বিজ্ঞাপন

‘অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীরা জাতির পিতার ফসল ভোগ করেছে’

October 1, 2020 | 1:53 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীরা ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করবার দিকে যতটা দৃষ্টি দেয়, দেশের মানুষের উন্নয়নের দিকে ততটা দৃষ্টি দেয় না। প্রথম কিছুদিন জাতির পিতা যে ফসল লাগিয়ে গিয়েছিলেন, যে গাছ লাগিয়ে গিয়েছিলেন, সেই ফসলেই তারা ভোগ করেছে কিন্তু এরপর বাংলাদেশ আর এগুতে পারেনি।’

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে গণভবন থেকে কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজধানীর পান্থপথে পানি ভবন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্মু্খে নির্মিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘ম্যুরাল’ ও বিমানবন্দরের অভ্যন্তরস্থ ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’ বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের নবনির্মিত প্রধান কার্যালয় ‘পর্যটন ভবন’; এবং সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প (প্রথম পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন।

গণভবন প্রান্তে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মূখ্যসচিব আহমদ কায়কাউস।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আকাশ এবং পানি দুটোই আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানির অপর নাম হচ্ছে জীবন। আবার আকাশ পথে আমরা যাতায়াত করি। আকাশও আমাদের দরকার।’

স্বাধীনতার পর জাতির পিতার নেতৃত্বে পানি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘খুব অবাক লাগে যে একটা স্বাধীন দেশে এত দ্রুত সময়ে পদক্ষেপ নেওয়া, বিশ্বে বোধহয় আর কোনো নেতা কখনো করতে পারেনি। যেটা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব করে গিয়েছিলেন।’

বিজ্ঞাপন

‘অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীরা জাতির পিতার ফসল ভোগ করেছে’

১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করেন এবং তার পরবর্তী অবৈধ সেনা শাসকদের সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এরপর বাংলাদেশে হত্যা, কূ, ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু হয়। সংবিধান লঙ্ঘন করে মার্শাল ল’ জারি করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে সেনা শাসন জারি হয়। আর যারা অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী হয়ে যায়, তারা ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করবার দিকে যতটা দৃষ্টি দেয়, দেশের মানুষের উন্নয়নের দিকে ততটা দৃষ্টি দেয় না। হ্যাঁ, প্রথম কিছুদিন জাতির পিতা যে ফসল লাগিয়ে গিয়েছিলেন, যে গাছ লাগিয়ে গিয়েছিলেন, সেই ফসলেই তারা ভোগ করেছে কিন্তু এরপর বাংলাদেশ আর এগুতে পারেনি।’

বিজ্ঞাপন

এছাড়া তার সরকারের বিভিন্ন মেয়াদে গ্রহণ করা নানামুখী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য আমাদের দেশের মানুষকে সুপেয় পানি দিতে হবে। কিন্তু আমাদের ভূউপরিস্থ পানি ব্যবহার করতে হবে। আমাদের সেচের পানি বা ব্যবহারের পানি যেন ভূগর্ভস্থ পানির পরিবর্তে আমরা ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার করতে পারি সেদিকে আমরা বিশেষ দৃষ্টি দেই।’

সারাদেশে নদী-নালা, খাল বিল, জলাধার সংরক্ষণ, সংস্কার ও ড্রেজিং করার লক্ষ্যে সরকারে গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এতে জীববৈচিত্র্য রক্ষা হবে, আমাদের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা হবে এবং আমাদের মৎস্য উৎপাদনও বাড়বে, মানুষের মৎস্যের চাহিদাটাও আমরা পূর্ণ করতে পারব। সেদিকে লক্ষ্য রেখে বিভিন্ন পরিকল্পনা আমরা হাতে নিয়ে সেগুলি আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পানি ভবনের উদ্বোধন করেন। ২০১৫ সালের ৩১ জানুয়ারি প্রায় ২৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১২ তলা বিশিষ্ট পানি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। পানি ভবন প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল জলবায়ুর বিরূপ পরিবর্তনের উদ্ভূত নানা দুর্যোগ মোকাবেলাসহ শতবর্ষী ডেল্টাপ্ল্যান ২১০০ বাস্তবায়নে যুগোপযোগি ও আধুনিক কর্মপরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বোধ করা হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৫৪ এবং ১৯৫৫ সালের উপর্যুপরি ভয়াবহ বন্যার পর জাতিসংঘের অধীনে গঠিত ক্রুগ মিশনের সুপারিশক্রমে সেচ ব্যবস্থা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণসহ পানি সম্পদের উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় পূর্ব পাকিস্তান পানি ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (ইপিওয়াপদা) গঠিত হয়। ১৯৭২ সালে ইপিওয়াপদার ‘পানি উইং’ নিয়ে ‘বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড’ (বাপাউবো) নামে স্বতন্ত্র সংস্থা সৃষ্টি হয়।

প্রসঙ্গত, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিজস্ব প্রকৌশলীদের নকশায় প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার বর্গফুটবিশিষ্ট এ ভবনের নির্মাণে লেগেছে প্রায় সাড়ে চার বছর। কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পানি ভবনে সোলার প্যানেল, সুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, রেইন ওয়াটার রিজার্ভারের মতো পরিবেশ বান্ধব ব্যবস্থাসহ ৫৩৬ জন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন অডিটরিয়াম, ৪৫০০ বর্গফুটের হেলিপ্যাড, ৩৭৬টি গাড়িপার্কিংসহ অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রয়েছে। উপরন্তু, এই কমপ্লেক্সে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্মৃতিবিজড়িত পুকুরটি (২১,৪৮৪ বর্গফুট) সংরক্ষণ করা হয়েছে ও ২০,৬২৫ বর্গফুটের একটি জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে।

সারাবাংলা/এনআর/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন