বিজ্ঞাপন

আজ বাফুফে নির্বাচন!

October 3, 2020 | 10:28 am

স্পোর্টস করেসনপন্ডেন্ট

ঢাকা: অপেক্ষার পালা প্রায় শেষ আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই শুরু হবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নির্বাচন ও বার্ষিক সাধারণ সভা। সকালে এজিএম আর দুপুর থেকে শুরু হবে নির্বাচন। ২১ পদকে কেন্দ্র করে ৪৭জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন এই নির্বাচনে। ভোটের লড়াইকে সামনে রেখে নির্বাচনী হাওয়া বইছে ভোটকেন্দ্রকে ঘিরে।

বিজ্ঞাপন

গত দুইদিন থেকে ভোট কেন্দ্র পর্যবেক্ষণে রেখে সকল প্রস্তুতি সেড়ে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

চার বছর পর বিভিন্ন মেয়াদে নির্বাচন পেছালেও ৩ অক্টোবর (শনিবার) আয়োজন করা হচ্ছে আলোচিত এই নির্বাচন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে আগামী চার বছরে কারা দেশের সর্বোচ্চ ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার সর্বোচ্চ আসনে থাকবেন তা ভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হচ্ছে। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সকালে সাধারণ সভা এবং দুপুর দু’টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলবে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত।

বিজ্ঞাপন

এরই মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার মেজবাহ উদ্দীন। তিনি বলেন, ‘আমরা গতকাল ও আজ বাফুফে ভবন ও নির্বাচনের ভেন্যু সোনারগাঁও হোটেল পর্যবেক্ষণ করেছি। যেখানে প্রয়োজন পরামর্শ দিয়েছি। দুপুর দুইটায় শুরু হবে ভোট গ্রহণ। শেষ হবে ছয়টায়। এরপরই শুরু হবে ভোট গণনার কাজ। আশা করি যেভাবে কংগ্রেস হয় সেভাবেই হবে। পুরো সময়ে ডেলিগেটরা নিজ নিজ আসনে অবস্থান করবেন। ভোট দেবেন ফলাফল দেখবেন।’

আজ বাফুফে নির্বাচন!

বিজ্ঞাপন

মহামারি করোনাভাইরাসের কথা বিবেচনা করে দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আটটি বুথে চলবে ভোট গ্রহণ। ভোটারদের জন্য থাকবে চারটি ব্যালট পেপার। নির্দেশনা মেনে ভোট দিতে হবে কাউন্সিলরদের জানালেন মেজবাহ উদ্দীন, ‘কোভিড সংক্রান্ত বেশ কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। লাইন ধরার সময় আলাদা চিহ্ন থাকবে। থাকবে হাত ধোঁয়ার ব্যবস্থাও। এই হচ্ছে আয়োজন।’

২১টি পদে মোট ৪৭ জন প্রার্থী লড়াই করবেন। ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন ১৩৯ ভোটার। কীভাবে ভোট দিতে হবে সেই নির্দেশনা আসে নির্বাচন কমিশন থেকে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমাদের তিন সেট ব্যালট পেপার রয়েছে। আমরা এক সেট ব্যবহার করবো। প্রতি সেটে ১৩৯টি ব্যালট। প্রথম ভোটের জন্য আমরা ১৩৯ কে দুই ভাগ করবো। একটি ৭০ অপরটি ৬৯। ভোট তাড়াতাড়ি করার জন্য দুই টেবিল দিক থেকে আট বুথে ভোট গ্রহণ চলবে। যাতে কোভিড মহামারির সময়ে দ্রুত ভোট আদায় করা যায়। দীর্ঘ সময় ধরে সম্মানিত ডেলিগেটদের হলে আটকে রাখতে চাচ্ছি না। তাই একদিক থেকে ৭০টা আরেক দিকে ৬৯টা নাম ডাকা হবে। তারা ব্যালট নিয়ে যাবেন, এক সঙ্গে চারটা ব্যালট দেয়া হবে। আগে একটা করে দেয়া হতো। চারটা ব্যালট নিয়ে বুথে ঢুকবেন।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘ভোট দেয়া শেষে তিনি ভাজ করবেন। বাক্সে ঢালার আগে তিনি দেখবেন কোন ভোটটা কোন বাক্সে দিচ্ছেন। সভাপতির ভোট যাতে সভাপতির বাক্সে পড়ে। সিনিয়র সহ-সভাপতির ভোট যাতে নির্ধারিত বাক্সে পড়ে। ভোটারদের সুযোগ করে দিতে আমরা সাদা ব্যালট পেপারের পেছনে পদের নাম লিখে দিয়েছি। যাতে ভাজ করলে সভাপতি নামটা উপরে দেখা যায়। এই প্রক্রিয়ায় ভোট গ্রহণের পর ভোট গণনা করা হবে।’

ভোট কেন্দ্রে নেয়া যাবে না মোবাইল ফোন। মেজবাহ বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে সবাইকে জানাতে চাই। ভোটিং কংগ্রেস হলের ভেতর কর্তৃপক্ষ ছাড়া কারও কাছে কোনো মোবাইল ফোন থাকবে না।’

বিজ্ঞাপন

এবার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুটি প্যানেল অংশ নিচ্ছে। একদিকে কাজী সালাউদ্দিন-মুর্শেদীর নেতৃত্বে সম্মিলিত ফুটবল পরিষদ, অন্যদিকে সভাপতি পদ ছেড়ে প্যানেল ঘোষণা করেছে আসলাম-মহি সমন্বয় পরিষদ। স্বতন্ত্রভাবে বিভিন্ন পদে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন ৫জন। স্বতন্ত্রভাবে সভাপতি পদে দাঁড়িয়েছেন শফিকুল ইসলাম মানিক। ব্যালট পেপারে নাম থাকলেও আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বাদল রায়।

আজ বাফুফে নির্বাচন!

কমিশনার হিসেবে নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন মাহফুজুর রহমান সিদ্দিকী ও মোতাহার হোসেইন সাজু ও সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সকল আয়োজন হলেও এদিন সকালে বাফুফের বার্ষিক সাধারণ সভাও অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে গত চার বছরে এজিএম হয়েছে মাত্র একবার। এজিএমে আর্থিক প্রতিবেদন থেকে শুরু করে ফেডারেশনের যাবতীয় হিসেব উপস্থাপন করা হবে।

যে প্রার্থী যে পদে লড়াই করছেন:

সম্মিলিত পরিষদ:

সভাপতি : কাজী মোহম্মদ সালাউদ্দিন।

সিনিয়র সহ-সভাপতি: আবদুস সালাম মুর্শেদী।

সহ-সভাপতি: কাজী নাবিল আহমেদ, আমিরুল ইসলাম বাবু, ইমরুল হাসান, আতাউর রহমান মানিক।

সদস্য: হারুনুর রশিদ, শওকত আলী খান জাহাঙ্গীর, সত্যজিৎ দাশ রুপু, ইলিয়াছ হোসেন, বিজন বড়ুয়া, অমিত খান শুভ্র, ইকবাল হোসেন, মাহিউদ্দিন আহমেদ সেলিম, মো. জাকির হোসেন, মাহফুজা আক্তার কিরণ, আসাদুজ্জামান মিঠু, কামরুল হাসান হিলটন, সৈয়দ রিয়াজুল করিম, ইমতিয়াজ হামিদ সবুজ ও নুরুল ইসলাম নুরু।

সমন্বয় পরিষদ:

সিনিয়র সহ-সভাপতি: শেখ মোহাম্মদ আসলাম।

সহ-সভাপতি: মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান ও এসএম আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ।

সদস্য: আব্দুল ওয়াদুদ পিন্টু, মোহাম্মদ সাব্বির হোসেন, মহিদুর রহমান মিরাজ, মনজুরুল আহসান, আ ন ম আমিনুল হক মামুন, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম, আমের খান, হাজী মো. টিপু সুলতান, আরিফ হোসেন মুন, ইমতিয়াজ সুলতান জনি, সৈয়দ মুস্তাক আলী মুকুল, মিজানুর রহমান, ফজলুর রহমান বাবুল, হাসানুজ্জামান খান বাবলু, ও শাকিল মাহমুদ চৌধুরী।

স্বতন্ত্র প্রার্থী

সভাপতি: বাদল রায় এবং শফিকুল ইসলাম মানিক।

সহ-সভাপতি: তাবিথ আউয়াল।

সদস্য: হাজী মো. রফকি, সাখাওয়াত হোসনে ভূঁইয়া শাহীন, সাইফুর রহমান মনি।

সারাবাংলা/জেএইচ/এসএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন