বিজ্ঞাপন

বয়স ৩০ পেরুলেই মানতে হবে যা

October 11, 2020 | 3:39 pm

সাজিয়া আক্তার

খোলা বারান্দায় দোল চেয়ারে বসে খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে হয়তো ভাবছেন, বয়সটা বাড়ছে, কখন যে ৩০ পেরিয়ে গেছি বুঝতেই পারিনি। নিজেকে তরুণ রাখতে কতো কিছুই না করেছি। পারিনি। সময় যে বয়ে যায় সময়ের নিয়মে।

বিজ্ঞাপন

এই যদি হয় আপনার অবস্থা তবে এখন থেকেই মানতে হবে কিছু নিয়ম। জীবনযাপনে আনতে হবে কিছু পরিবর্তন। কারণ আপনার যে ৩০ বছর পেরিয়ে গেছে। শুনে অবাক হচ্ছেন?

আসলে ২৫ বছরের পর থেকেই আমাদের শরীরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য কোষের কর্মক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। আর ৩৫ বছর পেরুলেই ডিজেনারেশন প্রসেস যেন চরমে ওঠে। শরীরে বয়সের ছাপ পড়তে শুরু করে, ত্বক তার সৌন্দর্য হারায়। সেই সাথে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমতে শুরু করে। ফলে নানা রকম জটিল কঠিন রোগ শরীরে বাসা বাধতে থাকে।

বিজ্ঞাপন

বয়স বাড়ে, শরীর দুর্বল হয়, কর্মক্ষমতা কমে যায়। এটাই নিয়ম। তবে জীবনযাপনে কিছু নিয়মকানুন মেনে চললে দীর্ঘদিন সুস্থ ও সুন্দর থাকা যায়। চলুন জেনে নিই বয়স ৩০ পেরুলে কী কী নিয়ম মেনে চলা উচিত—

কফিতে লাগাম টানুন
ঘরে কিংবা বাইরে, আড্ডা কিংবা বৈঠকে; কফি খাওয়ার অভ্যাস অনেকের। এমন অভ্যাসের লাগাম টানুন। কফি খাওয়া কমাতে হবে। সম্ভব হলে কফিকে না বলুন। না হলে সেলের ডিজেনারেশন প্রসেস বেড়ে গিয়ে বয়সও বাড়বে লাগামহীনভাবে। তাই বেশিদিন সুস্থ থাকতে হলে আজ থেকেই কফি পানের মাত্রা কমিয়ে ফেলুন।

বিজ্ঞাপন

অ্যালকোহলকে ‘না’ বলুন
এতদিন খেয়ে আসলেও আপনার এখন সময় এসেছে অ্যালকোহলকে ‘না’ বলার। কারণ এই সময় শরীরে ইনফ্লমেটরি রেসপন্স খুব বেশি থাকে। আর অ্যালকোহল শরীরের ভেতরে ইনফ্লমেশনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। ফলে শরীর ভাঙতে শুরু করে।

কলাকে বন্ধু বানান
শরীরে একটু মেদ জমলেই ডায়েট চার্ট করেন অনেকে। কিন্তু তাতেও মানেন না নিয়ম। বয়স ৩০ পেরুলেই প্রতিদিন ডায়েটে কলা থাকাটা জরুরি। কারণ এই সময় যদি শরীরে পটাশিয়ামের ঘাটতি দেখা দেয়, তাহলে হরমোনাল ইমবেলেন্সের মতো সমস্যা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আর এমনটা হলে শরীরে বাসা বাধতে শুরু করে একের পর এক রোগ। তাই সুস্থ থাকতে কলাকে বন্ধু বানান।

বিজ্ঞাপন

সময়মতো খাবার খান
এতোদিন অনিয়ম করলেও এখন থেকে সকাল-দুপুর-রাতের খাবার খেতে হবে সময়মতো। এছাড়া কোনো সময়ই পেট খালি রাখা যাবে না। কারণ দীর্ঘসময় পেট খালি থাকলে কিংবা অসময়ে সকাল-দুপুর-রাতের খাবার খেলে হজম ক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়, ফলে ডায়াবেটিসের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।

পাতে রাখুন সবুজ শাক-সবজি
সকাল-দুপুর-রাতের খাবারে অবশ্যই সবুজ শাক-সবজি রাখুন। বিশেষ করে পালং শাক। পালং শাক যতো পারবেন, ততো খাবেন। কারণ পুষ্টিতে ভরপুর পালং শাকে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও মিনারেল। তার মধ্যে ভিটামিন এ, বি২, সি, ই, কে, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, জিঙ্ক, কপার ও প্রোটিন; এইগুলো তো আছেই। এছাড়াও আরও অনেক খাদ্যগুণ রয়েছে এতে। পালং শাকে থাকে ফলেট, যা ব্লাড কাউন্ট বাড়িয়ে দিয়ে শরীরকে সবদিক থেকে চাঙ্গা রাখে।

বিজ্ঞাপন

ক্য়ালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খান
হাড়ের মূল উপাদান হলো আমিষ, কোলাজেন ও ক্যালসিয়াম। আমাদের বয়স ৩০ বছর পার হলেই প্রাকৃতিক নিয়মেই হাড়ের ঘনত্ব ও পরিমাণ কমতে থাকে। হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হতে শুরু করে। ফলে এই বয়সে প্রচুর পরিমাণে ক্য়ালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার, যেমন- দুধ, দই প্রভৃতি খেতে হবে বেশি পরিমাণে।

সাইট্রাস ফলে আনুন প্রেম
যতো পারবেন কমলা লেবুর মতো সাইট্রাস ফল খাওয়ার চেষ্টা করবেন। নিয়মিত এসব ফল খেলে দেখবেন শরীর কেমন উন্নতি করতে শুরু করে। সাইট্রাস জাতীয় ফলের অনেক গুণ। কমলা লেবু, লেবু, মৌসম্বি লেবু এবং জাম হল মূলত সাইট্রাস ফল। এই ধরনের ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন- সি থাকে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটিয়ে নানাবিধ রোগকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।

খেতে হবে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার
নিয়মিত ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। কারণ এই উপাদানটি ব্রেন সেলের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া আটকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের অন্যতম উৎস সামুদ্রিক মাছ। ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার হৃদরোগ, ক্যানসারের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়।

লেখার সূত্র: বোল্ডস্কাই

সারাবাংলা/এসবিডিই/আইই

বিজ্ঞাপন

Tags: ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন