বিজ্ঞাপন

৮ বিভাগে ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা, পরিচালনা করবেন ঢাবি শিক্ষকরাই

October 20, 2020 | 9:56 pm

ঢাবি করেসপন্ডেন্ট

২০২০-২১ সেশনের স্নাতক প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষা অনলাইনে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কর্তৃপক্ষ। এবার জানা গেল, করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ পরিস্থিতে দেশের আট বিভাগেই এই ভর্তি পরীক্ষা নেবে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি বিভাগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ১০/২০ জনের একটি করে টিম পরীক্ষা পরিচালনা করবেন।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ সারাবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন- অনলাইনে নয়, পরীক্ষাকেন্দ্রে ১০০ নম্বরে ভর্তি পরীক্ষা নেবে ঢাবি

বিজ্ঞাপন

আট বিভাগে পরীক্ষা নেওয়ার কথা জানিয়ে অধ্যাপক সামাদ বলেন, দুর্ভোগ কমাতে এমন একটি প্রস্তাব করা হয়েছে। আসলে প্রস্তাবটি একরকম গ্রহণ করা হয়েই গেছে। অর্থাৎ আটটি বিভাগেই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রতিটি বিভাগে পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি করে টিম পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন বলে জানান অধ্যাপক সামাদ। তিনি বলেন, পরীক্ষার আগেই প্রতিটি বিভাগে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েরই ১০ থেকে ২০ জন শিক্ষকের একটি টিম চলে যাবে। তারাই মূলত পরীক্ষা পরিচালনা করবেন।

বিজ্ঞাপন

এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা এবারই প্রথম দেশের বিভিন্ন বিভাগে অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই পরীক্ষা নেওয়া হতো। করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় পরীক্ষাকেন্দ্র বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

আট বিভাগের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে পরীক্ষা নেওয়ার চিন্তা চলছে জানিয়ে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেন, আমাদের দেশের সব বিভাগেই বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ আছে। সেখানেই মূলত পরীক্ষা নেওয়া হবে। অবশ্যই তা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই নেওয়া হবে। এতে করে এই করোনাকালে শিক্ষার্থীদের যে দুর্ভোগ পোহাতে হতো, তা কিছুটা কমবে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, মঙ্গলবার সকালে ডিনস কমিটির এক সভায় সফটওয়্যারের মাধ্যমে অনলাইনে পরীক্ষা না নিয়ে আগের নিয়মেই সশরীরে স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ডিনস কমিটির বৈঠকে ভর্তি পরীক্ষার মানবণ্টনে পরিবর্তন আনারও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এর আগে ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষা ২০০ নম্বরের হলেও এ বছর তা ১০০ নম্বরে গ্রহণ করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে ওই বৈঠকে। সেক্ষেত্রে আগে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ৮০ নম্বর বরাদ্দ থাকলেও তা কমিয়ে ২০ নম্বরে নিয়ে আসা হচ্ছে। বাকি ৮০ নম্বরের মধ্যে নৈর্ব্যক্তিক ৩০ ও লিখিত ৫০ নম্বরে পরীক্ষা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসএসসি ও জেএসসি এবং সমমান পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এইচএসসির ফল তৈরি করা হবে। এ ঘোষণার পর করোনা পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়া বা না হওয়া নিয়ে দ্বিধায় থাকা শিক্ষার্থীরা স্বস্তি পেলেও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে নতুন করে ভাবনায় পড়ে শিক্ষার্থীরা।

এর মধ্যে গত শনিবার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল ওই সভায় দেশের ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অংশ নেন। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, করোনা মহামারির কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা অনলাইনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উপাচার্যরা।

এমন সিদ্ধান্তে উদ্বেগ জানিয়েছে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী। তারা এতে করে ‘হিতে বিপরীত’ হওয়ার আশঙ্কাও দেখছে।

ফাইল ছবি

সারাবাংলা/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন