বিজ্ঞাপন

বন্যায় দুই দফা ডুবেছে ধান-সবজি, ব্যাপক ক্ষতির শঙ্কা

October 18, 2020 | 8:57 am

এম এ হালিম, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

ভৈরব: উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে ভৈরবে সবজিসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পর পর ২ দফা বন্যা আর উজান থেকে নেমে আসা বানে রোপা আমন ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া গত ২ সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে শীতকালীন আগাম সবজির ক্ষেতও নষ্ট হয়ে গেছে। সবমিলিয়ে এই দুর্যোগে বেশ কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হবে বলে ধারণা কৃষকদের।

বিজ্ঞাপন

ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকরা সরকারি সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন। কৃষি অফিস বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া কৃষকরা যেন ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারেন, সেজন্য কৃষি অফিস তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

জানা যায়, ভৈরবের গজারিয়া, শিমুলকান্দি, আগানগর ও শ্রীনগরসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক কৃষক চলতি মৌসুমে জমিতে রোপা আমন ধান রোপন করেন। কিন্ত বন্যা ও ভারি বর্ষণে তাদের জমির সব ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। পরে পানি নেমে যাওয়ার পর পুনরায় ওইসব জমিতে রোপা আমন ধান লাগানো হয়। আর কিছুদিন পর জমি থেকে যখন ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে আবার ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে তাদের ফসল তলিয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

বন্যায় দুই দফা ডুবেছে ধান-সবজি, ব্যাপক ক্ষতির শঙ্কা

এ ছাড়া শীতকালীন আগাম সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে ১২ হেক্টর জমির সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। এভাবে ২ দফা বন্যার পানি আর টানা বৃষ্টির কারণে এ অঞ্চলের কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বিজ্ঞাপন

কৃষকরা জানিয়েছেন, ধার-দেনা করে তারা রোপা আমন ও সবজি চাষ করেছিলেন। কিন্ত ২ দফায় বন্যা আর বৃষ্টিতে তাদের সব ফসল পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। তাই সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তারা। সরকার সহযোগিতা না করলে পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই বলে আক্ষেপ করেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ।

শিমুলকান্দি ও গজারিয়া ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সাবেক ইউপি সদস্য কাসেম মিয়া বলেন, ‘দুই দফায় বন্যা আর বৃষ্টির কারণে এবার ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের সহযোগিতা ছাড়া কৃষকদের ক্ষতি কমানোর কোনো উপায় নেই।’

বিজ্ঞাপন

ভৈরব উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, বন্যা ও বানে ৬০ হেক্টর ধানি জমি ও ১২ হেক্টর সবজির আবাদ পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে।

ভৈরব উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি ও সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, ২ দফা বন্যা ও টানা বৃষ্টির ফলে বিচ্ছিন্নভাবে ধানি জমি ও সবজির ফসল নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রস্তুত করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হবে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পরামর্শ ও সহযোগিতাও দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এমও/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন