত ১০ বছর আগে খসড়া প্রস্তুত হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। গত ১০ ধরে পানি বিষয়ক মন্ত্রীর মধ্যে বৈঠকেও ভারতের কোনো সায় নেই। এমন অবস্থায় তিস্তাচুক্তি বিষয়ে কতটা আমা করা যায়, জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কবে হবে সময় বলতে পারব না। তবে আমরা সব সময় আশাবাদী।’

দুই দেশের মধ্যে আকাশ যোগাযোগ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এয়ার বাবল চালু করতে আমরা একমতে পৌঁছেছি। এই বিষয়ে মোডালিটিসহ আনুষঙ্গিক বিষয় চূড়ান্ত করতে কাজ চলছে। পাশাপাশি আমরা বলেছি যে রোড ওপেন করে দেন, তাহলে আমাদের সুবিধা হয়। কেন না আমাদের বেশির ভাগ মানুষ সড়ক পথেই যাতায়াত করে। ভারত এই বিষয়টি মেনে নিয়েছে।‘

বিজ্ঞাপন

ভারতীয় ঋণের শর্ত সংশোধন বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘লাইন অব ক্রেডিট আজকের বৈঠকে বড় ইস্যু ছিল। এটা আমাদের ইস্যু। এই ক্রেডিটটার বাস্তবায়ন খুব ধীর গতিতে হচ্ছে। তাই বৈঠকে এটা আমরা আলোচনায় গুরুত্বের সঙ্গে তুলেছি। এই বিষয়ে একটি মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে, যাতে এই ক্রেডিট ছাড়ে গতিশীল করা যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ছাড়া আমরা এই লাইন অব ক্রেডিটের শর্তগুলো সংশোধন করতে বলেছি। কেন না ক্রেডিট ছাড়ের আইন কানুনে অনেক ঝামেলা আছে। যেমন লাইন অব ক্রেডিটের অর্থ দিয়ে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গেলে বিভিন্ন প্রসেসে ভারতের একাধিক অনুমতি নিতে হয়। আবার প্রকল্প বাস্তবায়নের অনেক উপকরণই ভারত থেকে আনতে হয়। আমরা বলেছি যে প্রকল্প বাস্তবায়নের উপকরণ আমাদের এখানে থাকলে এখান থেকেই সংগ্রহ করার অনুমতি দিতে হবে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আসবে। এই বিষয়গুলো আমরা আলাপ করেছি এবং কোন কোন ক্ষেত্রে সংশোধন করতে হবে তার একটি প্রস্তাবও দিয়েছি। একটি কমিটি গঠন হয়েছে। তারা বসে এই বিষয়গুলোর সমাধান করবে।’

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/জেআইএল/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন