Sarabangla 4th-anniversary Sarabangla 4th-anniversary
বিজ্ঞাপন

অর্ধ বিলিয়নের রক্ষণেও সন্তুষ্ট নন গার্দিওলা

September 30, 2020 | 12:59 pm

সাহাবার সাগর, নিউজরুম এডিটর

পোর্তো থেকে সেন্টার ব্যাক রুবেন ডিয়াজকে ৭৯ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে দলে ভেড়ানোর পর ম্যানচেস্টার সিটিতে পাঁচ মৌসুমে কেবল রক্ষণভাগের পেছনেই অর্ধ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছেন পেপ গার্দিওলা। সব মিলিয়ে সিটিজেনদের ডাগ আউটে দাঁড়িয়ে পাঁচ মৌসুমে গার্দিওলা কেবল রক্ষণের পেছনেই ঢেলেছেন ৫৬২ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। তবে তাতেও রক্ষণে ভারসাম্য খুঁজে পাচ্ছেন না এই স্প্যানিশ কোচ।

বিজ্ঞাপন

দেখে নেওয়া যাক গার্দিওলার রক্ষণে ভেড়ানো ফুটবলারদের তালিকা:

২০১৬/১৭ মৌসুম:

বিজ্ঞাপন

আলেক্সান্ডার জিনচেঙ্কো: ইউক্রেনের ক্লাব এফসি ইউফা থেকে ২০১৬ সালে আলেক্সান্ডার জিনচেঙ্কোকে দলে ভেড়ান গার্দিওলা। জিনচেঙ্কো মধ্যমাঠের খেলোয়াড় হলেও গার্দিওলা অধীনে তাকে লেফট ব্যাক পজিশনে খেলতে দেখে গেছে। তার জন্য ১ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার গুনতে হয়েছিল সিটিজেনদের।

জন স্টোনস: এভারটন থেকে ৫৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে ইংলিশ সেন্টার ব্যাক জন স্টোনসকে দলে ভেড়ান গার্দিওলা। এবারের মৌসুম গার্দিওলার অধীনে তার পঞ্চম মৌসুম। রুবেন ডিয়াজ সিটিতে নাম লেখানোয় জন স্টোনস হারাতে পারেন দলে তার জায়গা। এর আগে মৌসুম জুড়ে ইনজুরির কারণে বেশিরভাগ সময়ই খেলতে পারেননি স্টোনস। আর এ কারণেই হারিয়েছেন ইংলিশ দলে নিজের জায়গা।

বিজ্ঞাপন

২০১৭/১৮ মৌসুম:

কাইল ওয়াকার: প্রথম মৌসুমে রক্ষণে দুই খেলোয়াড় দলে ভেড়ানোর পর দ্বিতীয় মৌসুমেও রক্ষণ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন পেপ। এবার টটেনহাম হটস্পার্স থেকে তরুণ ইংলিশ ফুলব্যাক কাইল ওয়াকারকে দলে ভেড়ান। তার জন্য গার্দিওলাকে গুনতে হয় ৬৩ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। ওয়াকার দলে ভিড়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করেন, তবে লেস্টারের বিরুদ্ধে পেনাল্টি উপহার দিয়ে দলকে বেশ বিপদে ফেলেছেন। অবশ্য ওয়াকারকে নিয়ে চিন্তিত পেপ নিজেও তাই তো তার বদলি হিসেবেও দলে ভিড়িয়েছেন আরো খেলোয়াড়।

বিজ্ঞাপন

দানিলো: রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ব্রাজিলিয়ান ফুলব্যাক দানিলোকে ৩১ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে দলে ভেড়ান পেপ গার্দিওলা। ডান প্রান্তে ওয়াকার এবং বাঁ-প্রান্তে বেঞ্জামিন মেন্ডি থাকার পরেও দানিলোকে দলে ভেড়ান গার্দিওলা। তবে ওই মৌসুমেই ইনজুরিতে পড়ে দলে জায়গা হারান দানিলো। এরপর আর পেপের দলে নিয়মিত হয়ে উঠতে না পেরে অবশেষে পাড়ি জমান জুভেন্টাসে। সিটিজেনদের হয়ে মাত্র ২৩টি ম্যাচ খেলেছেন দানিলো।

বেঞ্জামিন মেন্ডি: ওয়াকার, দানিলোকে দলে ভেড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানের দল মোনাকো থেকে ৬১ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে বেঞ্জামিন মেন্ডিকে দলে আনেন গার্দিওলা। মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে দ্রুতই সমর্থকদের মন জিতে নেন মেন্ডি। তবে ইনজুরির কারণে মৌসুমের বেশিরভাগ সময়ই মাঠের বাইরে থাকায় বেকায়দায় পড়ে সিটিজেনরা। ২৬ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার বর্তমানে সুস্থ হলেও দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকায় আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে পারছেন না। আর তাই তো লেস্টারের বিপক্ষে তার রক্ষণের ভুলের কারণে গোল হজম করতে হয় সিটিজেনদের।

বিজ্ঞাপন

এরিক গার্সিয়া: বার্সেলোনা থেকে প্রায় ২ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে সিটিজেনরা দলে ভেড়ায় তরুণ সেন্টার ব্যাক এরিক গার্সিয়াকে। যদিও সে সময় সিটির যুব একাডেমির জন্য গার্সিয়াকে দলে ভেড়ায়। তবে ১৯ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার দুর্দান্ত পারফর্ম করে গার্দিওলার প্রধান দলে জায়গা করে নেন। আর দুর্দান্ত পারফর্মের দরুণ স্পেন জাতীয় দলেও হয়েছে অভিষেক।

এমিরিক লাপোর্তে: ২০১৭/১৮ মৌসুমের জানুয়ারির শীতকালিন দলবদলের মৌসুমে অ্যাথলেটিক ক্লাব বিলবাও থেকে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার এমিরিক লাপোর্তেকে দলে টানেন গার্দিওলা। তার জন্য প্রায় ৬৭ মিলিয়ন ডলার গুনেন গার্দিওলা। ২৬ বছর বয়সী লাপোর্তেও ইনজুরির সমস্যায় ভুগেন মৌসুমের বড় একটা সময়। তবে যখনই মাঠে খেলার সুযোগ হয় দুর্দান্ত পারফর্ম করেন এই স্প্যানিশ।

২০১৮/১৯ মৌসুম: 

ফিলিপ স্যান্ডলার: সিটিজেনদের বস হিসেবে প্রথম দুই মৌসুমে ৭জন ডিফেন্ডার দলে ভেড়ানোর পর তৃতীয় মৌসুমে এসে আরও একজন ডিফেন্ডার কেনেন গার্দিওলা। এবার তার দলে যোগ দেন ফিলিপ স্যান্ডলার। ৩ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে এই বেলজিয়াম থেকে ২৩ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারকে দলে ভেড়ায় ম্যানসিটি।

২০১৯/২০ মৌসুম:

অ্যাগলিনো: টানা দুই মৌসুম লিগ জেতার পর তৃতীয় মৌসুমেও লিগের জন্য লড়াই করতে রক্ষণ আরও শক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন গার্দিওলা। এবার অ্যাগনিলোকে ৬ মিলিয়ন ডলার দিয়ে পিএসভি থেকে উড়িয়ে আনেন গার্দিওলা। তবে এক মৌসুম পরেই তাকে ছেড়ে দেন গার্দিওলা।

জাও ক্যানসেলো: কাইল ওয়াকারের অধারাবাহিকতার কথা মাথায় রেখে জুভেন্টাস থেকে রাইট ব্যাক জাও ক্যানসেলোকে দলে ভেড়ান গার্দিওলা। আর দানিলোকেও যোগ করেন এই প্রস্তাবে। এই পর্তুগিজ ফুলব্যাকের জন্য ৭০ মিলিয়ন ডলার গুনতে হয়েছে সিটিজেনদের। গেল মৌসুমে গার্দিওলার চাহিদা মোতাবেক পারফর্ম করেছেন ক্যানসেলো। আর তাই তো পেপের গুড বুকেও নাম উঠেছে এই পর্তুগিজ ফুলব্যাকের।

২০২০/২১ মৌসুম:

প্রথম চার মৌসুমে ১১জন ডিফেন্ডার দলে ভেড়ানোর পরও এখনও গার্দিওলা মনে করছেন তার দলের রক্ষণ যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। আর লিভারপুলের কাছে শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার কারণ তার ভঙ্গুর রক্ষণ। তাই তো পঞ্চম মৌসুম এসে আবারও রক্ষণে বড় দুই সাইনিং। এফসি বর্নোমাউথ থেকে নাথান একে এবং পর্তুগিজ ক্লাব এফসি পোর্তো থেকে রুবেন ডিয়াজ। যাদের জন্য প্রায় ১২০ মিলিয়ন ডলার।

রুবেন ডিয়াজ: পেপ গার্দিওলার দলের সর্বশেষ সংযোজিত ডিফেন্ডার পোর্তোর রুবেন ডিয়াজ। তার জন্য ৭৯ মিলিয়ন ডলার গুনে দলে ভেড়ানোর পরেই সিটির হয়ে রক্ষণভাগে অর্ধ বিলিয়ন ডলার খরচ করেন গার্দিওলা। ২০১৬ সালে সিটির দায়িত্ব নেওয়ার পর গার্দিওলা মোট ১২জন ডিফেন্ডারকে দলে ভিড়িয়েছেন যাদের তাকে গুনতে হয়েছে ৫৬২ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। ২৩ বছর বয়সী রুবেন ডিয়াজ সিটিতে তার ১২তম ডিফেন্ডার। রোববার লেস্টার সিটির বিপক্ষে ৫-২ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই রুবেন ডিয়াজকে দলে ভেড়ায় সিটিজেনরা। গার্দিওলা তার ম্যানেজারিয়াল ক্যারিয়ারে এই প্রথম পাঁচ গোল হজম করেন। রুবেন দলে ভেড়ার পাশাপাশি আর্জেন্টাইন সেন্টার ব্যাক নিকোলাস ওটামেন্ডি ক্লাব ছাড়ছেন।

নাথান একে: বর্নোমাউথের এই ডিফেন্ডারের পেছনে ৪৬ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছেন গার্দিওলা। আর তাতেই রক্ষণভাগে গার্দিওলার মোট খরচের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মোট ৫৬২ মিলিয়ন ডলার, ইউরোর হিসেবে যা ৪১৩ দশমিক ২ মিলিয়ন আর পাউন্ডে ৪০০ মিলিয়ন।

সারাবাংলা/এসএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন