Sarabangla 4th-anniversary Sarabangla 4th-anniversary
বিজ্ঞাপন

এবারও ‘হৈমন্তী’র জায়গা হলো না বাংলায়, ফিরেছে ‘বিলাসী’

October 13, 2020 | 1:50 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: একটি প্রজন্ম আছে যাদের উচ্চ মাধ্যমিকে পড়া কোনো গল্পের কথা জিজ্ঞাসা করলেই প্রথমেই উচ্চারণ করে ‘হৈমন্তী’। কারণ দীর্ঘদিন উচ্চ মাধ্যমিকে পাঠ্য ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই গল্পটি। তবে গেলো কয় বছর হলো বাংলা সাহিত্যের ট্র্যাজিক এই গল্পের সঙ্গে পরিচয় নেই শিক্ষার্থীদের। কারণ হৈমন্তীকে বাদ দিয়েই তৈরি করা হয়েছিল উচ্চ মাধ্যমিকের নতুন পাঠ্যসূচি। যার ধারাবাহিকতায় এবারও রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে বাদ পড়া অন্যান্য গল্পের মধ্যে নতুন করে ফিরে এসেছে কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিলাসী গল্পটি। এছাড়াও নতুন সিলেবাসে পাঠ্যভুক্ত হয়েছে ১২টি গদ্য। সেগুলো হলো- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বাঙ্গালার লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘অপরিচিতা’, রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ‘গৃহ’, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আহ্বান’, কাজী নজরুল ইসলামের ‘আমার পথ’।

আবুল ফজলের ‘মানব-কল্যাণ’, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মাসি-পিসি’, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘বায়ান্নর দিনগুলো’, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘রেইনকোট’, মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘মহাজাগতিক কিউরেটর’ এবং গী দ্য মোপাসাঁর ‘নেকলেস’ গল্পটিকেও স্থান দেওয়া হয়েছে এবারের পাঠ্যসূচিতে।

বিজ্ঞাপন

এ বছরের পাঠ্য হিসেবে নির্ধারিত ১২টি কবিতা হলো- মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সোনার তরী’, জসীম উদ্দীনের ‘প্রতিদান’, জীবনানন্দ দাশের ‘সুচেতনা’, সুফিয়া কামালের ‘তাহারেই মনে পড়ে’, ফররুখ আহমেদের ‘পদ্মা’, সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘আঠারো বছর বয়স’, শামসুর রাহমানের ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর ‘আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি’, সৈয়দ শামসুল হকের ‘নুরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ এবং আবু হেনা মোস্তফা কামালের ‘ছবি’।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, এসব নতুন গদ্য ও কবিতাকে স্থান করে দিতে উচ্চ মাধ্যমিকের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে বাদ পড়েছে বেশকিছু গল্প ও কবিতা। গদ্যের মধ্যে বাদ পড়েছে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বিড়াল’, রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ‘চাষার দুক্ষু’, মোতাহের হোসেন চৌধুরীর ‘জীবন ও বৃক্ষ’ এবং আনিসুজ্জামানের ‘জাদুঘরে কেন যাব’।

বিজ্ঞাপন

আর কবিতার মধ্যে বাদ পড়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ঐকতান’, কাজী নজরুল ইসলামের ‘সাম্যবাদী’, জীবনানন্দ দাশের ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’, আহসান হাবীবের ‘সেই অস্ত্র’, আল মাহমুদের ‘লোক-লোকান্তর’ এবং দিলওয়ারের ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’।

সিলেবাসের পাঠ্যসূচি প্রসঙ্গে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘২০১৮ সাল থেকে পাঠ্যসূচি পরিমার্জন করা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও শিক্ষাবিদ একাজে আমাদের সহযোগিতা করছেন। আমরা পরিকল্পিত উপায়ে একটি গোছানো পাঠ্যসূচি তৈরি করতে চাই। যেটি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ও মানসিকতাকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করবে।’

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/টিএস/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন