বিজ্ঞাপন

‘যে প্রতিষ্ঠানই করা হোক, যেন প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা হয়’

October 1, 2020 | 1:08 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: পান্থপথের দুপাশে পুরো জায়গাটা বিশাল বিল ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যে প্রতিষ্ঠানেই করা হোক, প্রাকৃতিক ভারসাম্য যেন রক্ষা করা হয়। এখানে একটা জলাধারও সংরক্ষণ করা হয়নি। যার ফলাফল দেখি, বসুন্ধরা ভবনে যখন আগুন লাগে। যে ভবনটি তৈরি হয়েছে একেবারে বিলের ওপর, জলাধারের ওপর সেখানে আগুন নেভানোর পানি পাওয়া যাচ্ছে না। পানি আনতে হল হোটেল সোনারগাঁও সুইমিং পুল থেকে।’

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে গণভবন থেকে কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজধানীর পান্থপথে পানি ভবন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্মু্খে নির্মিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘ম্যুরাল’ ও বিমানবন্দরের অভ্যন্তরস্থ ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’ বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের নবনির্মিত প্রধান কার্যালয় ‘পর্যটন ভবন’; এবং সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প (প্রথম পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের নির্মাণকাজ উদ্বোধন ঘোষণ করেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন।

বিজ্ঞাপন

গণভবন প্রান্তে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস।

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের মেয়াদে পানি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘উপজেলা থেকে একেবারে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত সুপেয় পানি সরবরাহ করা আর সেটা বেশিরভাগই নদীর পানি পরিশুদ্ধ করে এটা সরবরাহ করা অর্থাৎ সুপেয় পানি, নিরাপদ পানি এবং স্যানিটেশন অর্থ্যাৎ পয়ঃপ্রণালী ব্যবস্থা এগুলি আমরা বিশেষভাবে দৃষ্টি দিচ্ছি।’

বিজ্ঞাপন

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পানি ভবন যে জায়গাটা, আসলে এখানে অনেকের হয়ত জন্মই হয়নি, আমরা দেখেছি আজকে যে জায়গাটায় এখন পান্থপথ। এটা কিন্তু একটি খাল। ওটাকে বক্স কালভার্ট করে ফেলা হয়েছে। আর পান্থপথের দুপাশে পুরো জায়গাটা একটা বিল, বিশাল বিল। আর ঠিক তার পাশে গ্রিন রোড, পানি ভবনের জায়গাটা ছিল।’

‘সবচেয়ে দুর্ভাগ্য যে উন্নয়নের নামে এই জায়গাটা যে একটা বিশাল বিল এলাকা, এখানে একটা জলাধারও কিন্তু সংরক্ষণও করা হয় নাই।’

বিজ্ঞাপন

‘এজন্য আমি সবসময় নির্দেশ দিয়েছি যে যেখানে যে প্রতিষ্ঠানেই করা হোক, প্রাকৃতিক ভারসাম্য যেমন রক্ষা হবে, প্রকৃতিকে রক্ষা করার ব্যবস্থা নিতে হবে। আর জলাধার সংরক্ষণ করতে হবে। আমাদের দেশে বক্স কালভার্ট এই ফমুর্লাটাই হচ্ছে সবথেকে আত্মঘাতী। যেখানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি, যেখানে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকে না এবং কিছুদিন পর নানা রকমের জটিলতাও দেখা দেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাস্তা তৈরি করতে হলে এখন এলিভেটেড রাস্তা তৈরি করা যায়। নিচে জলযানও চলতে পারে, ওপরে রাস্তাও চলতে পারে? তারপরও এই বক্স কালভার্ট কেন করা হয়েছিল? কাদের পরামর্শে করা হয়েছিল সেগুলি নিয়ে আমি বলতে চাই না? সেগুলি এখন বলতে চাই না। কিন্তু সেই সমস্যাগুলি সৃষ্টি করা হয়েছে। আমরা এখন চেষ্টা করছি। উদ্ধার করতে কিন্তু কতটুকু হবে সেটা জানি না, সম্ভব না এত বছর পরে। তবু আমরা করে যাচ্ছি।‘

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী নদী ড্রেজিং, নৌপথ চালুসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘প্রাচ্যের সাথে পাশ্চাত্যের যে সংযোগ, বাংলাদেশ তার জন্য সবচেয়ে আদর্শ একটা জায়গা হতে পারে। যদি আমরা যেভাবে উন্নত করতে পারি। জাতির পিতা সবসময় বলতেন তিনি বাংলাদেশকে তিনি প্রাচ্যের ‍সুইজারল্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলবেন। কারণ ইউরোপে সুইজারল্যান্ডের যে অবস্থানটা, কারণ ইউরোপের একদিক থেকে আরেকদিকে যেতে গেলে সুইজারল্যান্ডের ভিতর হয়ে যেতে হয় এবং বাংলাদেশের অবস্থানটা এবং ইন্টারন্যাশনাল এয়ার রুটের ভিতরে আছে। সেখানে আমাদের অনেক সম্ভাবনা আছে। সেখানে আমরা সম্ভাবনাটাকে কাজে লাগাতে পারি। তাহলে একদিকে পর্যটন শিল্প অপরদিকে এই এয়ারলাইনন্স অনেক টাকা উপার্জন করে দিতে পারে।’

‘আমরা সরকারে আসার পর এ পর্যন্ত ১৩টা অত্যাধুনিক বিমান এয়ারলাইন্সে যুক্ত হয়েছে।’ আঞ্চলিক বিমানবন্দর ও আভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোকে আরও উন্নত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের কথা তুলে ধরেন।

এছাড়া কক্সবাজার পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত। সেখানে পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এই যে পর্যটনের বিশাল একটা সম্ভাবনা আমাদের। সেই জায়গাটা উন্নত করা। সেই সাথে আমরা যেহেতু ইন্টারন্যাশনাল এয়ার রুটের মধ্যে আছি কাজেই অত্যন্ত আধুনিক উন্নত মানের এয়ারপোর্ট তৈরি করবার আমাদের পরিকল্পনা এবং কাজ শুরু করে দিয়েছি।’

‘আকাশপথেও আমরা একটা যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করছি অর্থাৎ সড়ক পথ নৌপথ, আকাশ পথ তিন ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা করে দিয়েছি। যোগাযোগ ব্যবস্থা যত সহজ হবে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা গতিশীলতা পাবে, উন্নত হবে। মানুষের যাতায়াতেরও সহজ হবে। পাশাপাশি রেলপথ আমরা ব্যাপকভাবে সংস্কার ও উন্নত করার পরিককল্পনার কথা তুলে ধরেন। যোগাযোগ করার মধ্য দিয়ে আমরা দেশের কাজ করে দিচ্ছি।’

আমাদের বিমান যেন বিভিন্ন দেশে যেতে পারে। তার জন্য আলোচনা হচ্ছে। বিমানের নিরাপত্তা বিমানের সেবা, সব দিকে থেকেই যেন বিমান উন্নত হয় তার জন্য যথাযথভাবে আমরা কাজ করে যাচ্ছি বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সংস্থার চাহিদা অনুযায়ী আইনগুলি যথাযথভাবে প্রণয়ন করে সে আইনও আমরা পাস করে দিয়েছে। যাতে করে আমাদের বিমান পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পাঠাতে পারি। আর বাংলাদেশে অন্য দেশে যেন বিমান আসতে পারে, যেতে পারে সেদিকে আমরা বিশেষভাবে দৃষ্টি দিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে দেখলাম যে আমেরিকার সঙ্গে একটা চুক্তি হয়েছে, যেখানে আমাদের বিমান যেতে পারবে। আমরা যখন থেকে বোয়িং বিমানগুলি কিনি তখন থেকে এটা একটা প্রচেষ্টা ছিল, আমরা যেন আমেরিকায় আমাদের বিমান নিতে পারি। সেখানে আমাদের অনেক বাঙালিরা বসবাস করেন। সেভাবে বিমান ক্রয়ও করেছি। যাতে ঢাকা থেকে সরাসরি ফ্লাই করতে পারে ঢাকা থেকে নিউইয়র্ক, ঢাকা থেকে টরেন্টো, ঢাকা থেকে টোকিও; পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যেন আমরা সরাসরি যেতে পারি, সে ধরনের আধুনিক কিছু বিমানও আমরা ক্রয় করে ফেলেছি। কাজেই আমাদের এখন সকলের সাথে একটা সমঝোতা করে এটাকে আরও উন্নত করতে হবে এবং যোগাযোগটা বাড়াতে হবে।’

সারাবাংলা/এনআর/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন