বিজ্ঞাপন

পাসপোর্টের কাজে এসে লাশ হয়ে ফিরলেন মাস্টার্সের শিক্ষার্থী

October 13, 2020 | 7:40 pm

সিনিয়র করেপন্ডেন্ট

ঢাকা: আজিজুল ইসলাম মেহেদী। চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। পাসপোর্টের কোনো একটি কাজে এসেছিলেন ঢাকায়। কিন্তু সেই কাজ করে আর বাড়ি ফিরতে পারেননি তিনি। বরং স্বজনদের কাছে খবর গেছে, হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক তরুণের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে হাতিরঝিল এলাকা থেকে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) মর্গে এসে স্বজনরা শনাক্ত করে জানিয়েছেন, তিনিই মেহেদী। কে বা কারা, কী কারণে তাকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে কিছুই ধারণা করতে পারছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মেহেদীর লাশ উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে মেহেদির খালাত ভাই শাকিল ও মামাত ভাই সাফায়েত উল্লাহ ঢামেক মর্গে এসে মরদেহ শনাক্ত করেন। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে হাতিরঝিল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মেহেদী চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার বাউরিয়া গ্রামের ফখরুল ইসলামের একমাত্র ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ জানিয়েছে, মেহেদী হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে কাজ করছে তারা। খুব দ্রুতই এই হত্যা রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে তারা।

ঢামেক মর্গের সামনে মেহেদীর মামাত ভাই সাফায়েতের সঙ্গে কথা হয় সারাবাংলার। তিনি বলেন, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসে মেহেদী। ঢাকায় চাকরির ইন্টারভিউসহ কিছু কাজ ছিল বলে পরিবারকে জানিয়েছিল। এরপর থেকে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। আজ (মঙ্গলবার) ভোর ৬টার দিকে হাতিরঝিল থানা পুলিশ মোবাইল ফোনে আমাদের একটি মরদেহ উদ্ধারের কথা জানায়। পরে আমরা এসে মেহেদীর লাশ শনাক্ত করেছি।

বিজ্ঞাপন

সাফায়েত উল্লাহ আরও বলেন, মেহেদী লেখাপড়ার পাশাপাশি পরিচিতদের পাসপোর্টের কাজ করে দিত বলে জানতাম। পরিচিত কারও পাসপোর্টের কোনো সমস্যা থাকলে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ঠিক করে দিত। কে বা কারা কী কারণে তাকে হত্যা করেছে, তা বলতে পারছি না।

মেহেদীর খালাত ভাই শাকিল বলেন, আমরা ঢামেকে এসে জানতে পেরেছি তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। আমাদের ধারণা, সে পাসপোর্টের কাজে এসে দালালদের খপ্পরে পড়েছিল। কোনো কারণে হয়তো দালালের হাতেই তার মৃত্যু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) হাফিজ আল ফারুক সারাবাংলাকে বলেন, বিষয়টি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। আমাদের তদন্ত চলছে। আশা করি দ্রুত রহস্য উদঘাটন হবে।

সারাবাংলা/ইউজে/এসএসআর/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন