বিজ্ঞাপন

‘সবাইকে নিয়ে বিকশিত হওয়া’র অঙ্গীকারে বিশ্ব খাদ্য দিবস আজ

October 16, 2020 | 12:01 am

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারি চলাকালীন ও পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে বিকশিত হওয়ার অঙ্গীকারে ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস’ আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর)। কৃষি মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) যৌথ উদ্যোগে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হবে। এ উপলক্ষে আর্ন্তজাতিক সেমিনার, কারিগরি সেশন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রমসহ নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞাপন

এবারের বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘সবাইকে নিয়ে একসাথে বিকশিত হোন, শরীরের যত্ন নিন, সুস্থ থাকুন, আমাদের কর্মই আমাদের ভবিষ্যৎ’। এই প্রতিপাদ্যকে যুগোপযোগী আখ্যা দিয়ে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

খাদ্য দিবসের বাণীতে আগামীর খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই করতে লাগসই প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী, সম্প্রসারণর্কমীসহ সংশ্লিষ্টদের জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারিতে বিশ্বব্যাপী সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। শুরু থেকেই বর্তমান সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের ফলে এই মহামারিতেও উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। দুর্যোগকালেও কৃষির সাফল্য এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বর্পূণ অবদান রেখে চলেছে। তবে করোনা-উত্তর বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য খাদ্য সংকট মোকাবিলায় সবাইকে আরও সচেষ্ট হতে হবে। আবাদযোগ্য প্রতি ইঞ্চি জমিতে উন্নত প্রযুক্তি অনুসরণ করে মৌসুমভিত্তিক বিভিন্ন ফসলের আবাদ নিশ্চিত করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রপতি বলেন, খাদ্যাভ্যাসেও পরির্বতন আনা জরুরি। জাংক ফুড পরিহার করে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পরিমিত পরিমাণে মৌসুমি ফলমূল, শাকসবজি, মাছ, মাংস, দুধ, ডিম খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সেজন্য খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি জনসচেতনতাও বাড়ানো জরুরি। তিনি বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, সুষম খাদ্য গ্রহণের সঙ্গে কায়িক পরিশ্রম আমাদের দেহ-মনকে সুস্থ রাখবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়াবে।’

অন্যদিকে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও পুষ্টি চাহিদা পূরণের প্রচেষ্টায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও জোরদার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমাদের সরকার এ সংকটের শুরু থেকেই সর্বাত্মক প্রস্ততি ও কর্মসূচি নিয়েছে। ফলে এই বৈশ্বিক মহামারিতেও আমরা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের কোনো খাদ্য সংকট হয়নি। কারণ পর্যাপ্ত মজুতের ব্যবস্থা আমরা রেখেছি। দেশের এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদী না থাকে, সে জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। শিল্প স্থাপনে যেন কৃষি জমি নষ্ট না হয়, সে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২০’ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

এদিকে, বিশ্ব খাদ্য দিবস সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কোভিড পররবর্তী বাংলাদেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন থাকতে হবে। আমাদের উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে। এ লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে এবার আমরা বিশ্ব খাদ্য দিবস পালন করতে যাচ্ছি।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, খাদ্য দিবস উপলক্ষে শুক্রবার সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেমিনারে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) মহাপরিচালক কিউ ডংইয়ু অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখবেন। এছাড়া, দেশ-বিদেশের কৃষি বিশেষজ্ঞ, পুষ্টি বিজ্ঞানী, কৃষি অর্থনীতিবিদরাও এই আয়োজনে অংশ নেবেন। অন্যান্য অংশীজনদের উপস্থিতিতে সেমিনারে প্রাপ্ত সুপারিশ অনুযায়ী করোনাকালে ও করোনা পরবর্তী খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরে দুপুরে একই স্থানে একটি কারিগরি সেশনও অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে অবহিত করতে মোবাইলে সচেতনতামূলক এসএমএস পাঠানো হবে, জাতীয় পত্রিকাগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। এছাড়া ‘কৃষিকথা’ ম্যাগাজিনের বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ ছাড়াও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যথাযথভাবে দিবসটি উদযাপনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/জেআর/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন