বিজ্ঞাপন

বিচারক সংকটে মানিকগঞ্জ জেলা আদালতে মামলার জট

October 23, 2020 | 8:53 am

রিপন আনসারী, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জ জেলা জজ কোর্ট। একদিকে বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ, অন্যদিকে জেলা ও দায়রা জজ এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-২ না থাকা— এ দুই কারণে জেলার আদালতের কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এগোচ্ছে না  মামলার কার্যক্রম। হাজারও বিচারাধীন মামলার জট বেঁধে গেছে। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত বিচারক দিয়ে ধীর গতিতে চলছে দুই আদালাতের বিচার ব্যবস্থা। এ পরিস্থিতিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জেলা ও দায়রা জজ এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-২ নিয়োগের দাবি জেলা আইনজীবীদের।

বিজ্ঞাপন

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ সেপ্টম্বর মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ মমতাজ বেগম বদলি হয়ে যান। এরপর দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও তার পদটি পূরণ হয়নি। জেলা ও দায়রা জজের অবর্তমানে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ শাহানা হক সিদ্দিকা। জেলা ও দায়রা জজ না থাকায় বিচারাধীন মামলার কার্যক্রম যেমন স্থবির হয়ে মামলা জট বেড়ে যাচ্ছে, তেমনি জেলার প্রধান বিচারক না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলো নিয়ে বিচারপ্রার্থীরা চরম শঙ্কায় রয়েছেন।

আদালত সূত্রে আরও জানা গেছে, জেলা জজের বদলি দেড় মাস হলেও এই জেলার যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-২ আনোয়ার ছাদাত বদলি হয়েছেন সেই ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টম্বরে। তখন থেকেই, অর্থাৎ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে শূন্য রয়েছে এই পদটি। যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-২ না থাকায় ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-১ আফরোজা বেগম। তবে তার পক্ষেও একসঙ্গে দু’জনের দায়িত্ব পালন করাটা স্বাভাবিকভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

আদালতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জজশিপে গত সেপ্টম্বর মাস পর্যন্ত ৪ হাজার ৫১৮টি ফৌজদারি মামলা ও ১৪ হাজার ৬৮টি দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। জেলা ও দায়রা জজ এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-২ না থাকায় নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা মামলা সংখ্যা বেড়েই চলেছে। আর জেলার প্রধান বিচারক না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর রায় কার্যত বন্ধ রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

জানতে চাইলে জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোখসেদুর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, জেলা ও দায়রা জজ এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-২ না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর কার্যক্রম চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে। বিশেষ করে জেলা ও দায়রা জজ না থাকায় বড় বড় মার্ডার মামলাগুলো আটকে রয়েছে। এতে বিচারপ্রার্থীরা শঙ্কার মধ্যে আছেন। অন্যদিকে আইনজীবী হিসেবে আমরাও মানুষের সেবা করতেই এসেছি। কিন্তু আমরাও সেই সুযোগ পাচ্ছি না। বিচারক কবে কিংবা কখন যোগ দেবেন, সে বিষয়ে বিচারপ্রার্থীদের মতো আমাদের কাছেও কোনো জবাব নেই।

বিজ্ঞাপন

জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এ কে এম আজিজুল হক বলেন, জেলা ও দায়রা জজ না থাকায় মামলার বিশাল জট বেঁধে গেছে। এতে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীসহ সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিচারপ্রার্থীরা নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ছে। দ্রুত দুই বিচারক দিয়ে এ পরিস্থিতির অবসান চাই।

আইনজীবী অ্যাডভোটে আসাদুজ্জামান বলেন, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে নিয়মিত মামলাগুলো প্রতিদিনই জজকোর্টে বিচার নিষ্পত্তির জন্য বদলি হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু জেলা ও দায়রা জজ এবং যুগ্ম জেলা জজ আদালত-২ শূন্য থাকায় পুরনো মামলাগুলোই নিষ্পত্তি হতে পারছে না। ফলে মামলার জট তীব্রভাবে বেড়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

এই আইনজীবী বলেন, প্রথমত, যদি বিচারক না থাকে তাহলে আদালতে বিচার কার্যক্রম ব্যহত হয়। দ্বিতীয়ত, বিচারপ্রার্থীরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়। তৃতীয়ত, ন্যায় বিচার বঞ্চিত হলে অপরাধীরা অপরাধ করতে আরও উৎসহ বোধ করে এবং তাদের এই উৎসাহ সমাজে বিশৃঙ্খলা বাড়িয়ে দেয়।

আরেক আইনজীবী অ্যাডভোকেট আরিফ হোসেন লিটন সারাবাংলাকে বলেন, বিচারপ্রার্থীরা  সঠিক সময়ে বিচার না পাওয়ায় তাদের মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে মামলার জট ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। আইনজীবী হিসেবে শুধু আমাদের নয়, বিচারপ্রার্থীদেরও দাবি— দ্রুত সময়ের মধ্যে শূন্য পদে দ্রুত বিচারক পদায়ন করা হোক।

বিজ্ঞাপন

আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় চার মাস আদালতের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তখন থেকেই মামলাজট তীব্র আকার ধারণ করতে শুরু করে। এর মধ্যে জেলার প্রধান জজসহ আরও একজন বিচারক না থাকায় এখন পরিস্থিতি অত্যন্ত সঙ্গীন।

তিনি আরও বলেন, শূন্য পদে দুই বিচারক যোগ দিলে বিচারকাজে কিছুটা গতি আসবে। ফলে অবিলম্বে জেলা ও দায়রা জজ এবং যুগ্ম জেলা জজ-২ নিয়োগের দাবি আমাদের সব আইনজীবীর।

সারাবাংলা/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন