বিজ্ঞাপন

সিরাজগঞ্জে যমুনার পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে রোপা আমন

September 30, 2020 | 9:48 am

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

সিরাজগঞ্জ: কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে যমুনাসহ সিরাজগঞ্জের শাখা নদীগুলোতে পানি বেড়ে যাওয়ায় তলিয়ে যাচ্ছে রোপা আমন ধান। এতে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন কৃষকরা।

বিজ্ঞাপন

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, নতুন করে যমুনায় পানি বাড়ার কারণে জেলার কাজীপুর, সদর, তাড়াশ, শাহজাদপুর, চৌহালী, বেলকুচি ও উল্লাপাড়ার রোপা আমন ধানসহ উঠতি ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি বাড়তে থাকায় আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন কৃষকরা। চরাঞ্চলের প্রায় ৮০ ভাগ রোপা আমন পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।

যমুনার পানি দফায় দফায় বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার আউশ ও রোপা আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা হিসেবে বন্যাকবলিত সাতটি উপজেলার এক হাজার ২৪৫ কৃষকের মধ্যে বীজ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. আবু হানিফ বলেন, ‘জেলার বন্যাকবলিত উপজেলাগুলোতে ৫ হাজার কৃষকের মধ্যে এক বিঘা করে মাষকলাই, এক হাজার ২৪৫ কৃষকের মধ্যে রোপা আমন চারা ও ৮২টি ইউনিয়নের ৩২ জন কৃষকের মধ্যে সবজির চারা বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ ফের যমুনায় পানি বেড়ে যাওয়ায় অনেকের বীজতলা তলিয়ে গেছে। তবে আমরা প্রাকৃতিক এ দুর্যোগ মোকাবিলায় তৈরি রয়েছি।’

এদিকে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে ও কাজিপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ভাঙ্গনের তীব্রতা বেড়েই চলছে। ভাঙ্গনে ঘর-বাড়ি, ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। হুমকির মুখে রয়েছে মসজিদ, মারাসাসা ও স্কুলসহ বহু স্থাপনা। ভাঙন আতঙ্কে অনেকেই বসতবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। ভাঙন রোধে দ্রুত কাজ না করলে চৌহালী উপজেলার এনায়েতপুরের অস্তিত্ব নদীতে বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।

বিজ্ঞাপন

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছরের বন্যা দীর্ঘস্থায়ী। মে মাসের শেষ থেকে যমুনা নদীতে পানি বাড়তে শুরু করে। আবারও নদীতে পানি বাড়ছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টা পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। তবে বন্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই।

জানা গেছে, কাজীপুর উপজেলার পাটাগ্রাম ও শাহজাদপুর উপজেলার ব্রহ্মণগ্রাম থেকে কৈজুড়ী পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার জায়গা অরক্ষিত রয়েছে। এখানে ভাঙন ছিল। ভাঙন রোধে এক হাজার ১০০ কোটি টাকার দুটি প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদনও পেয়েছে। আরেকটি অনুমোদন পেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন