বিজ্ঞাপন

‘এই ছোট ব-দ্বীপকে দুর্যোগ মোকাবিলা করেই বাঁচতে হবে’

October 13, 2020 | 6:12 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের একটা কথা মাথায় রাখতে হবে যে, দেশে ঘুর্ণিঝড় হবে, জলোচ্ছ্বাস হবে, বন্যা হবে, ভূমিকম্প হবে, অগ্নিকাণ্ড হবে, নদী ভাঙন আছে, খরা আছে— এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিনিয়ত আসতে থাকবে। এগুলো মোকাবিলা করেই আমাদের বাঁচতে হবে। অনেক দেশের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে! কিন্তু তুলনা করবার আগে একথাটাই সবার মনে রাখা উচিত, আমাদের সামান্য ছোট একটি ভূখণ্ড, সেটাও আবার ব-দ্বীপ।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ‘আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০২০’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে দিবসটি উদ্বোধন করেন। এছাড়াও তিনি গাইবান্ধা এবং বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সংযুক্ত হয়ে মতবিনিময় করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি বদ্বীপ। পদ্মা-মেঘনা-যমুনা বিধৌত একটি অঞ্চল। এই বদ্বীপের ভূ-খণ্ডটা খুবই ছোট। আয়তন মাত্র ১ লাখ ৪৭হাজার ৫৭০ বর্গ কিলোমিটার। কিন্তু জনসংখ্যার দিক থেকে আমরা প্রায় ১৬ কোটির উপরে। স্বাধীনতার পর পর জাতির পিতা যেটা করেছিলেন- দুর্যোগের সময় মানুষকে সচেতন করা, মানুষকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে আসা ও আশ্রয় দেওয়া। সেদিকে লক্ষ্য রেখে তিনি ব্যাপকভাবে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাাণের কাজ শুরু করেন এবং তিনি ওই সময় বিরাট একটা পরিকল্পনা হাতে নেন। প্রায় এক হাজারের উপর ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি তার কাজ শুরু করেন।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য তিনি কাজগুলো শেষ করে যেতে পারেননি। ১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যা করার পর যারা ক্ষমতায় আসে তারা সেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ায়নি। যেহেতু তারা অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছিল সংবিধান লঙ্ঘন করে, মার্শাল ’ল জারি করে, তাই ওদিকে লক্ষ্যই ছিল না। তার কিছু নমুনা আমরা পাই ১৯৯১ সালে। বাংলাদেশে আরেকটি প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় হয়। সেই ঘূর্ণিঝড়ে লাখ লাখ মানুষ মারা যায়। গবাদি পশু থেকে শুরু করে অনেক কিছু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন আমি বিরোধীদলের নেতা। ক্ষমতায় ছিলেন খালেদা জিয়া। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যের বিষয়, এই যে একটা ঘূর্ণিঝড় আসছে, এ ব্যাপারে কোনো সতর্কতা ছিল না, ছিল না কোনো প্রস্তুতি।’ কিন্তু আওয়ামী লীগ সবসময় সতর্ক। ওই সময় উপকূলীয় অঞ্চল এবং চট্টগ্রামে গিয়ে ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি বদ্বীপ। এই বদ্বীপ অঞ্চলে আমরা বসবাস করি। প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে মোকাবিলা করে আমাদের চলতে হয়। আর এই বাংলাদেশের জনগণকে রক্ষা করার জন্যই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, আমরা তারি পদাঙ্ক অনুসরণ করে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি।’ বঙ্গবন্ধু সরকারের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তার সরকারের বিভিন্ন মেয়াদে নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বন্যা-দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে যেটুকু আমরা করে গিয়েছিলাম। পরবর্তী সময়ে আবার একই অবস্থা ফিরে আসে। কিন্তু দ্বিতীয়বার সরকারে আসার পর থেকে এ পর্যন্ত যত পদক্ষেপ নিয়েছি তার ফল আজ সবাই দেখতে পাচ্ছে। আজ আমরা যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় সারাবিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই বদ্বীপের ভেতর প্রায় সাতশ নদ-নদী, খাল-বিল রয়েছে। দেশের প্লাবন ভূমি হচ্ছে ৮০ শতাংশ, পাহাড়ি এলাকা ১২ শতাংশ আর সোপান এলাকা মাত্র ৮ শতাংশ। এই জায়গায় দুর্যোগ মোকাবিলা করে মানুষকে রক্ষা করা, জানমাল বাঁচানো, তাদের নিরাপদ রাখা এবং তাদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করা- এটাই হচ্ছে সব থেকে বড় কাজ। আমি অন্তত এখন এইটুকু বলতে পারি, এ ব্যাপারে আমরা যথেষ্ট অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছি।’

বিজ্ঞাপন

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ বি তাজুল ইসলাম এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন বক্তব্য দেন। বেদেনী নুরুন্নাহার এবং মো. রেজাউল হক সরকারের কাছ থেকে দুর্যোগ সহনশীল বাড়ি পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করেন। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক কাশফিয়া তালুকদারও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সেরা স্বেচ্ছাসেবক বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী নতুনভাবে নির্মিত ১৭ হাজার ৫টি দুর্যোগ সহনশীল ঘর ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন এবং ‘স্ট্যান্ডিং অর্ডার অব ডিজাস্টার’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এনআর/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন