বিজ্ঞাপন

কোভিড মোকাবিলায় ৬ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

September 29, 2020 | 11:47 pm

সারাবাংলা ডেস্ক

সারাবিশ্বের সংকট হয়ে দাঁড়ানো মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মোকাবিলায় একটি ‘সুসমন্বিত রোডম্যাপ’ প্রণয়নের প্রয়োজনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ক্ষেত্রে তিনি জাতিসংঘকে ‘অনুঘটক’ হিসেবে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। কোভিডের বৈশ্বিক প্রভাব মোকাবিলায় ছয় দফা প্রস্তাবও পেশ করেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

‘কোভিড-১৯-এর চলমান সময় এবং পরবর্তী উন্নয়নের জন্য অর্থায়ন’ শীর্ষক এক উচ্চ পর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠকে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে সাধারণ পরিষদের ৭৫তম অধিবেশনের সাইড লাইনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোভিড-১৯ সংকট মোকাবিলার জন্য আমাদের একটি সুসমন্বিত রোডম্যাপ দরকার। এই সংকট দূর করতে ২০৩০-এর এজেন্ডা, প্যারিস চুক্তি ও আদ্দিস আবাবা অ্যাকশন এজেন্ডা আমাদের ব্লুপ্রিন্ট হতে পারে। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘকে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী ছয় দফা প্রস্তাব পেশ করে বলেন, ‘প্রথমত, জি-৭, জি-২০, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত সংস্থাভুক্ত (ওইসিডি) দেশগুলো, বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক (এমডিবিএস) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যানশিয়াল ইনস্টিটিউটগুলোর (আইএফআইএস) বার্ষিক প্রণোদনা, ছাড়ের অর্থ এবং ঋণ মওকুফের পদক্ষেপ বাড়ানো উচিত। উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোকে অবশ্যই তাদের ৭ শতাংশ ওডিএ প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে।’

‘দ্বিতীয়ত, আমাদের উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আরও বেশি বেসরকারি অর্থ ও বিনিয়োগ সরিয়ে আনা প্রয়োজন। ডিজিটাল বিভাজন বন্ধ করার জন্য আমাদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে আরও কাজে লাগাতে হবে। তৃতীয়ত, কোভিড পরবর্তী চাকরির বাজারের জন্য অভিবাসী শ্রমিকদের সহায়তা করে রেমিট্যান্স প্রবাহের নিম্নমুখী প্রবণতা ফিরিয়ে আনতে আমাদের নীতিগত পদক্ষেপ প্রয়োজন।’

বিজ্ঞাপন

চতুর্থ ও পঞ্চম প্রস্তাবনায় শেখ হাসিনা বলেন, উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোকে অবশ্যই শুল্কমুক্ত, কোটামুক্ত বাজারে প্রবেশ, প্রযুক্তি সমর্থন এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আরও প্রবেশযোগ্য অর্থায়নের বিষয়ে তাদের দেওয়া যেসব প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি, সেগুলো পূরণ করতে হবে। এলডিসি থেকে উত্তরণ লাভকারী দেশগুলো যেন মহামারিজনিত কারণে কোনোভাবে পিছলে না পড়ে, সেটি রোধ করতে কমপক্ষে ২০৩০ সাল পর্যন্ত নতুন আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থা থাকতে হবে।

শেষ প্রস্তাবনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু সংক্রান্ত কার্যক্রম ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে অর্থায়নের জন্য আরও জোর প্রচেষ্টা করা দরকার।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে করোনাভাইরাসের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের জিডিপি’র ৪ দশমিক ৩ শতাংশের সমপরিমাণ ১ হাজার ৩২৫ কোটি ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের কর্মসূচিগুলোর আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি এই মহামারি চলাকালে কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শিল্পী ও সাংবাদিকসহ তিন কোটিরও বেশি মানুষকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে সরকার।

সভা আহ্বানের জন্য বক্তব্যের শুরুতেই কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, জ্যামাইকার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড্রু হলনেস ও জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, উন্নয়নের জন্য অর্থায়নের ছয়টি কেন্দ্রীয় লক্ষ্য নিয়ে এই উদ্যোগের সূচনা অত্যন্ত সময়োচিত।

বিজ্ঞাপন

শেখ হাসিনা বলেন, মিশর-জাপান-স্পেনের সঙ্গে আলোচনা গ্রুপ-১ এর সহ-নেতৃত্বে ছিল বাংলাদেশ। আমরা মনে করি, আমাদের প্রতিশ্রুতিগুলোকে কাজে পরিণত করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ। বাসস।

সারাবাংলা/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন