বিজ্ঞাপন

ইউডিজেএফবি: ওয়াসার মতবিনিময় ঘিরে বিবৃতি-পাল্টা বিবৃতি

October 17, 2020 | 9:45 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ঢাকা ওয়াসার একটি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে ঢাকায় কর্মরত সেবা খাতের সাংবাদিকদের একটি সংগঠন ‘নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম, বাংলাদেশে’র (ইউডিজেএফবি) সাংবাদিকদের মধ্যে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। সংগঠনটির একাংশের দাবি, ওয়াসা ‘মূলধারা’র সাংবাদিকদের উপেক্ষা করেছে। এ নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছে। অন্যপক্ষের দাবি, ওয়াসা সব গণমাধ্যমকেই আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এ নিয়ে উদ্বেগ জানানোর কিছু নেই।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে ‘নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম, বাংলাদেশে’র নামে দুইটি পৃথক বিবৃতি আসে গণমাধ্যমে। দুই পক্ষের বিবৃতিতে গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যেকার বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকা ওয়াসা। ওই অনুষ্ঠানে ‘মূলধারার সংবাদপত্র, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও টেলিভিশনকে আমন্ত্রণ না জানানোয় উদ্বেগ’ জানিয়ে শনিবার (১৭ অক্টোবর) একটি বিবৃতি দেওয়া হয় ইউডিজেএফবি’র পক্ষ থেকে।

বিজ্ঞাপন

প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইমন হাসানের সই করা বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা ওয়াসা শুক্রবার কারওয়ান বাজারে সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা করেছে। সেখানে তারা বিগত ১০ বছরে ঢাকা ওয়াসার অর্জন ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরে। এ অনুষ্ঠান সম্পর্কে ইউডিজেএফবির অভিমত— প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, যুগান্তর, সমকাল, কালের কণ্ঠ, নিউ এইজ, বাংলা ট্রিবিউনসহ মূলধারার সংবাদপত্র, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও টেলিভিশনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এ বিষয়টিকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।

সংগঠনের সভাপতি মতিন আব্দুল্লাহ ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সোহেল মামুন বিবৃতিতে বলেন, মূলধারার অনেক গণমাধ্যমকে বাদ দিয়ে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান মূলত তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের যে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। ঢাকা ওয়াসার বিষয়ে যারা নিয়মিত সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করেন, তাদের মুখোমুখি হতে না চেয়ে তিনি তার বিরুদ্ধে গত ১০ বছরের জমে থাকা অভিযোগগুলোকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছেন।

বিজ্ঞাপন

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঢাকা ওয়াসা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত ঢাকাবাসীকে পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন সেবা দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। জনস্বার্থে এ প্রতিষ্ঠানের সংবাদ সব গণমাধ্যম সংগ্রহের অধিকার রাখে। ঢাকা ওয়াসার এমন অস্বচ্ছ নীতি সংশোধনে সরকারের উচ্চ মহলের ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করে ইউডিজেএফবি।

এ বিবৃতি প্রকাশের পর ইউডিজেএফবি’র প্যাডেই আরেক অংশের একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। দফতর সম্পাদক তালুকদার বিপ্লবের সই করা বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘ঢাকা ওয়াসার মতবিনিময় অনুষ্ঠানে মূলধারার সংবাদপত্র, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও টেলিভিশনের আমন্ত্রণ না জানানোয় ইউডিজেএফবি’র উদ্বেগ’ শিরোনামে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, তা নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম ইউডিজেএফবি’র বক্তব্য নয়। নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানের নামে মিথ্যা ভিত্তিহীন ও মনগড়া তথ্য দেওয়া হয়েছে ওই বিবৃতিতে। এ ধরনের বিভ্রান্তমূলক বিবৃতি দিয়ে উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরামের ভাবমূর্তি নষ্ট করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঢাকা ওয়াসা গত ১৬ অক্টোবর প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সঙ্গে যে মতবিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, সেখানে প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, সমকাল, কালের কণ্ঠ, নিউ এইজ, বাংলা ট্রিবিউিনসহ মূল ধারার সংবাদপত্র, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সব টেলিভিশনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম বাংলাদেশকেও

আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মতবিনিময় সভায় ওয়াসা এমডি প্রকৌশলী তাকসিম এ খান গত ১০ বছরে ঢাকা ওয়াসার অর্জন ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরেন, যা দেশের সব গণমাধ্যমে প্রকাশিতও হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিবৃবিতে বলা হয়, জানিয়ে রাখছি যে সংগঠনের সভাপতি মতিন আব্দুল্লাহ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সোহেল মামুন ও সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল খানকে অনিয়ম ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরামের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সুতরাং ঢাকা ওয়াসার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মনগড়া, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

ঢাকা ওয়াসা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত ঢাকাবাসীকে পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন সেবা দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম ইউডিজেএফবি ঢাকা ওয়াসা পাশে সবসময় আছে, থাকবে।

এদিকে, ইউডিজেএফবি’র এই অংশের দফতর সম্পাদক তালুকদার বিপ্লবের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সারাবাংলাকে বলেন, এই লেখা (বিবৃতি) আমার নয়। আমাকে এ বিষয়ে কেউ কিছু জিজ্ঞাসাও করেনি। আমি যেটা জানিই না, সেটা আমার নামে প্রচারিত হয়েছে— এটা দুঃখজনক।

বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাইলে সাধারণ সম্পাদক এস এম ফয়েজ সারাবাংলাকে বলেন, ‘লেখাটি সত্য। তবে দফতর সম্পাদক দায় না নিলেও এটার দায় আমরা নিচ্ছি।’

সারাবাংলা/এসএইচ/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন