বিজ্ঞাপন

সেদিনের এদিন যুবভারতী স্তব্ধ করে রেখেছিল বাংলাদেশ

October 15, 2020 | 1:58 pm

স্পোর্টস ডেস্ক

ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টো দিক উল্টালে ঠিক ১২ পাতার পর আসবে আজকের দিনটি। যেদিন স্বপ্নের মতো শুরুটা করলেও ভারতের মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছিল বাংলাদেশের ফুটবলাররা। কলকাতার যুবভারতী স্টেডিয়ামে সেদিন ৮৫ হাজার দর্শকের সামনে সাদ উদ্দিন গোল করে স্তব্ধ করে দিয়েছিল গোটা ভারতকে। তবে আগে লিড নিয়েও ম্যাচটি জিততে পারেনি জামাল-তপুরা। ম্যাচের শেষ দিকে গোল হজম করে ১-১ ড্র করেই দেশে ফিরতে হয়েছিল সেদিন। তবে কথা দিয়েছিলেন ফিরতি লেগে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ভারতকে হারানোর। তবে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে তা থমকে আছে অন্তত ২০২১ সাল পর্যন্ত।

বিজ্ঞাপন

সেদিন ম্যাচের শুরুটা হয়েছিল পরিকল্পনা মাফিক। কাতার ম্যাচের একাদশ ও ফরমেশন নিয়ে মাঠে নেমেই প্রথম মিনিটেই আক্রমণে যায় বাংলাদেশ। বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েছিলেন উইঙ্গার ইব্রাহিম। শেষ মুহূর্তে বল ট্যাকেল করে বিপদমুক্ত করে ভারত। সেখান থেকে কর্নার পেয়েও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ। রুক্ষণ জমাটবদ্ধ করে কাউন্টার অ্যাটাকে আক্রমণ এমন পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমে সেটার সুফলও পাচ্ছিল লাল-সবুজরা।

সেদিনের এদিন যুবভারতী স্তব্ধ করে রেখেছিল বাংলাদেশ

বিজ্ঞাপন

তবে এমন খেলার বিপরীতে আক্রমণের সুস্পষ্ট ছাপ লক্ষ্য করা যায় ইগোন স্টিমাচের ভারতের। ডি বক্সের বাইরে থেকে ফ্রি কিকে ফন্দি এঁটেছিল ভারত। সেটা দারুণভাবে পণ্ড করে দিয়েছে লাল-সবুজদের রক্ষণদুর্গের প্রহরী রিয়াদুল হাসান রাফি।

র‌্যাংকিংয়ে সে সময় ৮৩ ধাপ পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ 'গোপন অস্ত্রগুলো' কাজে লাগানোর সুযোগ পেয়েছিল অনেকবার। এই যেমন ৩০ মিনিটে রায়হানের লম্বা থ্রোয়ে ভারতের রক্ষণে কাঁপুনি ধরেছিল। ৩০ গজ দূর থেকে নেয়া রায়হানের থ্রোটা রাফি হেড করেছিলেন। সেটি বারের বাইরে চলে যায়। তবে এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি ভালো আক্রমণে তটস্থ ভারত রক্ষণ। ভারতের রক্ষণ যে নড়বড়ে হয়ে পড়েছিল তার আরেকটি প্রমাণ মেলে ৩১ মিনিটে। ভারতের রক্ষণ ভুলে দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। বিপলু আহমেদ এগিয়ে গিয়েছিলেন গোলের দিকে। ক্রস করারও সুযোগ ছিল বক্সে ঢোকার পর। কঠিন অ্যাঙ্গেল থেকে গোলের জন্য শট করে সুযোগ কাজে লাগানো হয়নি তার। ভারত ডিফেন্ডার কোনোমতে বল ক্লিয়ার করেছেন।

বিজ্ঞাপন

সেই সুবর্ণ সুযোগটা ভেস্তে গেলে পাল্টা আক্রমণে যায় ভারত। হাতবোমার অস্ত্রটা ভারতও ব্যবহার করা শুরু করে। ৩২ মিনিটে ভারতের আদিল খানের লম্বা থ্রো বক্সের মধ্যে পড়ার পর মানভির সিং হেড করেছিলেন। গোলরক্ষক রানার দারুণ সেভে বলটা বারপোস্টের বাইরে পাঠিয়ে দিলে স্বস্তি শেলে সফরকারীদের।

ম্যাচে যেন হবে হবে বলে হচ্ছিলো না। গোল আসবে আসবে বলে আসছিল না লাল-সবুজদের। প্রথমার্ধের একেবারে শেষের দিকে সেই সুযোগটা পায় বাংলাদেশ। ৪৩ মিনিটে জামাল ভূঁইয়ার ফ্রি কিক থেকে হেডে গোল করে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন সাদ উদ্দিন। সল্ট লেককে থমকে দিয়ে মাঠে লাল-সবুজের উল্লাস। বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপ বাছাইয়ের দ্বিতীয় পর্বের তৃতীয় ম্যাচে এসে বাংলাদেশ পেল প্রথম গোল। সেটপিস থেকে নেয়া ফ্রি কিকটা যেন ছুঁতে ব্যর্থ হন ভারতের গোলরক্ষক গুরপ্রিত সিং। সেটা কাজে লাগিয়ে বলটা জালে পাঠাতে এতোটুকু ভুল করেনি সাদ। ১-০ ব্যবধানে লিড নিয়ে প্রথমার্ধে মাঠ ছাড়ে জেমির শিষ্যরা।

বিজ্ঞাপন

সেদিনের এদিন যুবভারতী স্তব্ধ করে রেখেছিল বাংলাদেশ

প্রথমার্ধে লিড নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণে বেশি মনোযোগ দেয় বাংলাদেশ। সঙ্গে কাউন্টারে আক্রমণ। দ্বিতীয়ার্ধেও ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করে বাংলাদেশ। ৫৫ মিনিটে ইব্রাহিমের ক্রসটা বারে লেগে ফিরে না আসলে জয়টা প্রায় নিশ্চিত করে ফেলা যেতো। এদিকে থেমে নেই ভারতের সমতায় ফেরার লড়াই।

বিজ্ঞাপন

৫৯ মিনিটে ব্যবধান কমানোর তাদের চেষ্টাকে একেবারে ব্যর্থ করে দেয় বাংলাদেশ। ডান প্রান্ত থেকে বাড়ানো ক্রসটা একেবারে সুনীল ছেত্রীর মাথা ছুঁয়ে বারে ঢুকছিল। একেবারে শেষ মুহূর্তে বলটা হেড করে ক্লিয়ার করেন ইব্রাহিম।

এভাবেই খেলে আরো দারুণ সুযোগ তৈরি করছিল বাংলাদেশ। ৭৩ মিনিটে গোলকিপারকে ফাঁকি দিয়ে বলটা উঁচিয়ে মেরেছিলেন নাবীব নেওয়াজ জীবন। বলটা একেবারে গোল লাইন থেকে বিপদমুক্ত করেন ডিফেন্ডার আদিল খান।

ব্যবধান দ্বিগুণ করার সবচেয়ে বড় সুযোগটাও হয়তো ছিল এটা। তবে ম্যাচের শেষদিকে আরেকটি সুযোগ পেয়ে যায় বাংলাদেশ। ফিনিশিংয়ের অভাবটাই যেন বড় হয়ে দেখা দেয় প্রতিবার। সুফিল জটলার মধ্যে দারুণ গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন।

১-০ ব্যবধান যে কোন সময় সুখকর নয় সেটা ভারতের মুহূর্মুহূ আক্রমণে বোঝা যাচ্ছিল। সুনীল ছেত্রী যেন যারপরানই হতাশ হচ্ছিলেন আক্রমণগুলোকে সফলতা না দিতে পেরে। তবে পুরো ম্যাচ পর্যন্ত লিড ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। ৮৮ মিনিটে কর্নার থেকে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। পুরো স্তব্ধ স্টেডিয়াম যেন অক্সিজেন পায় আদিল খানের হেডের গোলে। ভারত ১-১ সমতায় নিয়ে আসে ম্যাচ।

সেদিনের এদিন যুবভারতী স্তব্ধ করে রেখেছিল বাংলাদেশ

পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেও ভারতের মাটিতে বলতে গেলে জয়ের আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়ে বাংলাদেশকে। তবে র‌্যাংকিং বিচারে বাস্তবতা বলছে এই ড্রয়টা আরও আত্মবিশ্বাস যোগাবে লাল-সবুজদের। ঘরের মাঠ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ভারতকে হারানোর রসদ দেবে এই ড্র।

যুবভারতীতেই বিশ্বকাপ বাছাই প্রথম গোল ও প্রথম পয়েন্ট পায় বাংলাদেশ। যদিও পয়েন্ট তালিকায় সে সময়েও পাঁচেই পড়ে ছিল বাংলাদেশ। তবে এর মধ্যে দুটি ম্যাচই অ্যাওয়ে খেলতে হয়েছে জামাল-ভূঁইয়াদের। আফগান-কাতারের কাছে হেরে ভারতকে রুখে দিয়ে পয়েন্ট নিয়ে ফেরাটা স্বস্তিরই বলতে হবে। করোনার থাবায় দক্ষিণ এশিয়ার বাছাই পর্ব স্থগিত হওয়ায় ফিরতি লেগে ভারতের বিপক্ষে লড়াইটা আর করে ওঠা হয়নি।

সারাবাংলা/এসএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন