বিজ্ঞাপন

খোলেনি অধিকাংশ সিনেমা হল, শোতে নেই দর্শক

October 16, 2020 | 9:11 pm

আহমেদ জামান শিমুল

গত ১৮ মার্চ থেকে দেশের সকল সিনেমা হল বন্ধ হয়েছিল করোনাভাইরাসের কারণে। তথ্য মন্ত্রণালয় শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থেকে হল চালুর অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু প্রথম দিনে অধিকাংশ হল খুলে নি, যেগুলো খুলেছে সেগুলোর কোনটিতেই আশানুরূপ দর্শক আসেননি।

বিজ্ঞাপন

ঢাকার বেশ কয়েকটি হলে সরেজমিন ঘুরে এবং চলচ্চিত্রের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে সারাবাংলা এমনই চিত্র পেয়েছে।

ঢাকার ফার্মগেটে অবস্থিত ‘আনন্দ’ ও ‘ছন্দ’ হলে চলছে ‘সাহসী হিরো আলম’ ও ‘রাজধানীর রাজা’। শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় দুটি হলে মাত্র ২০ থেকে ২২ জন দর্শক প্রবেশ করছেন।

বিজ্ঞাপন

খোলেনি অধিকাংশ সিনেমা হল, শোতে নেই দর্শক

আনন্দ হলের একজন কাউন্টারম্যান সারাবাংলাকে বলেন, ‘অধিকাংশ দর্শক ভয়েই সিনেমা হলে আসছেন না। যারা হয়তো হলের সামনে দিয়ে যাচ্ছে কিন্তু প্রবেশ করছে না। এখানে যাদের দোকানপাট রয়েছে বা রিক্সা-ভ্যান চালান তারা হয়ত এসেছেন। কিন্তু এত কম পরিমাণ দর্শক দিয়ে হল চালু রাখা কষ্টকর। জানি না কয়দিন এভাবে চালু রাখা যাবে।’

বিজ্ঞাপন

কেন দর্শক আসেনি? এমন প্রশ্নে হল মালিকদের নেতা মিয়া আলাউদ্দিন বলেন, ‘করোনার পরে অনেক দর্শক জানেনই না হল খুলেছে। আবার ভালো ছবি আসে নাই, অর্ধেক সিট খালি রাখতে হচ্ছে। তাহলে কিভাবে চলবে?’

অন্যদিকে রাজধানীর মধুমিতা হলের মালিক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, মধুমিতার একটা মিনিমাম স্ট্যান্ডার্ড রয়েছে। সেখানে আমাদের অর্ধেক সিট খালি রেখে যদি ‘সাহসী হিরো আলম’ দিয়ে হল চালু করতে বলেন, তাহলে তো হবে না। হল চালু করতে বলে যদি আপনি আমাদের নতুন ছবি না দেন তাহলে কীভাবে হবে? আর যে ছবি মুক্তি দেওয়া হয়েছে, সে ছবিতেও দর্শক হয়নি। এভাবে তো হল চিরস্থায়ী বন্ধের উপক্রম হবে।

বিজ্ঞাপন

খোলেনি অধিকাংশ সিনেমা হল, শোতে নেই দর্শক

জানা গেছে, প্রথম দিনে ৩৯টি সিনেমা হলে হিরো আলম প্রযোজিত ও অভিনীত ‘সাহসী হিরো আলম’ ছবিটি চলছে। বাকি হলগুলোতে শাহেনশাহ, বীরসহ পুরানো ছবি চলেছে। তবে ঠিক কতটি হল চালু হয়েছে তার সঠিক তথ্য দিতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

প্রদর্শক সমিতির নেতা মিয়া আলাউদ্দিনের হিসেব মতে প্রথম দিনে ১০৫টির মত হল খুলেছে। তবে হল মালিকদের নেতা কাজী শোয়েব ও প্রযোজক সমিতির নেতা খোরশেদ আলম খসরুর হিসেবে ৫০টির বেশি সিনেমা হল খুলেনি। বুকিং এজেন্ট সমিতিও বলছে ৫০ থেকে ৬০টির বেশি হল খোলার খবর তারা পাননি।

খোলেনি অধিকাংশ সিনেমা হল, শোতে নেই দর্শক

কেন সিনেমা হল খুলেননি? রাজধানীর ব্লকবাস্টার সিনেমাসের ম্যানেজার মাহবুব বলেন, আমরা আসলে এখনও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। যদি দেখি পরিস্থিতি হল খোলার মত অবস্থায় রয়েছে তাহলে খুলবো।

একই বক্তব্য রাজধানীর বলাকা, শ্যামলী এবং লক্ষ্মীপুরের হ্যাপি সিনেমা কর্তৃপক্ষের।

তবে স্টার সিনেপ্লেক্সের সিনিয়র ম্যানেজার মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশি নতুন ভালো কোন ছবি মুক্তি না পাওয়ায় তারা আপাতত হলিউডের ছবি দিয়ে আগামী ২৩ আক্টোবর থেকে হল চালু করবেন। নতুন ছবি ছাড়া পুরানো বাংলা ছবি চালাতে চান না তারা।

প্রযোজক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু দর্শক না হওয়া এবং নতুন ছবি মুক্তি প্রসঙ্গে বলেন, অধিকাংশ হল মালিক করোনার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। আর করোনার কারণে আতঙ্কে তো দর্শক আসছেন না হলে। তাহলে প্রযোজক কেন তার লগ্নির ঝুঁকি নিবেন?

এদিকে খোরশেদ আলম খসরু জানিয়েছেন ‘সাহসী হিরো আলম’-এর পর আগামী ৩০ অক্টোবর আরেকটি ছবি প্রযোজক সমিতিতে মুক্তির জন্য আবেদন করেছে।

ছবিঃ হাবিবুর রহমান 

সারাবাংলা/এজেডএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন