বিজ্ঞাপন

ধর্ষণ প্রমাণে মেডিকেল রিপোর্টই মুখ্য নয়: হাইকোর্ট

October 14, 2020 | 11:50 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: কেবল ডাক্তারি পরীক্ষা না হওয়ার কারণে ধর্ষণ প্রমাণ হয়নি— এই অজুহাতে ধর্ষণে অভিযুক্ত ব্যক্তি খালাস পেতে পারে না বলে মত দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলছেন, ধর্ষণের শিকার ব্যক্তির মৌখিক সাক্ষ্য ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য দ্বারা আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার ভিত্তিতেই আসামিকে সাজা দেওয়া যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

খুলনায় এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগের মামলায় আসামি ইব্রাহিম গাজীর যাবজ্জীবন সাজা বহাল রেখে হাইকোর্টের প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ মত তুলে ধরা হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পেয়েছে। ১৫ পৃষ্ঠার রায়ে আদালত কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।

ধর্ষণ মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া আসামি ইব্রাহিম গাজীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা বহাল রেখে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় রায় দেন বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর হাইকোর্ট বেঞ্চ।

বিজ্ঞাপন

এই মামলায় আদালতে আসামিপক্ষের যুক্তি ছিল, আদালতের আদেশ থাকার পরও প্রসিকিউশন ধর্ষণের শিকার নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা করেনি। এছাড়া ভিকটিম যাদের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সাক্ষী করেছিলেন, তাদের কেউ আদালতে সাক্ষী দেয়নি। এ কারণে আসামি খালাস পাওয়ার অধিকারী।

আসামিপক্ষের এমন বক্তব্যের বিষয়ে রায়ে বলা হয়েছে, ২০০৬ সালের ১৫ এপ্রিল ঘটনাটি ঘটে। আর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ট্রাইব্যুনাল আদেশ দেন ওই বছরের ১৭ মে, অর্থাৎ ৩২ দিন পর। যদি ভিকটিমকে ১৭ মে তারিখেই ডাক্তারি পরীক্ষা করা হতো, তবুও দীর্ঘদিন পর পরীক্ষা করার কারণে ধর্ষণের কোনো আলামত না পাওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল। তবে কেবল ডাক্তারি পরীক্ষা না করার কারণে প্রসিকিউশন পক্ষের মামলা অপ্রমাণিত বলে গণ্য হবে না।

বিজ্ঞাপন

মামলার বিবরণে জানা যায়, খুলনার দাকোপ থানার লাউডোব এলাকার বাসিন্দা আজহার আলীর কন্যা স্কুলে যাওয়ার পথে আসামি ইব্রাহিম গাজী তাকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতেন এবং খারাপ প্রস্তাব দিতেন। ২০০৬ সালের ১৫ এপ্রিল ওই এলাকার জামে মসজিদে মেয়েটি কুরআন পড়তে যায়। এ সময় সেখানে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা আসামি তার মুখ চেপে ধরে ওই কিশোরীকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন।

এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠক হয়। ১৭ এপ্রিল থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। এরপর ২৩ এপ্রিল আদালতে নালিশি মামলা করেন মেয়েটির বাবা। এরপর আদালত ওইবছরের ১৭ মে ভিকটিমের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে নির্দেশ দেন। ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করেন।

বিজ্ঞাপন

পরে খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল বিচার শেষে ২০১৯ সালের ১৩ মার্চ এক রায়ে আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন আসামি ইব্রাহিম কাজী। আপিলের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্ট তার আপিল খারিজ করে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রায় দেন। আজ তার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পেল।

আদালতে আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট আমিনুল হক হেলাল ও সৈয়দ আল আহসাফুর আলী রেজা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জান্নাতুল ফেরদৌসি রুপা।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এজেডকে/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন