বিজ্ঞাপন

‘আমরা চাই, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উন্নত-নিরাপদ-শান্তিপূর্ণ দেশ’

October 22, 2020 | 3:26 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনকারী একটি দেশ, একটি জাতি কখনো পিছিয়ে থাকতে পারে না মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা চাই, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটা উন্নত নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশ সারাবিশ্বে মাথা উঁচু করে সম্মানের সাথে চলবে।’

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২০ উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি বনানীর বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি মিলনায়তনে যুক্ত হয়ে এই আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

যেকোনো একটা দেশ উন্নত করতে হলে সব থেকে বেশি প্রয়োজন হল যোগাযোগ ব্যবস্থা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’আমাদের দেশ নদীমাতৃক দেশ। আর আমাদের দেশের যোগাযোগব্যবস্থায় সড়ক যেমন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেইসঙ্গে নৌপথ, আকাশ পথ রেলপথ সবগুলোই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমাদের ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। কাজেই সেখানে আমাদের যোগাযোগ-যাতায়াত এটা মানুষকে যেমন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়, পাশাপাশি ব্যবসা বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। মানুষের জীবনমান উন্নত করে।’

বিজ্ঞাপন

সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস করার লক্ষ্যে তার সরকারের মেয়াদে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। সাড়ে ১১ বছরে ৬ হাজার ৩ শ ৫৮ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার মহাসড়ক মজবুতিকরণ করা হয়েছে, সেইসঙ্গে এই সমস্ত জায়গার যেখানে যেখানে দুর্ঘটনা হতো সেগুলো সংস্কার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘কিভাবে বাংলাদেশটাকে আমরা উন্নত করবো? তার পরিকল্পনাটা? আমরা শুধু এখন ক্ষমতায় এসেছি তাৎক্ষণিকভাবে কাজ করা না? আমরা কিছু দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা আমরা নিয়েছি। আশু করণীয় কি সেটা যেমন সুর্নিদিষ্ট করে সেই কাজগুলি করে যাচ্ছি, মধ্যমেয়াদী আর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়েছি।’

বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাস আসার কারণে একটু গতি শ্লথ হয়ে গেলেও আগামীতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে সরকারের বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এটা একটা ব-দ্বীপ। ব-দ্বীপকে কিভাবে উন্নত করা যায় এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মরা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম যারা আসবে তাদের জীবনটা যেন সুন্দর হয়। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ পরিকল্পনা করেছি। হয়তো সময়ের তাগিদে বা প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল এবং উৎকর্ষ সাধন হচ্ছে। সেই কারণে এগুলি সময় সময় অবশ্যই সংস্কার করা যাবে, সংশোধন করা যাবে বা নতুনটা গ্রহণ করা যাবে। কিন্তু একটা কাঠামো যদি তৈরি থাকে, একটা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য যদি থাকে তাহলে একটা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া খুব সহজ। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা এই কাজগুলি করে যাচ্ছি এবং সে প্রচেষ্টাও আমরা নিয়ে যাচ্ছি।’

বিজ্ঞাপন

তৃণমূল পর্যন্ত গ্রামীণ সড়ক ব্যবস্থার উন্নতি করার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তো প্রকৃতির সঙ্গে বাস করতে হয়। আমাদের ঝড় বৃষ্টি বন্যা ঘুর্নিঝড়; এগুলোর সাথেই চলতে হবে। এগুলোর সাথে আমাদের বাঁচতে হবে। এগুলো মোকাবিলা করে বাঁচতে হবে। মানুষের জীবনটাকে নিরাপদ করতে হবে। সেই নিরাপদ করার জন্য যা যা প্রয়োজন আমরা সেটাই করে যাচ্ছি এবং সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে সড়ক নির্মাণ করার সময় আমাদের প্রাকৃতিক ভারসাম্য যাতে বজায় থাকে, সেটার দিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।’

‘আর আমাদের মাটি হচ্ছে দোঁ-আশ মাটি। আমাদের এই মাটিতে কোন কিছু তৈরি করতে গেলে সেখানে কিন্তু খরচ অনেক বেশি। খরচ নির্মাণের সময় অনেকে প্রশ্ন তোলেন, ওই অমুক দেশে এতো কম তাহলে আমাদেও দেশে কেন এতো বেশি? তাদেরকে অনুরোধ করবো, আমাদের মাটিটা আপনারা একটু পরীক্ষা করে দেখবেন। আর যেদেশের কথা বলবেন, তাদের মাটিটাও পরীক্ষা করে দেখবেন। আপনারা দেখবেন, সেখানে সড়ক নির্মাণ করতে কত খরচ হয় আমাদের দেশে কত খরচ হয়। এগুলোও আমাদের বিবেচনা করতে হবে। অহেতুক দোষ দিলে হবে না বাস্তবতাটা মেনে নিতে হবে।’

রাজধানীর সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাসহ দুর্ঘটনা হ্রাসে মেনে ট্রাফিস আইন-কানুন মেনে চলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যেহেতু আপনারা জানেন যে, দ্বিতীয়বার ইউরোপে, আমেরিকায় বিভিন্ন দেশে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা শুরু হয়ে গেছে। অনেক দেশ আবার লকডাউনে চলে গেছে। আমরা এখনো অনেকটা ভাল অবস্থানে আছি। কিন্তু আমাদের সবাইকে কিছু না করেন, অন্তত আপনি যখন জনসমাগমে যান, বা মানুষের সাথে মেশেন তাদেরকে মাস্কটা পড়তে হবে। আর এই মাস্কটা আমি বলবো যে ডিসপোজেবলটা না পড়ে, তিন পাল্লার কাপড় দিয়ে ঘরে তৈরি করা যায় বা পড়ব সেগুলি সাবান দিয়ে ধুয়ে ব্যবহার করা ওটা আরও বেশি স্বাস্থ্যসম্মত। একসঙ্গে কয়েকটা বানায়ে রাখেন। হাতের সাথে রাখেন। একটি যদি নোংরা হয়, একটা ব্যাগে রেখে দেন। আরেকটা ব্যবহার করেন, পরে একসাথে সবগুলো ধুয়ে ফেলেন। আমি নিজেও এটা শুরু করে দিয়েছি। নিজেও এখন কাপড়েরটাই পড়া শুরু করেছি। আমি সিনথেটিকটা পড়াব বাদ দিয়ে দিয়েছি। কারণ এগুলো যতবেশি আমরা ব্যবহার করছি এগুলো আসলে আমাদের তো ফেলে দিতে হয়, কিন্তু সেটা পরিবেশের জন্য আমাদের খুব সমস্যা হয়ে যাচ্ছে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই, আর ওগুলো শুধু আমাদের হাসপাতালের ডাক্তার নার্স বা হাসপাতালের যারা তারা ব্যবহার করবে, তাদের সুরক্ষার জন্য।’

প্রধানমন্ত্রী সড়ক-মহাসড়কগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘অনেক টাকা-পয়সা খরচ করে রাস্তা-ঘাট তৈরি করা হয়। কাজেই সেগুলি যাতে ভালভাবে থাকে। সেটা রক্ষা করার দায়িত্ব সকলের। আর প্রত্যেকটা রাস্তায় স্পিড লিমিট কত সেটা থাকতে হবে। এখন বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং সব জায়গায় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। সেভাবে ডিভাইস ব্যবহার করতে হবে। কেউ যদি স্পিড ক্রস করে সাথে সাথে তার ফাইন হবে। কেউ যেন না করতে পারে, সেইভাবে আমাদের প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। নতুন যত সড়ক হবে সেইভাবে সেই সব জায়গায় সেই সিস্টেমটা থাকতে হবে। দরকার হলে লেজার বিন দিয়ে গাড়ি আটকে দিয়ে গাড়ির কাছ থেকে ফাইন নিতে হবে। কাজেই সেই আধুনিক ব্যবস্থাটা আমাদের হাতে নিতে হবে। সেইভাবে আমাদের কাজ করতে হবে।‘

‘আমি অনেকক্ষণ কথা বললাম। কারণ এই দুর্ঘটনায় যখন মানুষ মারা যায়, বা কেউ পঙ্গু হয়ে যায়, এটা সত্যি খুব দুঃখজনক। কাজেই যারা চালক বা যারা পথচারী বা সাধারণ জনগণ,দুর্ঘটনার দায় দায়িত্ব কিন্তু সকলেরই আছে। সেইটা মনে রেখে সবাই নিজেরা নিজেদেরকে সুরক্ষিত করতে সচেষ্ট হবেন। আবার করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত রাখতে সচেতন হবেন। সেটাই আমরা চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমরা চাই, একটা উন্নত, নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশ সারাবিশ্বে মাথা উঁচু করে সম্মানের সঙ্গে চলবে। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। দীর্ঘ সময় বক্ততা দিলাম। আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ এছাড়া করোনাভাইরাস থেকে আমরা যেন মুক্তি পাই, সড়ক দুর্ঘটনার থেকে যেন আমাদের দেশের মানুষের নিরাপদ থাকে, সেই আশা পোষণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সারাবাংলা/এনআর/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন