বিজ্ঞাপন

‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে কূটনীতিতে এখনো শক্ত অবস্থান নেওয়া যায়নি’

October 24, 2020 | 8:38 pm

এমএকে জিলানী, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্ব মানবিক সহায়তার মধ্যে তাদের উদ্যোগ সীমিত রেখেছে। সংকট কাটাতে যথার্থ উদ্যোগ নিয়ে কেউই বাংলাদেশকে সমর্থন জানায়নি। প্রতিবেশী রাষ্ট্র বা সার্ক বা আসিয়ানে বাংলাদেশের বন্ধুরাষ্ট্রদের কেউই সরাসরি বাংলাদেশকে সমর্থন জানায়নি। এমনকি গভীর সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও ভারত ও চীন— এই দুই রাষ্ট্রও বাংলাদেশকে সরাসরি সমর্থন করেনি। এই ইস্যুতে বাংলাদেশের পক্ষে যে ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ আসা উচিত ছিল, তা আসেনি। তাই রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কূটনৈতিকভাবে বাংলাদেশকে শক্তিশালী অবস্থান নিতে হবে, যেখানে এখনো ঘাটতি রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা ডটনেটের বিশেষ আয়োজন ‘সারাবাংলা ফোকাস’ অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট আ ন ম মুনিরুজ্জামান এমন মন্তব্য করেন। সারাবাংলা ডটনেটের স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট এমএকে জিলানীর উপস্থাপনায় বুধবার (২১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ‘সারাবাংলা ফোকাসে’র আলোচনার বিষয় ছিল ‘ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন, রোহিঙ্গা সংকট এবং বাংলাদেশ’।

আরও পড়ুন- ‘সংঘাত ছাড়া রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান আসবে না’

বিজ্ঞাপন

অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ন ম মুনিরুজ্জামান বলেন, ‘রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে গ্রহণ করে আমরা অনেক বড় নিদর্শন স্থাপন করোছিলাম। এটা খুবই মানবিক আচরণ ছিল। এর জন্য বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন দেখতে পাচ্ছি যে সমস্যাটার সমাধান না হয়ে দীর্ঘায়িত হচ্ছে যাচ্ছে।’

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বিশ্বের যে ধরনের সক্রিয় ভূমিকা পালন করার প্রয়োজন ছিল, আমরা এখন পর্যন্ত সেই সক্রিয় ভূমিকা দেখতে পাননি বলে মন্তব্য করেন আ ন ম মুনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে তারা মানবিক সহায়তা করেই তাদের সাহায্যের হাতটা সীমিত রেখেছে। আঞ্চলিক যে শক্তিগুলো এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল, তার মধ্যে চীন ও ভারত অন্তর্ভুক্ত ছিল, তারাও এই সমস্যা সমাধানের জন্য এখন পর্যন্ত যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা যথার্থ না। একইসঙ্গে আসিয়ানের যে জোট, তাদের সঙ্গে আমাদের ভালো কূটনৈতিক সম্পর্ক আছে। কিন্তু তারা কেউই এই ইস্যুতে আমাদের সমর্থন দেয়নি।’

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন- ‘মিয়ানমারের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে হবে’

তিনি আরও বলেন, ‘এটাও দুঃখের সঙ্গে বলতে হবে যে দক্ষিণ এশিয়ার জোট সার্ক, এই সার্কের কোনো সদস্যই কিন্তু আমাদের সমর্থন দেয়নি। সার্কের একটি দেশও রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সরাসরি বাংলাদেশকে সমর্থন জানায়নি। অনেক ক্ষেত্রেই সার্কের সদস্যরা প্রত্যক্ষভাবে হলেও মিয়ানমারের পক্ষে থেকেছে।’

বিজ্ঞাপন

‘রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মুখে মুখে অনেকেই বললেও বাস্তবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না’— উল্লেখ করে আ ন ম মুনিরুজ্জামান বলেন, ‘কাজেই দেখা যাচ্ছে যে এই সমস্যা সমাধানে বিশ্বের সব দেশের কাছেই আমরাা সরাসরি সমর্থন লাভে ব্যর্থ হয়েছি। প্রত্যবাসনের জন্য চীনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল তাও বাস্তবায়ন করা যায়নি। রোহিঙ্গা সংকটের সর্বশেষ ঘটনার (২০১৭) তিন বছর অতিক্রম করার পর এই সংকট এখন এমন পর্যায়ে চলে যাচ্ছে যে কেউ এটা নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামাচ্ছে না। কেউ কেউ মুখে কথা বললেও বাস্তবসম্মত কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।’

আরও পড়ুন- রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নতুন বন্ধুরাষ্ট্র খুঁজতে হবে

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক কোর্টে গিয়েছি, সেখানে যে রায় হয়েছে বা অন্তবর্তী যে আদেশ এসেছে, তা বাস্তবায়নের জন্য কোনো আইনি কাঠামো (লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক) নেই। দেখা যাচ্ছে যে কূটনৈতিকভাবে আমাদের যে অবস্থান, আমরা যা পেতে পারতাম বা পাওয়া উচিত ছিল, তা আমরা লাভ করতে পারিনি। এখানে আমাদের কী কূটনৈতিক ব্যর্থতা ছিল নাকি কূটনৈতিক দূর্বলতা ছিল, কেন আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র বা আসিয়ানে আমাদের বন্ধু রাষ্ট্ররা কেউই আমাদের পক্ষে থাকল না, গভীর সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও কেন ভারত সরাসরি আমাদের পক্ষে থাকল না, চীন আমাদের কৌশলগত বন্ধু থাকা সত্ত্বেও কেন বারবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো প্রয়োগ করল— সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে যে কূটনৈতিকভাবে আমাদের যে চালগুলো ছিল, তা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি।’

আরও পড়ুন- ‘রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ১০ বছরের পরিকল্পনা নিয়ে এগুতে হবে’

রোহিঙ্গা সংকটের এই সমস্যা সমাধানে কূটনৈতিক পথকেই একমাত্র পথ বরে উল্লেখ করেন আ ন ম মুনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘অন্য কোনো পথ অবলম্বন করার প্রয়াস আমাদের নাই। অন্য কোনো পথ চিন্তা করাও আমাদের উচিত না। আমাদের এখানে জোর প্রয়োগ করার জন্য কোনো পথ খোলা আছে বলে আমি মনে করি না। যা কিছু চাপ সৃষ্টি করার অবকাশ আছে, তা কূটনৈতিকভাবে, কূটনৈতিক অঙ্গনে হতে পারে। যে কারণে কূটনৈতিকভাবে আমাদের আরও শক্তিশালী অবস্থান নিতে হবে, যা এখন পর্যন্ত আমরা করতে পারিনি। যে কারণে দেখা যাচ্ছে যে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।’

ফাইল ছবি

সারাবাংলা/জেআইএল/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন